শিক্ষা সময়চবিতে উত্তরপত্র পোড়ানো হলো কেন?

কমল দে

fb tw
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্যই রাতের অন্ধকারে পরীক্ষার ৬শ উত্তরপত্র পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। সেই সঙ্গে পরীক্ষা আশানুরূপ না  হওয়ায় কিংবা শিক্ষকদের ওপর বিক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরাও এ ঘটনা ঘটাতে পারে- এই তিনটি কারণকে সামনে রেখে চলছে প্রশাসনের তদন্ত।
তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ধরণের উত্তরপত্র পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা আগামীতে বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষার জন্য অশনি সংকেত বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় পরিকল্পিতভাবে কোনো উত্তরপত্র পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটলো এই প্রথম। মঙ্গলবার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের দু’টি সেমিস্টারের তিনটি পরীক্ষার ৬শ উত্তরপত্র পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এমনকি উত্তরপত্র পুড়িয়ে দেয়ার আগে নষ্ট করে দেয়া হয় বিভাগের সিসিটিভি ক্যামেরাও। উত্তরপত্র পুড়িয়ে দেয়ার এই ঘটনায় হতভম্ব শিক্ষাবিদরা।
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. প্রফেসর অনুপম সেন বলেন, 'চক্রান্ত করে খাতা পোড়ানো বা খাতা নষ্ট করার মতো ঘটনা আমার অর্ধশতাব্দীর শিক্ষকতা জীবনে কখনো দেখিনি।'
প্রধানত, তিনটি কারণে উত্তরপত্র পুড়িয়ে দেয়া হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. প্রফেসর ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য নাশকতাকেই অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে দেখছেন তিনি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. প্রফেসর ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'দু'য়েকটি ছেলে হয়তো ভালো করতে পারেনি। অথবা কোনো বিভাগের শিক্ষকের সঙ্গে তাদের ক্ষোভ থাকতে পারে। অথবা কোনো এক পক্ষের নাশকতামূলক কিছুও হতে পারে।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, পরীক্ষা শেষ হওয়ার একদিনের মধ্যে উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষকদের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। কিন্তু পুড়িয়ে দেয়া উত্তরপত্রগুলো তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রয়ে গেছে বিভাগের অফিসে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, এ ধরণের অপতৎপরতা রোধে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার।   
চবি উপাচার্য বলেন, 'এই ধরণের ঘটনা যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।'
ড. প্রফেসর অনুপম সেন বলেন, 'এ ঘটনায় জড়িতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ।'
এ ঘটনায় জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ৫ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, 'এটা নেহাতই কোন নাশকতা নাকি পরিকল্পিত বিষয় সেটা আমাদের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা বলতে পারবো না।'
উত্তরপত্র পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে হাটহাজারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দোষীদের কাউকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop