মহানগর সময়চিকিৎসক সংকটে চট্টগ্রামের জেনারেল হাসপাতাল

কমল দে

fb tw
চিকিৎসকসহ নানা সংকটে অনেকটা ধুঁকে ধুঁকে চলছে চট্টগ্রামের জেনারেল হাসপাতাল। ১১৭ বছরের পুরাতন সরকারি এই হাসপাতালটি ছয় বছর আগে একশ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল বাড়েনি একজনও। এমনকি ৮টি বিশেষায়িত ওয়ার্ডে ৩২ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন হলেও একজন চিকিৎসকও নেই। হাতে গোনা কয়েকজন কনসালটেন্ট এবং ধার করা চিকিৎসক দিয়েই অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে চিকিৎসা সেবা চালু রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
 
বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের চিকিৎসা সেবার সুবিধার্থে ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠা হয় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। প্রথম পর্যায়ে হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হলেও পরবর্তীতে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০১২ সালে এটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাড়ানো হয়নি জনবল। এমনিতেই এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে দু’শর বেশি রোগী ভর্তি থাকে। এছাড়া মেডিসিন, সার্জারি, হৃদরোগ, গাইনি, অর্থপেডিক্স, চক্ষু, নাক-কান-গলা এবং শিশু বিভাগের মতো আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ রয়েছে। কিন্তু ওয়ার্ডগুলোতে যেমন চিকিৎসক নেই, তেমনি নেই হাসপাতালের বিভিন্ন কাজে সহায়তার জন্য চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীও।
 
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কান্তি নাথ বলেন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদের মধ্যে এখানে রয়েছে ১২টি পদ। আর আর এত বড় হাসপাতালের ইনডোর-আউটডোর চালাতে জনবল প্রয়োজন ৫০ জন।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য জহরলাল হাজারী বলেন, ইতোপূর্বে আমরা ডাক্তার সংকটের জন্য আন্দোলন করেছি। তারপরও এখানে ডাক্তার সংকট রয়েছে। যদি সরকার ডাক্তার দিয়ে সহযোগিতা করত, তাহলে এটি আধুনিক হাসপাতাল হিসেবে গড়ে উঠত।

রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের যেমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তেমনি রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নার্সদেরও।
 
রোগীরা জানান, দুই ঘণ্টার ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে সিরিয়াল নিয়েছে। এরপর এখন ডাক্তার দেখাতে এসেছি।

একজন নার্স জানান, নার্স, ডাক্তার ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সংখ্যা বাড়ানো গেলে আমরা ভালভাবে রোগীদের সেবা দিতে পারবো।

মূলত হাতেগোনা কয়েকজন কনসালটেন্টদের দিয়েই হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা চালু রাখা হয়েছে। আউটডোর ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ১১ জন।
 
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শুভ দাশ বলেন, হাসপাতালের সকল বিভাগে ডাক্তার থেকে শুরু করে নার্স ও কর্মচারী সংকট রয়েছে। অনেক সময়ে ক্রাইসিস মুহূর্তে বাহির থেকে ডাক্তার নিয়ে আসা হয়। এইগুলো সমাধান করলে সেবার মান বাড়বে।  
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান লিয়াকত আলী বলেন, হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে। যে জনবল রয়েছে তা দিয়ে সকলকে চিকিৎসা সেবা সম্ভব হয় না।
১০ একর জায়গার ওপর হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা হলেও নিরাপত্তার জন্য কোনো প্রহরীর ব্যবস্থা নেই। হাসপাতাল পরিষ্কারসহ আনুষঙ্গিক কাজে ৫০ জনের বেশি কর্মচারীর প্রয়োজন থাকলেও রয়েছে মাত্র ১২ জন।
 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop