বাণিজ্য সময়বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিশেষ আইন আসলেই কি দরকার?

বাণিজ্য সময় ডেস্ক

fb tw
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিশেষ আইনের মেয়াদ তৃতীয় দফায় ২০২১ সাল পর্যন্ত বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। তবে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা আসার পরও বিশেষ আইনের মেয়াদ বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
যদিও সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীর দাবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহের জন্য বিশেষ এ আইন আরো কয়েক বছর থাকা প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দ্রুততম সময়ে কাটাতে ২০১০ সালে জাতীয় সংসদে পাশ হয় বিশেষ আইন। যে আইনের আওতায় বিনা দরপত্রে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে সরকার। এমনকি এসবের বৈধতা নিয়ে আদালতেও কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না।
শুরুতে ২ বছরের জন্য আইনটি পাশ হলেও পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়ানো হয় আরো দুই দফা। সে অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে শেষ হওয়ার কথা বহুল আলোচিত এ আইনের মেয়াদ।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইন
২০১০ সাল ২ বছরের জন্য পাশ
২০১২ সাল আরো ২ বছর মেয়াদ বৃদ্ধি
২০১৪ সাল আরো ৪ বছর মেয়াদ বৃদ্ধি
তবে আবারো ৩ বছর বাড়িয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত আইনটি রাখার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য মন্ত্রীসভায় পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের যে নাজুক পরিস্থিতিতে বিশেষ আইন পাশ করা হয়, সেখান থেকে উত্তরণ ঘটে পরিস্থিতি অনেকটা স্থিতিশীল বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাই নানা মহলের প্রশ্ন, প্রচলিত আইনকে পাশ কাটিয়ে বর্তমান অবস্থায়ও বিশেষ আইন বহাল রাখা কতটা যৌক্তিক?
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, 'এই খাতের উন্নয়ন পুরোপুরি না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আইনকে উঠিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। কারণ, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা টেন্ডার করছি আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা বিশেষ আইন প্রয়োগ করছি।'
২০০৯ সালের ৩ হাজার মেগাওয়াটের ঘর থেকে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াট। এরপরও একের পর এক বৃহৎ বিদ্যুৎপ্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে বিশেষ আইনের আওতায় বিনা দরপত্রে।
অন্যদিকে, জ্বালানি সংকট কাটাতেও এলএনজি যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। এমন অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশেষ আইনের মেয়াদ বাড়ানো কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম তামিম বলেন, 'বাড়ানোর মানেই হলো, এখন পর্যন্ত সেই ইমার্জেন্সি অবস্থা আমাদের আছে সেটা স্বীকার করা। যদি সেটাই করতে হয় তাহলে বলতে হবে, গত আট নয় বছর ধরে সরকার অদক্ষতার সঙ্গে চলেছে। কারণ এত দীর্ঘ সময় জরুরি অবস্থা থাকতে পারে না।'
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, 'এই আইনের দ্বারা দুর্নীতিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, দুর্নীতিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। যেখানে প্রতিযোগিতা নেই, যেখানে যে দামে খুশি কেনা-বেচা করা যায়। তারাই এই আইনের দরকার মনে করবে, যারা এটার দ্বারা লাভবান হবে।'
ভোক্তাস্বার্থ রক্ষা আর বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এখনই বিশেষ আইন থেকে সরে প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop