শিক্ষা সময়মাধ্যমিকের পর ঝরে পড়া শিক্ষার্থী বাড়ছে

রাশেদ বাপ্পী

fb tw
এবছর মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েও উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তির আবেদন করেনি প্রায় পৌনে তিন লাখ শিক্ষার্থী। এদের কিছু সংখ্যক বিকল্প শিক্ষা কার্যক্রম বেছে নিলেও বড় একটি অংশেরই আশঙ্কা রয়েছে ঝরে পড়ার। পারিবারিক অসচ্ছলতাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
তাদের মতে, যুগোপযোগী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নের মাধ্যমে এমন শিক্ষার্থীদের জনশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব।
পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের আনন্দ আর উচ্ছ্বাস সফলভাবে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরুনোর। তবে, উচ্চ মাধ্যমিকে প্রবেশের আগেই এদের অনেককেই ছিটকে পড়তে হয় শিক্ষাজীবন থেকে।
গত ৬ মে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বেঁধে দেয়া সময়সীমার মধ্যে অনলাইন প্রক্রিয়ায় কলেজে ভর্তির আবেদন করে ১৩ লাখ ১০ হাজার শিক্ষার্থী। যদিও এবছর পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি। সে হিসেবে আবেদন প্রক্রিয়ার বাইরেই রয়ে গেছে আড়াই লাখেরও বেশি।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. হারুন-অর-রশীদ সময়নিউজকে বলেন, ‘এদের একটা অংশ চলে যাবে কর্মসংস্থানে। আরেকটা অংশ হয়তো তাদের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে একেবারেই ঝরে পড়বে। তারা হয়তো আর কোনো কালেই পড়াশুনা করার সুযোগ পাবে না।’
২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিবছরই মাধ্যমিক পাস করা বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয় না পরবর্তী শ্রেণিতে। আবার যারা ভর্তি হয় তাদের অনেকেই অংশ নেয় না চূড়ান্ত পরীক্ষায়। ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রায় তিন লাখ শিক্ষার্থীর অংশ না নেওয়া এর বড় প্রমাণ। চাকরির বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা ঝরে পড়ার অন্যতম কারণ, বলছেন শিক্ষাবিদরা।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, ‘বড় বড় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে যখন কেউ ১০ হাজার টাকার চাকরি করে, তখন ওই পিয়নের চাকরিটাও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। এই কারণেই তারা লেখাপড়া শেষ না করেই প্রবাসে পাড়ি দেয় এবং এই ধরণের কর্মজীবনে ঢুকে পড়ে।’
শুধু উচ্চমাধ্যমিক নয়, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরেও প্রতিবছর ঝরে পড়ছে অনেকে। উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন না করেই শিক্ষাজীবনের ইতি টানছে প্রায় ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী। মাধ্যমিকে এই হার ৪০ শতাংশেরও বেশি। আর প্রাথমিকে ২০ শতাংশ। শিক্ষার্থী ধরে রাখতে যুগোপযোগী নীতিমালা গ্রহণের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকল্প হিসেবে কারিগরি পড়ালেখা কিংবা বৃত্তিমূলক পড়ালেখার সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে।’
এদিকে অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, ‘গার্মেন্টসে আমাদের একটা বড় অংশ কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলে যাচ্ছে ছেলেরা। তারা সেখানে যে কাজগুলো করছে সেই কাজের ট্রেড যদি এখানে থাকতো তাহলে অন্তত একটা বড় অংশকে আমরা দক্ষ শ্রমিক হিসেবে বাইরে পাঠাতে পারতাম।’
শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে অভিভাবকদের সচেতনতাও জরুরি বলে মনে করেন সাবেক এই শিক্ষা কর্মকর্তা।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop