বিনোদনের সময়একটি মৃত্যু, অনেক প্রশ্ন!

বিনোদন সময় ডেস্ক

fb tw
somoy
একটা মৃত্যু, কিন্তু প্রশ্ন অনেক। বলিউড সেনসেশন শ্রীদেবী মারা গেছেন গত শনিবার রাতে। প্রথমে জানা গেলো, মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক। কিন্তু দু’দিন পর অর্থাৎ সোমবার বিকালে দুবাই পুলিশ বললো, হার্ট অ্যাটাক নয়, পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর।
 
কোন পানি? দুবাইয়ের জুমেইরাহ এমিরেটস টাওয়ার্স নামে যে হোটেলে শ্রীদেবী মৃত্যুর আগে কয়েক দিন ধরে ছিলেন, সেই হোটেলের বাথরুমের বাথটাবের পানিতে। বাথটাবের উচ্চতা কত? পানি পুরোপুরি ভরলেও উচ্চতা দেড় থেকে দুই ফুটের বেশি হবার কথা নয়! অথচ তাতেই কী করে ডুবে গেলেন পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি উচ্চতার ওই অভিনেত্রী? প্রশ্নটা অনেকের মনেই ঘুরছে।
দুবাই পুলিশ জানিয়েছে, অজ্ঞান অবস্থায় পানিতে ডুবে গিয়েছিলেন তিনি। এখানে প্রশ্ন, অচৈতন্য হলেন কিভাবে? মেলেনি এ প্রশ্নের জবাবও। বিস্ময়করভাবে গত দু'দিন ধরে কারণ হিসেবে বলা ‘হার্ট অ্যাটাক’ শব্দটাও আর শোনা যাচ্ছে না। তকে কি হার্ট অ্যাটাক হয়নি? জবাব মেলেনি তারও। কারণ, দুবাই পুলিশ বা সে দেশের গণমাধ্যমর দেয়া এদিনের তথ্যে হার্ট অ্যাটাকের কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে অচৈতন্য হয়েই পানিতে ডুবে যাওয়ার কথা।
প্রশ্ন আছে শ্রীদেবীর স্বামী বনি কাপুরের ভূমিকা নিয়েও। দুবাই ভিত্তিক সংবাদপত্র ‘খালিজ টাইমস’ প্রথমে জানিয়েছিলো, বনি ওইসময় হোটেলে শ্রীদেবীর ঘরেই ছিলেন। শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি মুম্বাই থেকে দুবাই পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি যান শ্রীদেবীর হোটেলে। স্ত্রীর সঙ্গে ১৫ মিনিটের মতো আড্ডাও দেন, প্রস্তাব দেন ডিনারে যাবার। তাতে রাজিও হন শ্রীদেবী। আর এজন্যই তৈরি হতে গিয়েছিলেন বাথরুমে। কিন্তু আর ফেরেননি। অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়। তখন বনি বাথরুমের দরজা ভেঙে স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। অচৈতন্য অবস্থায় শ্রীদেবী নাকি বাথটাবের ভিতরেই পড়ে ছিলেন। ঘরে এনে স্ত্রীর সংজ্ঞা ফেরানোর নানা চেষ্টা করেন বনি। কিন্তু, কোনও কাজ হয়নি। পরে এক বন্ধুকে ডেকে স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা শ্রীদেবীকে মৃত বলে জানিয়ে দেন।
এরপর কাপুর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, হার্ট অ্যাটাকেই মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর।
আবার অন্য একটা সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার বলছে, রাত সাড়ে ১০টায় রুম সার্ভিসে ফোন করে রুমে পানি দিতে বলেছিলেন শ্রীদেবী। মিনিট ১৫ পর হোটেলের এক কর্মী এসে ঘরে তার কোনও সাড়া পাচ্ছিলেন না। অনেকবার ডোর বেল বাজানোর পরও যখন দরজা খোলেননি তখন হোটেল কর্তৃপক্ষ ভিতর থেকে বন্ধ থাকা দরজা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। ঘরে ঢুকে তাঁরা দেখেন, শ্রীদেবী বাথটাবে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছেন। তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। এখানে প্রশ্ন, তাহলে বনি সেই সময় কোথায় ছিলেন?
মরদেহের ময়নাতদন্ত এবং ফরেন্সিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, অজ্ঞান অবস্থায় জলে ডুবে মৃত্যু কথা। তবে অজ্ঞান হলেন কিভাবে? একটা সময় জানা গেলো, ময়নাতদন্তে মৃতের দেহে অ্যালকোহলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ডেথ সার্টিফিকেটে তাঁর অচৈতন্য হয়ে পড়ার কথা থাকলেও অ্যালকোহলের কারণেই তা হয়েছিলো কি না সে ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি।
উঠছে আরও একটি প্রশ্ন। ভাগ্নের বিয়ের পর মেয়ে খুশিকে নিয়ে মুম্বাই ফিরে আসেন বনি কাপুর। দুবাই ফিরে যান দু’দিন পর। ওই দু’দিন একাকী হোটেলেই ছিলেন শ্রীদেবী। এক বারের জন্যও রুমের বাইরে দেখা যায়নি তাকে। কেন? তবে কি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন অভিনেত্রী? সে কারণেই তাঁকে বাইরে দেখা যাচ্ছিল না? তিনি কি অবসাদ কাটাতে ওষুধ খেতেন? জানা যায়নি তাও।
ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের বরাতে আনন্দবাজার বলছে, রিপোর্টে যা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে কোথাও বলা হয়নি, শ্রীদেবীর শরীরে বাইরে থেকে কোনও আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। বাথরুমের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করা ছিল। তাই খুন বলা যাচ্ছে না। কোনও ভারী জিনিস দেহে চাপিয়ে শ্রীদেবী বাথটাবে ডুবে আত্মহত্যা করেছেন, এমন প্রমাণও পাননি দুবাইয়ের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা।
শ্রীদেবীর ক্ষেত্রে ডেথ সার্টিফিকেট হাতে পাবার পর দুবাই পুলিশ গোটা ঘটনাটাই সরকারি কৌঁসুলির হাতে সমর্পণ করেছে। শোনা যাচ্ছে বনি কাপুরকে দুবাই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ওই হোটেলেও গেছে তারা। সিল করে দিয়েছে শ্রীদেবীর সেই ঘর।
নানা প্রশ্নের উত্তর দুবাই পুলিশও খুঁজছে। তাহলে কি শ্রীদেবীর এই মৃত্যুর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য?
সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

আরও পড়ুন

কানে ইয়ারফোন, ট্রেনে কাটা পড়লো ৬ বন্ধুস্টুডিওতেই ঝগড়া শুরু করে দিলেন দুই সঞ্চালক (ভিডিও)

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop