মহানগর সময়কথায় কথায় চিকিৎসা ধর্মঘট চট্টগ্রামে!

কমল দে

fb tw
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দাবি আদায়ের জন্য চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়াকে অনেকটা রেওয়াজে পরিণত করেছেন চিকিৎসকরা। গত চার বছরে তিনবার চিকিৎসকরা প্রাইভেট চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করেছেন। সবশেষ গতকাল রোববার থেকে শুরু হয়েছে চট্টগ্রামে প্রাইভেট ক্লিনিক এবং রোগ নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকদের ধর্মঘট। নানা অজুহাতে কথায় কথায় সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চিকিৎসকদের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়াকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে মনে করছেন আইনজীবী এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব।
 
 
চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সিএসসিআর এবং পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ফেরৎ যাওয়া দু’জন রোগীর স্বজন এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ক্ষোভ শুধু দু’জনেরই নয়। প্রতিটি ভুক্তভোগী জানেন, চিকিৎসকদের ধর্মঘটের কারণে তাদের কি ধরনের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
গত চার বছরে এ ধরনের আরো দু’বার বড় ধরণের ধর্মঘট পালন করেছেন চট্টগ্রামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকরা। একবার রোগীর মলদ্বারে নিডল রেখে দেয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ মামলা করায় চিকিৎসকরা ধর্মঘটে যান। আরেকবার ভুল চিকিৎসায় একজন মন্ত্রীর আত্মীয় মারা যাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ায় ধর্মঘট ডেকে প্রাইভেট চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেন চিকিৎসকরা। রোববার নগরীর বিভিন্ন ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের প্রতিবাদে ধর্মঘট শুরু করেন চিকিৎসকরা। এ ধরণের ধর্মঘটকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে জানান মানবাধিকার কর্মী এবং ক্যাব।  
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের পরিচালক অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান, কোনো অজুহাতে তারা শ্রমিক সংগঠনের মতো মানুষকে জিম্মি করে ধর্মঘট ডাকেন। এটাই মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
চট্টগ্রাম ক্যাব সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, ‘প্রাইভেট চিকিৎসাসহ সব ধরনের চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এটা খুবই অন্যায়। এছাড়াও সংবিধানে চিকিৎসার যে রাইটস রয়েছে, সেটা খর্ব করা হয়েছে।’
প্রায়ই চট্টগ্রামে চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। কিন্তু চিকিৎসকদের কঠোর অবস্থানের কারণে এর কোনোটির বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায় না। গত সপ্তাহে ভুল চিকিৎসায় মারা যাওয়া শিশু কন্যা রাফিদা খান রাইফা’র ঘটনা তদন্তে আসা স্বাস্থ্য বিভাগের এ কর্মকর্তা’ও বলছেন, জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী একজন চিকিৎসক কোনোভাবেই চিকিৎসা সেবাকে দাবি আদায়ে জিম্মি করতে পারেন না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যদি সে তার রেজিস্ট্রেশন ঠিক রাখতে চায়, তাহলে সে চিকিৎসা দিতে বাধ্য। এখানে বন্ধ করার কোনো প্রশ্ন ওঠে না।
চট্টগ্রামে ছোট-বড় অন্তত দেড়শো প্রাইভেট ক্লিনিক রয়েছে। আর রোগ নিরূপণ কেন্দ্র রয়েছে আরো একশ।
 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop