ksrm

খেলার সময়কেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে আর কাজ করতে চান না সুজন?

খেলার সময় ডেস্ক

fb tw
somoy
দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে পরিচিত নাম খালেদ মাহমুদ সুজন। জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়ক বর্তমানে দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর। প্রধান কোচ না থাকায় দায়িত্বটা একরকম তার কাঁধেই। হাথুরু চলে যাওয়ার পর বেশ উৎসাহের সঙ্গে বাংলাদেশ দলে কোচ হওয়ার স্বপ্নের কথা বলেছিলেন সুজন।
ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে প্রধান কোচ খুঁজে না পাওয়ায় টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের মোড়কে সুজনকেই দেয়া হয় দলের দায়িত্ব। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনতে পারেনি বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ বিস্ফোরক রূপ ধারণ করলেন সুজন।
ক্রিকেট নিয়ে যে পর্যায়ে কাঁদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে তাতে করে আর বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচের দায়িত্বে থাকার ইচ্ছা নেই তার।
যে মাঠে এলিট ক্রিকেটে ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার মতো দৈত্য বধ করেছে টাইগাররা। সেই মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মুদ্রার উল্টো পিঠে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স। তাই টিম ম্যানেজম্যান্টের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে ক্রিকেট আকাশে। সমালোচনার চাপ এক রকম ক্ষোভে পরিণত হয়েছে প্রধান কোচের ভূমিকায় থাকা খালেদ মাহমুদ সুজনের। তাই ভবিষ্যতে আর জাতীয় দলের দায়িত্ব না নেয়ার ঘোষণা দিলেন।
সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি দলের অনুশীলনের ফাঁকে সুজনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো পরের সিরিজেও তার দায়িত্বে থাকার সম্ভাবনা আছে কিনা।
জবাবে নিজের অনাগ্রহের কথা তো জানালেনই, উগরে দিলেন ক্ষোভও।
'নিদিহাস কাপে বোর্ড ঠিক করবে। কারণ বোর্ডই আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। কাজ করব না, এই কথা আমি কখনোই বলতে চাই না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বাঙালি কেউ কাজ করলেই সবচেয়ে বড় সমস্যা। দল হেরে যাওয়ার পরও যে আমি এই দেশে আছি, এটাই বড় কথা। চান্ডিকা যখন প্রথম এলো, আরও বড় বড় কোচ এসেছে, তখনও শুরুতে ফল খারাপ হয়েছে। কিন্তু (তাদের সঙ্গে) এ রকম হয়নি।'
'খারাপ ফলের দায় আমি নিতেই পারি। আমাদের পরিকল্পনায় ভুল থাকতে পারে, আরও কিছু থাকতে পারে। কিন্তু আরও অনেক ঘটনা তো আসে (গণমাধ্যমে)। আমার ওপরও অনেক দায় আসে। এটা আমি বোর্ডকে বলব। ব্যক্তিগতভাবে আমি একটুও আগ্রহী নই (পরবর্তী সিরিজেও চালিয়ে যেতে)। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে আমার কাজ করতে ইচ্ছেই করছে না। নোংরা লাগছে জায়গাটা, সত্যি কথা বলতে। আমি সবসময় বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছি। এতে আমার কোনো স্বার্থ নেই। ক্রিকেট বোর্ডে থাকাটাও আমার কোনো স্বার্থের ব্যাপার না, কিছুই না। আমি আর আগ্রহী নই থাকতে।'
নোংরা জায়গা বলতে কি বুঝিয়েছেন, জনতে চাইলে গণমাধ্যমকে একহাত নেন সুজন।
'অন্য কিছু না। বলার কিছু নেই। আপনারাও জানেন, আমরাও জানি। নোংরা বলতে গেলে যে, মিডিয়ায় যেভাবে বলা হয়। আমাদের ক্রিকেটের একটা বড় অন্তরায় মিডিয়াও। আমরা এত ‘ফিশি’ হয়ে যাচ্ছি আস্তে আস্তে। মিডিয়ার কারণে আমাদের ক্রিকেট আটকে আছে কিনা, সেটাও একটা প্রশ্ন এখন আমার কাছে।'
'মিডিয়ায় এত বেশি আলোচনা হচ্ছে, আমার এটা মনে হচ্ছে, এত বছর ধরে ক্রিকেটে আছি, এত গসিপিং, এত কিছু… ঠিক আছে, এসব হবেই, ভালো-খারাপ আসবেই। সবকিছুই আসবে। কিন্তু কিছু কিছু জিনিস নেতিবাচক হয়ে যাচ্ছে আমাদের ক্রিকেটের জন্য।'
'আমার পিছে যদি কেউ লেগে থাকে আমি ভালো করলেও কোনদিনও ভালো হবে না। আমি সুজন এতকিছু করছি কোনো দিন শুনি নাই ভালো কিছু করছি। খারাপই করছি। সোশাল মিডিয়ার বলেন, মিডিয়া বলেন। আমি এও শুনেছি রাস্তায় গেলে আমাকে মারও খেতে হতে পারে। ক্রিকেট খেলার জন্য রাস্তায় গিয়ে মার খেতে হয় এটা খুবই অকওয়ার্ড একটা ব্যাপার।'
‘আমি হয়তো বা বাংলাদেশর জন্য ভালো কিছু করছি না। যদি ভালো কিছু না করি তাহলে এখানে থাকা দরকার কি? আমি তো এখানে কোনো স্বার্থের জন্য আসিনি। আমার তো এখানে কোনো কিছু দরকার নেই। আমি যা আছি আমার জীবনে খুব ভালো আছি। খুবই হ্যাপি। আমি যে চাকরি করি, যতটুকু পাই, যেভাবে চলি, কোয়াইট হ্যাপি।’
মিরপুর টেস্টে মোসাদ্দেকের বাদ পড়া জন্ম দিয়েছিলো অনেক প্রশ্নের। টেস্টের সময় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ছিলো আবাহনীর ম্যাচ। মোসাদ্দেক খেলেন আবাহনীতে। এই ক্লাবেরও কোচ খালেদ মাহমুদ। মোসাদ্দেককে আবাহনীর ম্যাচে পেতেই টেস্ট একাদশে রাখা হয়নি এমন অভিযোগও তুলেছিলেন কেউ কেউ।
এই সমালোচনা নিয়েই গণমাধ্যমের ওপর সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ সুজনের।
'আমার সিদ্ধান্ত নয়। আমি তো গড নই। আমি একটা খালেদ মাহমুদ সুজন। সামান্য একজন মানুষ। আমার সামর্থ্যও অনেক কম। আমি এখানে দাঁড়িয়ে কাজ করছি, মানুষ সেটা স্বীকার করুক বা না করুক। আমার মেধা খারাপ হতে পারে, টেকনিক্যালি খারাপ হতে পারি। হয়ত জানি না অনেক কিছু। কিন্তু অন্য বিষয়ে যখন কথা হয়, তখন আমাকে তা অনেক কষ্ট দেয়।'
'যখন বলা হয় আমি আবাহনীর প্রধান কোচ, মোসাদ্দেককে খেলাইনি আবাহনীতে খেলানোর জন্য। যখন জাতীয় স্বার্থের কথা বলে কেউ এই ধরনের কথা বলে, তখন সত্যিই কষ্ট পাই। কারণ, আমি মনে করি না বাংলাদেশ দলের চেয়ে বেশি আবাহনী বা অন্য কিছু আমাকে ছুঁতে  পারে। পারবেও না, ছুঁতে পারেও নাই। এসব কথা যখন বলা হয়, তখন সত্যিই খারাপ লাগে। মনে হয় যে এত বছর ক্রিকেটে থেকে কী লাভ হলো! মোসাদ্দেক ও আবাহনী যদি বাংলাদেশ দলের ম্যাচ হারার কারণ হয়ে যায়, তখন তা আসলেই কঠিন।'
কথা বলার এক পর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, 'আমারও ক্রিকেট জ্ঞান আছে। আমিও ক্রিকেট খেলেছি অনেক বছর। ৮৩ সালে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিলাম। আজকে মনে হয় ২০১৮। অনেক বছর হয়ে গেছে। চুলও পেকে গেছে। কে পারে, কে পারে না। কি দরকার, কখন কাকে দরকার সেটা আমরাও বুঝি আসলে।'
সুজনের মতে, ঢাকা টেস্টে ব্যাটসম্যানদের আন্তরিকতার ঘাটতি ছিলো অনেক। ক্রিকেটারদের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
'প্রথম কথা হলো- ব্যাপারটি কোচিং নিয়ে নয়, মানসিকতা নিয়ে। কোচিং বাংলাদেশ দলে যা হতো, এবার তার চেয়ে ভালো হয়েছে। কিন্তু কোচরা তো মাঠে খেলবে না। মাঠে খেলবে ক্রিকেটাররা। এই ছেলেরাই আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে, এই ছেলেরাই এবার ম্যাচ হারিয়েছে।'
তিনি বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলিং আরও ভালো ছিল, ভালো স্পিনার ছিল। ইংল্যান্ডেরও স্পিনার খারাপ ছিল না। তখন আমরা টার্নিং উইকেটে ভালো করেছি। এই সিরিজে চট্টগ্রামে নিষ্প্রাণ উইকেট ছিল, আমরা কত ভালো করেছি? ওই ম্যাচ হারতেও পারতাম। সাকিব মানের বোলার তো আমাদের ছিল না।'
খালেদ মাহমুদের মতে, জয়ের সুযোগ আমাদের ছিলো তবে মাঠে একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করার কারণেই হারতে হয়েছে।
'শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জিতলে আমরা এভাবেই জিততে পারতাম। আমরা সুযোগ সৃষ্টি করেছিলাম। প্রথম ইনিংসে যখন ৬ উইকেটে ১১০ ছিল ওদের রান, তখন দিলরুয়ান পেরেরার ক্যাচ পড়ল, তখন হয়ত ওদেরকে ১৪০ রানে অলআউট করতে পারতাম। তার পর যদি মুমিনুল রান আউট না হতো, আমরা ওভাবে ব্যাট না করে যদি ২২০ রানও করতাম, তাহলে ওই ৮০ রানের লিডই আমাদের ম্যাচ জেতাতো। সেটা হয়নি।'
এ সময় সুজন দলের ক্রিকেটারদের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
'এমন কি আছে, শ্রীলঙ্কার সাথে আমরা খেলতে পারবো না? ব্যাটিং লাইনআপ যদি দেখেন, কুশল মেন্ডিস, ধনঞ্জয়, এরা কে কয়টা টেস্ট ম্যাচ খেলেছে? আমাদের স্পিনার নেই। বলতে পারেন আমাদের সাকিব নেই। আমাদের রাজ্জাক ৫০০ উইকেট পাওয়া ফার্স্ট ক্লাস বোলার। কিভাবে বলবো অভিজ্ঞতা নেই? তাইজুলকে যদি দেখেন। আকিলা ফার্স্ট টেস্ট ম্যাচ খেলে ৫ উইকেট নিলো। তাইজুল তো আরও বেশি খেলছে। মিরাজ ইংল্যান্ডের সাথে ১৯ উইকেট নিয়েছে। আমরা কিভাবে বলবো আমাদের অভিজ্ঞতা নেই। আমরা কেউ এই জিনিসগুলো চিন্তা করি না। শ্রীলঙ্কা কী গড? ওদের প্লেয়াররা কী গড? ওরা কি স্টিভ স্মিথ? বা এরকম কিছু যে ২শ’ টেস্ট ম্যাচ খেলা প্লেয়ার। কেন এগুলো চিন্তা করি না আমাদের প্লেয়াররাই ভুল খেলেছে।'
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে হারের পর ব্যাপক আলোচনা হয় মিরপুরের উইকেট নিয়ে। সমালোচনা হয় কিউরেটর গামিনি ডি সিলভাকে নিয়েও। তখন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছিলেন, নিজেদের চাওয়া মতো উইকেট পায়নি দল। এই প্রসঙ্গটাও টেনে আনে খালেদ মাহমুদ সুজন।
'ওয়ানডেতেও উইকেট নিয়ে কথা উঠেছে। ২২০ করতে (ফাইনালে) মনে হয় না উইকেট লাগে। আমরা পারিনি। টেস্টে অনেকে বলছে ঘূর্ণি উইকেটে খেলেছি কেন। ভুলে গেছি, টার্নিং উইকেটে আমরা বিশ্বমানের স্পিনার লায়নের বিপক্ষে খেলেছি।'
'প্রথম ইনিংসে দেখেন, শুরুতে লাকমল উইকেট তুলে নিয়েছে, কোনো স্পিনার নেয়নি। কোন বলে কিভাবে আউট হয়েছে, ওদের টেলএন্ডারদের ব্যাটিং, মিরাজের ব্যাটিংয়ের ময়নাতদন্ত করলে অনেক কিছু বের হবে। সেটা বের করতেও চাই না। উইকেটকে দোষ দেওয়ার কিছু নেই। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা ভালো খেলতে পারিনি।'
উইকেটের সমালোচনার বিষয়ে সুজন আরও বলেন, 'ক্যাচ ছাড়াটা উইকেটের দোষ না। মুমিনুলের রান আউট উইকেটের দোষ না। অন্যরা যেভাবে আউট হয়েছে...যদি উইকেটকে দোষ দিতে হয়, আমাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠ। আমরা আমাদের কাজটা করতে পারিনি। আমরা ভালো খেলিনি। জুজুর ভয়, উইকেট নিয়ে ভয় বা নেতিবাচক চিন্তা, যেটাই হোক আমাদের মধ্যে কাজ করেছে। উইকেট একটা অজুহাত মাত্র।'
উইকেটের প্রশ্নে  কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার পক্ষেই ব্যাট ধরেন সুজন।
'গামিনিকে নিয়ে অনেক কথা হয়। ও তো চাকরি করে। ওকে বলা হয়েছে বোর্ড থেকে, ও সেভাবেই উইকেট বানিয়েছে। ওর দোষ কি? ওর চাকরি খাওয়া দরকার হয়ে গেছে। কেন আমরা ওর চাকরির পেছনে লাগলাম? উনি কি এত বছর বাংলাদেশের জন্য ভাল কাজ করেনি? চান্দিকা যেভাবে উইকেট চেয়েছে, সেভাবে বানিয়ে দেননি?'
'এই উইকেট আমরা চেয়েছি, গামিনি ইচ্ছে করে বানিয়ে দেয় নাই। সেই কথাগুলাই আমার কাছে খারাপ লাগে। আমার কথা হলো ওর ব্যাপারটাও দেখতে হবে। ও একটা বিদেশি মানুষ বলে ওর ওপর চাপিয়ে দিয়ে বললাম ওকে শুলে চড়াও, ওকে মেরে ফেলো, এটা ঠিক না। আমরা কয়টা কিউরেটর তৈরি করতে পেরেছি?'
উইকেটকে দায় না দিয়ে খালেদ মাহমুদ বললেন, প্রয়োজন আত্মজিজ্ঞাসার। এসময় তিনি রোশাস সিলভার উদাহরণ টেনে আনেন।
সুজন বলেন, 'রোশেন সিলভা তৃতীয় টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। সে এত ভাল খেলল কিভাবে? ওর কাছে উইকেটটা কঠিন না? সে লড়াই করেছে। সেই লড়াই তো আমি দেখিনি আমাদের। আমি তো দেখিনি অনেকক্ষণ লড়াই করে দারুণ ডেলিভারিতে আউট হয়েছে কেউ। এমন তো হয় নাই। আমরা হেরেছি, একটাই কারণ; আমরা ভালো ক্রিকেট খেলিনি।'

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop