পশ্চিমবঙ্গস্বামী ভারতীয়, স্ত্রীর বাংলাদেশি পাসপোর্ট এই অপরাধে সীমান্তে ছয় ঘণ্টা আটক করে জেরা অন্তঃসত্ত্বাকে

কলকাতা অফিস

fb tw
বাংলাদেশি পাসপোর্ট ধারী এক অন্ত:সত্বাকে গৃহবধূকে পেট্টাপোল সীমান্তে জেরা করার নামে প্রায় ছয় ঘন্টা দাঁড় করিয়ে রাখল ভারতীয় অভিবাসন দফতরের কর্মকর্তারা। এতে অন্তঃসত্ত্বা ওই গৃহবধূর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুত্বর অসুস্থ হয়েও পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেখেই গৃহবধূর স্বামী পেট্টাপোল থানায় ফোনে অভিযোগ জানান।  ফোন পেয়েই পুলিশ অসুস্থ গৃহবধূকে দ্রুত গিয়ে উদ্ধার করে এবং স্থানীয় বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে।
যদিও রবিবার কিছুটা সুস্থ হলে বালিগঞ্জের তার স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশি পাসপোর্ট ধারী ওই গৃহবধূকে।
অর্পিতা পাল নামের ওই বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী স্বামী ভারতীয় নাগরিক। ভারতীয় নাগরিকের স্ত্রীর পাসপোর্ট বাংলাদেশি- এই কারণেই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারাও তাদের জেরার নামে রোদে দাঁড় করিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ করেন স্বামী আনন্দ দাশগুপ্ত। একই অভিযোগ ছিল ভুক্তভোগী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী গৃহবধূ অর্পিতা পালেরও।
আনন্দ দাশগুপ্ত সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, আসালে আমাদের অপরাধ হচ্ছে আমার ভারতীয় পাসপোর্ট কিন্তু আমার স্ত্রীর বাংলাদেশি পাসপোর্ট। এটাই যেন মহাভারত অশুদ্ধ হওয়ার মতো অপরাধ করেছি আমরা। আমার স্ত্রী বিবাহসূত্রে এখন ভারতীয়। ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে সময় লাগে। এর জন্য যাবতীয় কাগজপত্র তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এভাবেই আমরা বৈধভাবে বাংলাদেশে কয়েকবার গিয়েছি। এর আগে আমরা সব সময় আকাশ পথে ঢাকায় গিয়েছিলাম। কিন্তু এবারই শখ করে বাসে যাবো বলে আমরা ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে কলকাতার রওনা হই। কিন্তু আমাদের সঙ্গে এই রকম হবে, সেটা কোনও দিন ভাবতে পারিনি। আমি নিজে একজন ভারতীয়, আমার বাড়িতে পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।
এদিকে ঘটনা দায় অস্বীকার করেছে পেট্টাপোলের অভিবাসন দফতর । তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি ছিল না। গৃহবধূর পাসপোর্ট প্রায় ১০০ শতাংশই ডেমেজ ছিল। আর সে কারণে প্রয়োজনীয় সিল দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এর জন্য তাদের দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। যদিও পেট্টাপোল থানার পুলিশ বলছে, গোটা ঘটনার তদন্ত করে তারা মামলা নথিভুক্ত করবে।
পেট্টাপোল সীমান্তের ইমিগ্রেশনের বাংলাদেশি নাগরিকদের হেনস্থার অভিযোগও যদিও আগেও বহুবার হয়েছে। তবে এবার এই ঘটনা নিয়ে কলকাতার গণমাধ্যম গুলো সরব ভূমিকা নিয়েছে। রবিবার প্রায় প্রত্যেক খবরের কাগজ-টেলিভিশন চ্যানেল এই খবর প্রকাশ করে।
এদিকে আনন্দ দাশগুপ্তের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২১ এপ্রিল শনিবার দুপুরে শশুর বাড়ি বাংলাদেশ থেকে স্ত্রী সহ কলকাতার বালিগঞ্জের ফিরছিলেন। কাস্টমস শেষ করে দীর্ঘ লাইন দিয়ে ইমিগ্রেশনের চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট দুটোই জব্দ করে নেওয়া হয়। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা স্বপন দফাদার তাদের প্রায় ছয় ঘণ্টা রোদে দাঁড় করিয়ে রাখেন।
গৃহবধূ অন্ত:সত্ত্বা বলার পরও তাকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখায়। ফলে শুরু হয় তার রক্তক্ষরণ। স্বামীর চোখে পড়লে পেট্টাপোল থানায় খবর দেন স্বামী আনন্দ দাশ। পুলিশ গিয়ে গৃহবধূকে উদ্ধার করে এবং বনগাঁ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ওই গৃহবধূকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে।
তবে অভিযুক্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা স্বপন দফাদার এই ঘটনায় তাদের কোনও দোষ নেই। ইমিগ্রেশনের নিয়ম অনুযায়ী তাদের সেখানে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। তাছাড়াও ওই মহিলা যে অন্তঃসত্ত্বা সেটাও তাদের জানানো হয়নি।
যদিও অন্ত:সত্ত্বা গৃহবধূ অর্পিতা পাল জানিয়েছেন, তিনি বহুবার তার শারীরিক অবস্থার কথা বলেছেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তা কোনও কথা শোনেননি। বরং এক পর্যায়ের তার কাছ থেকে টাকাও দাবি করা হয়।
আনন্দ দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, তার পরিবার অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত পরিবার। এবং তাদের পরিবারের বহু পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। বাংলাদেশের তার শশুর বাড়ির প্রভাবশালী পরিবার। এক বছর আগে তাদের বিয়েতে বাংলাদেশের বহু মন্ত্রী সাংসদ আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop