পশ্চিমবঙ্গড.মুনতাসীর মামুনের দাবি, দেশ ভাগের জন্য নেহেরুও দায়ি

কলকাতা অফিস

fb tw
অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেছেন, দেশভাগের জন্য শুধু মুসলিম লীগ এককভাবে দায়ি নয়। দায়ি কংগ্রেসও। দেশভাগের জন্য শুধু মুসলিম লীগকে দায়ি করার যে তত্বটি চালু আছে সেটা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠছে বলে দাবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বর্ষীয়ান শিক্ষকের।  
শনিবার কলকাতায় ড. বেণী মাধব বড়ুয়া পুরস্কার পান গবেষক, লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন। ওই অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এই কথা বলেন।
এর আগে এদিন সন্ধ্যায় কলকাতার বউবাজার এলাকার বৌদ্ধধর্মাঙ্কুর সভাগৃহে সাড়ম্বর আয়োজনের মধ্যদিয়ে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় বৌদ্ধধর্মাঙ্কুর সভার সদস্য, অনুগামী যেমন উপস্থিত ছিলেন। তেমন ছিলেন কলকাতার বহু বিশিষ্ট-জন, শিক্ষানুরাগীরাও।
ড. বেণী মাধব বড়ুয়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যাপক মামুন বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ বুদ্ধিজীবী এবং সাংবাদিক ১৪ দলের সমর্থক অর্থাৎ আওয়ামী লীগ বা বামদের সমর্থক। কিন্তু ব্যবধানটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ যদি ধর্মীয় কোনও দিককে প্রশ্রয় দেয়, বা জোট প্রশ্রয় দেয় তবে বুদ্ধিজীবীরা কিন্তু এর বিরুদ্ধাচরণ করেন। এখানেই হচ্ছে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের বিশিষ্ট বা স্বকীয়তা। আর সে কারণে ধর্ম এখনও আমাদের গ্রাস করতে পারেনি। আর হেফাজতও কিছু করতে পারেনি।  অধ্যাপক মামুনের ভাষায়, হ্যাঁ রাষ্ট্র তাদের প্রশয় দিচ্ছে। আর আমরাও কিন্তু রুখে দাঁড়াচ্ছি।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা যদি সত্যিই ধর্ম পালন করি। তাহলে কিন্তু পৃথিবী জুড়ে এতো বিবাদ থাকার কথা নয়। আমরা ধর্মের বিভিন্ন ব্যাখ্যা নিয়ে লড়াই করছি। ধর্মের মুল কথা হচ্ছে, মানুষের কল্যাণ। এখানে ইসলাম হোক, হিন্দু হোক কিংবা খ্রিষ্টান হোক।
এসময় তিনি জালাল উদ্দিন রুমির একটি লাইন উদ্ধৃত করে বলেন, সব ধর্মেই প্রেম আছে। কিন্তু প্রেমের কোনও ধর্ম নেই। এটাই যদি আমরা মানি, তবে মানব কল্যাণের পথে এগিয়ে যেতে পারবো আমরা'।
দেশ ভাগের তত্ব নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্যও করেন অধ্যাপক ড. মামুন। বলেন, দেশভাগের একটা তত্ব দেওয়া হতো। সেটা এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। ১৯৪৭ দেশভাগের জন্য প্রধানত মুসলিম লীগকেই দায়ি করা হয়। কারণ তারা ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ চেয়েছিল। কিন্তু এখন প্রমাণিত হচ্ছে যে, এর জন্য কংগ্রেসও সমান ভাবে দায়ি। নেহেরু যেমন দায়ি, তেমন জিন্নাহও। কোনও এক পক্ষকে দায়ি করলে হবে না। সামগ্রিক পরিপ্রেক্ষিতে দেখাটাই বিবেচ্য।
এছাড়া এদিন একই সভাগৃহে আয়োজিত পৃথক আরও এক সভায় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে যৌথভাবে বিদ্যাসাগরের দু’শতবর্ষ এবং গান্ধীজীর ১৫০ বছর উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই সভায় নোয়াখালীর গান্ধী ট্রাস্টের পরিচালক নবকুমার রাহা, কর্মকর্তা তন্দ্রা বড়ুয়া ছাড়াও বিদ্যাসাগরের দুই-শততম বর্ষ নন্দনকানন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রাণতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়, গান্ধী শান্তি প্রতিষ্ঠা-এর প্রধান চন্দন পাল, হেমেন্দু বিকাশ চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস সাত্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop