পাখির কলরবে মুখরিত ফুড ভিলেজ

তারিকুল হাসান

fb tw
রাত ৪টা ৯ মিনিটি। কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ের হোটেল ফুড ভিলেজ ও রেস্টুরেন্ট চত্বর। এরই মধ্যে দূরপাল্লার যাত্রীদের সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি। গাড়ি থেকে নেমে রেস্তোরাঁর মূল ফটকের সামনে গেলেই কানে আসে পাখির কিচিরমিচির শব্দ। মাথাটা একটু ঘোরাতেই চোখ আটকে যায়, হোটেলের সামনে যাত্রী ছাউনির কাগজফুলের গাছে। এলোমেলো হালকা ডালগুলোতে একটা-দুইটা নয়, শত শত চড়ুই পাখি!
 
লোকালয়ে সুপরিচিত এই পাখিগুলোর কলকাকলিতে যেন মুগ্ধ চারিদিক। কেউ কেউ আবার দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়েই শোনেন চঞ্চল এই চড়ুই পাখিদের কিচিরমিচির গল্প অথবা ঝগড়া, কেউ আবার ছবি তুলে নেন সুন্দর পাখিগুলোর। এক জায়গায় শত শত চড়ুই দেখে পাখিপ্রেমী যাত্রীদের যাত্রায় যোগ হয় নতুন এক মাত্রা। দূর হয় অনেকের ক্লান্তি ও অবসাদ। 
তবে ফুড ভিলেজের যাত্রী ছাউনি এখন যেন চড়ুইদের অভয়াশ্রম। ন্যাশনাল ট্র্যাভেলসের হোটেল চেকার ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘চড়ুই পাখিগুলো শুধু শীতকালে আসে, শীত শেষে আবার চলে যায়। বিকেল ৫টার পর থেকে হাজারো চড়ুই পাখির কিচিরমিচিরে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা শেষে রাত নামলে ধীরে ধীরে থেমে যায় কলরব। আবার ভোরের আগে থেকেই জেগে ওঠে চড়ুইয়ের দলটি।’
এখানকার মানুষ পাখিগুলোকে ভালোবেসে ফেলেছে জানিয়ে হোটেলের যাত্রী ছাউনির পান-সিগারেটের দোকানদার মোশারফ আলী বলেন, ‘প্রতি সন্ধ্যায় চড়ুইগুলোর ঝাঁক বেধে ফিরে আসা দেখতে অনেকে যাত্রী ছাউনির সামনে ভিড় করেন। এখানে পাখিগুলোকে কেউ বিরক্ত করেন না বরং স্থানীয়রাই এগুলোর দেখাশুনা করেন। মাঝে মাঝে বিড়াল এসে পাখিদের আক্রমণ করলে আমরা বিড়ালকে তাড়িয়ে পাখিদের রক্ষা করি।’
চড়ুইয়ের ইংরেজি নাম (Sparrow) স্প্যারো। যেকোনো লোকালয়ের আশেপাশে একটি সুপরিচিত পাখি। এরা জনবসতির মধ্যে থাকতে ভালোবাসে তাই এদের ইংরেজি নাম হাউস স্প্যারো অর্থাৎ ‘গৃহস্থালির চড়াই’।
ছোট আকারের চড়ুই পাখির দৈর্ঘ্য ১৫ সেন্টিমিটার। ওজন মাত্র ২৪ গ্রাম। চড়ুইয়ের স্ত্রী-পুরুষে ভিন্নতা রয়েছে। পুরুষ চড়ুইয়ের মাথার চাঁদি ধূসর, ঘাড় ও চোখে তামাটে ডোরা। পিঠ জলপাই-বাদামি। বুক-পেট ও গাল সাদা, গলা কালো, মোটা ঠোঁট দুটো কালচে। অন্যদিকে স্ত্রী চড়ুই হালকা হলদে-বাদামি। বুক ও পেট বাদামি-ধূসর, ঠোঁট গোলাপি।
পৃথিবীতে মোট ৪৮ প্রজাতির চড়ুই দেখতে পাওয়া যায়। পক্ষীবিজ্ঞান অনুযায়ী এদের পরিবার ১১ ভাগে বিভক্ত। এদের আদি নিবাস ছিল মূলত ইউরেশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ।
পাখি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ গবেষক এনামুল হক এ বিষয়ে সময় নিউজকে বলেন, চড়ুই পাখির দল বেধে গাছে থাকা অস্বাভাবিক নয়। একসঙ্গে থাকলে বিড়াল বা পেঁচার আক্রমণ থেকে নিরাপদে থাকা যায়, যা দল বেধে থাকার অন্যতম প্রধান কারণ। কাছাকাছি হয়তো খাবারের কোনো উৎস আছে, তাই সেখানেই পাখিগুলো অবস্থান নিয়েছে।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop