পশ্চিমবঙ্গ গিটার বাদক নয়, গায়কই আমার আসল পরিচয়

সুব্রত আচার্য

fb tw
উইকিপিডিয়ায় দুই রকম তথ্য পাওয়া যায় কবীর সুমনের জন্মদিন সম্পর্কে। সত্তর পেরিয়েও যদিও সুমন মনে-প্রাণে এখনো তরুণ। তবুও জন্মদিনের দুই রকম তারিখ হওয়ার পেছনে মধুর একটা ব্যাখ্যার কথা  সময়নিউজ.টিভির কাছে জানালেন।  
সুমন বললেন, 'আমার পাসপোর্টে বা ভোটার আইডিকার্ডে লেখা আছে ১৯৫০ সালে। আমার বাবা-বা ওই তারিখটা দিয়েছিলেন। কিন্তু আমার আসলে জন্ম ১৯৪৯ সালে। তখন অনেকেই বাবা-মাই করতেন কি, ছেলে-মেয়ে যাতে আরও এক বছর বেশি চাকরি করতে পারেন। সেই জন্য জন্ম এক বছর বয়স কমিয়ে দিতেন।
আক্ষেপও শোনা গেল এই গায়কের কণ্ঠে। বললেন; গান করি কিন্তু বাঙালি তার বাজনাকেই শুধু ছেঁকে নেন।
কবীর সুমন বললেন,  'আমি সঙ্গীত শিল্পী। আমি দেখেছি, বিশেষ করে বাংলা যাদের ভাষা; তারা কেন জানিনা আমার গানটা একেবারে ছেঁকে নেন, পরমহংসের মতো। গান-বাজনা করি। কিন্তু সকলেই কেন জানি শুধু বাজনাটাই দেখেন।
তার ভাষায়, সুমন শুনলেই না, কেমন জানি একটা গিটার, গিটার ভাব মনে হয় তাদের কাছে। গলাটা যেন অন্য লোকের, পিতৃপুরুষ দিয়েছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে কবীর সুমন আরো জানালেন, আমি পলিটিক্যাল লোক। আমার অনেক পলিটিক্যাল গান আছে। আমি চেয়েছি, ওই গানটা আমি রাস্তায় নেমেই গাইবো। তবে  রাস্তায় নেমে কি করে গাইবো- হারমনিয়ম নিয়ে তো আর তা সম্ভব নয় ! তাই আমি এক ইটালিয়ান গুরুর কাছে গিটার বাজানো শিখি। সেটাও ৩৭ বছর বয়সে। ওই বয়সে কেউ গিটার শিল্পী হতে পারেন না।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, গিটারটা শিখলাম কেন তবে। আসলে, একমাত্র গিটার যন্ত্রটা আমাদের দোতরায় যেমন ছন্দ আর সুর একসঙ্গে পাওয়া যায়। কিন্তু কড ধরা যায় না। তবে গিটারের কড ধরা যায়। এই জন্যই আমার গিটার শেখা। গিটারের আর কোনও গুরুত্ব নেই আমার কাছে।
শাহবাগ থেকে রোহিঙ্গা ইস্যু- কবীর সুমনের গান লেখা এগিয়ে সবার আগে- এই প্রসঙ্গে কবীর সুমন বললেন,
'এটা একদিকে সঙ্গীতের। অন্যদিকের ব্যক্তিগত সামাজিক দিকও বলতে পারেন।
ক্ষুদিরাম বসুর মাত্র ষলো-সতেরো বছর বয়সে ফাঁসি হলও। ভেবে দেখুন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা কাজী নজরুল ইসলাম তাকে নিয়ে কেউই কোনও গান লেখেননি। তাকে নিয়ে কারা লিখেছেন, গেয়েছেন; গ্রামের সাধারণ মানুষ।
সুমনের ভাষায়, রোহিঙ্গা সমস্যা রাষ্ট্রীয় সয়তানি। এটা প্রবল অন্যায়। অসহায় একটা জনগোষ্ঠীর ওপর অন্যায় করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার যা করেছে সেটা অতুলনীয়; চমৎকার।
ভারত সরকার যেমন পজিশন নিয়েছে; সেটাও অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং দু:খজনক। একজন ভারতীয় হিসাবে আমার নিজেরও লজ্জা করছে। এটা তো কোনও দেশের বিষয় নয়; এটা মানুষের বিষয়। এটা মানব জাতির বিষয়'।
১৯৯৬ এবং ১৯৯৮ সালে দুই বার ঢাকায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের জন্য টাকা তুলে দিয়েছিলেন কবীর সুমন। কবীর সুমন অভিযোগ করে বললেন, তাকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার করা হয়েছে। আর সেই অভিমানে আজও ঢাকা যাননি তিনি। আগামীতেও যাবেন কিনা সেটা নিয়েও সন্দেহ আছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে, সময়নিউজ.টিভির কাছে কবীর সুমন নিজেই স্বীকার করলেন, তিনি রোজ প্রেমে পড়েন। অতিতেও পড়েছেন এবং আগামীতেও পরবেন।  
 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop