বিনোদনের সময়প্রসেনজিৎ বললেন ফেসবুকের প্রেমে কোনও গোপনীয়তা নেই, দারুণ লাগে

সুব্রত আচার্য

fb tw
অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, ফেসবুকের প্রেমে কোনও গোপনীয়তা নেই। আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করায় এতে স্বচ্ছতাই এসেছে। তার ছেলে যদি তার কোনও মেয়ে বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে যায়, কিংবা কোনও রেস্তোরায় যায় তবে সেই ছবিও মুহূর্তে তুলে তার কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এখানে কোনও গোপনীয়তা নেই। এটাই তার কাছে ভাল লাগার কারণ।
সম্প্রতি সময়নিউজ. টিভির সঙ্গে কথা বলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় এই অভিনেতা। কথা হয় তার নতুন ছবি দৃষ্টিকোণ নিয়ে। কথা হয়, ঋতু-বুম্বাই জুটি নিয়ে। বলেন, দৃষ্টিকোণের গান নিয়ে। বলেন, ছবির গল্প নিয়ে, মেকআপ নিয়ে। শক্তিশালী এই অভিনেতার আত্মশক্তির জায়গা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন সময়নিউজ.টিভির সঙ্গে।
আসলে, প্রাক্তনের পর দৃষ্টিকোণ। প্রসেজনিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আবারও জুটি বেঁধেছেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেন। সব মিলিয়ে এই জুটির ঝুলিতে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ৪৮টি। আর মাত্র দুটি। তবে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকাবেন এই তারকা জুটি। বাংলা সিনেমা ইতিহাসে এর মধ্যদিয়ে নামও লেখাবেন দু’জন।  
প্রাক্তনের সাফল্যের পর স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ছিল, প্রায় ১৪ বছর পর পরপর এই জুটির দ্বিতীয় ছবিটিও কি সাফল্য পাবে- যদিও এই প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার ভাবে আজ ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বলা সম্ভব নয়। কেননা, মাত্র দুদিন আগেই ২৭ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ’দৃষ্টিকোণ’।
তবে গত কয়েক দিনের দর্শক প্রতিক্রিয়া কিন্তু খুব পজিটিভ। অনন্য প্রেমের গল্প এটি। একই সম্পর্ক, একেক জনের কাছে একেক রকম। সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ আলাদা। এই দৃষ্টিকোণের কারণে সম্পর্ক গুলোর মধ্যে কখনো প্রেম, কখনো বিচ্ছেদ কখনো বিরহ কিংবা কখনো শিরোনামহীন হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
শিব প্রসাদ-নন্দিতার প্রাক্তনের গল্পের মধ্যেও সম্পর্কটাকেই গুরুত্ব পেতে দেখা গিয়েছিল। সে জন্যই দর্শকদের হৃদয়ে গেঁথে রয়েছে ওই ছবিটি।
আর দৃষ্টিকোণ-ও হয়তো থেকে যাবে একই ভাবে। দর্শকদের একেক দৃষ্টিকোণ থেকে।
অন্তত এমটাই আশা প্রকাশ করেছেন আইনজীবী জিয়ন মিত্রের ভূমিকায় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, প্রাক্তনের পর এই ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছি আমরা। আমার ধারণা, এই ছবিটিও দর্শকদের অসম্ভব ভাল লাগবে।
১৪ বছর পর জুটি বেধে ছবি করলেও দর্শকরা ১৪ বছর আগের মতোই দুজনকে একই রকমভাবে গ্রহণ করবেন। কেননা, এই বছর গুলোতে দু’জন দুজনের মতো করেই বেড়ে উঠেছেন। দর্শকদের মনেও জায়গা করে নিয়েছেন। নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। এও বললেন, প্রসেনজিৎ।
অনুপম রায়ের নির্দেশনার সঙ্গীত নিয়েও দৃষ্টিকোণের প্রশংসাই করলেন জিয়ন মিত্র। তার ভাষায়, এখন আর কেউ কাউকে আর হোয়াটসআপ করছেন না। কেউ করলে লিখছে, ’আমি কি তোমায় খুব বিরক্ত করছি’- গানের লাইনটি। এই গানটি বাংলাদেশের দর্শকদেরও ভাল লাগবে বলে মনে করেন প্রসেনজিৎ।
জাতিস্মর, মনের মানুষ, দোসর; প্রায় প্রত্যেক ছবিতেই নতুন চেহারায় দেখা গিয়েছে প্রসেনজিৎকে। এবারও জিয়ন মিত্র চরিত্রের তাকে দেখা যাচ্ছে একচোখ-হীন আইনজীবী হিসাবে। অভিনয়ে প্রতিবার নিজের গড়া রেকর্ড ভাঙছেন পরবর্তী ছবিতে।
এই প্রসঙ্গে এই অভিনেতার বক্তব্য, ’আমি বিগত কয়েক বছর ধরে যে কাজ গুলো করে এসেছি। বিশেষ করে, অটোগ্রাফের পর থেকে কিংবা মনের মানুষের পর থেকে সেটা দেখেই অনেক পরিচালক আমাকে বলেন, ’বুম্বাদা তোমার আসল চেহারাটাই দর্শক ভুলে গেছেন’।
এই জায়গা উদাহরণও টানেন বুম্বা। বলেন, ’মানুষ যখন শঙ্খচিল দেখেছিলেন তখন মনে হয়েছে এই লোকটি বাংলাদেশেরই বাদল। এইভাবেই আমার চেহারার পরিবর্তন ঘটেছে’।
দৃষ্টিকোণের একচোখের মেকআপ অনেক কষ্টকর ছিলও বলে স্বীকার করলেন এই অভিনেতা। বললেন, ’ মেকআপ নিতে শুধু শারীরিক নয়; মানসিক পরিশ্রমও হয়েছে। নকল এই চোখটা ভারতের নয়, সেটা বাইরে থেকে আনা হয়েছিল। অনেক বার আনতে হয়েছে, ফেলেও দিতে হয়েছে বহুবার। অনেক চেষ্টা করে, দেখে; আমার চেহারার সঙ্গে সেটা গ্রহণযোগ্য লাগে কিনা, তারও পরই মেকআপটা চূড়ান্ত করা হয়।
মেকআপ করতে গিয়ে তার দুটি চোখই নষ্ট হয়ে যেতে পারতো বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন প্রসেনজিৎ। বলেন,মেকআপ করতে গিয়ে চোখের চিকিৎসকরা আমায় বলেছিলেন এই নকল চোখটা বেশি সময় না পড়ে থাকবেন। কারণ এ জন্য আমার আসল চোখটাই নষ্টও হয়ে যেতে পারে।
প্রসেনজিৎ বললেন, এখন তার কাছে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহে সিটে বসে ছবি দেখতে দেখতে যেন তাকে ভুলে জিয়ন মিত্রের চরিত্রের মধ্যে ঢুকে পড়েন। সেটাই হবে তার কাছে বড় পাওয়া।
অমর সঙ্গীর আর দৃষ্ঠিকোণোর ভালবাসা নিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন প্রথিতযশা অভিনেতা। বলেন, ভালবাসা যুগ-যুগ বছরের পর বছর একই থাকে। এর কোনও পরিবর্তন নেই। অমর সঙ্গীর ভালবাসাটা ছিল, আমার ছেলে এখন প্রেমে পড়লে যেমন হবে ঠিক তেমন। আর আমি এখন প্রেমে পড়লে যেমন হবে, দৃষ্টিকোণের ভালবাসাটা হচ্ছে ঠিক সেই রকম।
নতুন প্রজন্মের ফেসবুকে প্রেম করাকে দারুণ ভাবেই উপভোগ করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি মনে করেন, ফেসবুকের প্রেমটা অনেকটা অকপট। কোনও গোপনীয়তা নেই।
 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop