মহানগর সময়শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করেছে হিযবুত তাহরীর: সিএমপি কমিশনার

কমল দে

fb tw
জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের শেষ দিকে এসে নৈরাজ্য এবং অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালায় বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানী ঢাকা এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে গোপনে পোস্টার লাগানোর পাশাপাশি উস্কানিমূলক লিফলেট বিলি করে জঙ্গি সংগঠনটি। সেই সঙ্গে বেশ ক’টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উস্কানি দিয়ে রাস্তার নামিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মূলত পুনরায় সংগঠিত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের অবস্থান জানান দিতে তাদের এ পরিকল্পনা বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।  
 
গত দু’বছরের বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি, নব্য জেএমবি, আনসার উল্লাহ বাংলা টিম ও আনসার আল ইসলামের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর এসময় অনেকটা আড়ালে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত অপর জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর সদস্যরা গোপনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংগঠিত হয়। 
সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে পুরো দেশে যখন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে, তখনই শিক্ষার্থীদের আড়ালে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে হিযবুত তাহরীর কর্মীরা নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে বলে দাবি করেছে পুলিশ প্রশাসন। 
সিএমপি কমিশনার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীর বিভিন্ন সময় তৎপর হওয়ার চেষ্টা করেছে। চট্টগ্রামও তার ব্যতিক্রম নয়। আমরা তৎপর আছি। হিযবুত তাহরীরের ফিল্ড পর্যায়ে যারা এই ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে ঢোকে, তারা তাদের নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষে চেষ্টা করেছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে।’
 
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য ঢাকার বিভিন্ন দেয়ালে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালগামী শাটল ট্রেনে হিযবুত তাহরীরের পক্ষ থেকে পোষ্টার লাগানোর পাশাপাশি লিফলেট বিতরণ করা  হয়েছিল। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে হিযবুত তাহরীর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মিশন ব্যর্থ হলেও ঢাকার কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা অবস্থান নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য হিযবুত তাহরীরের এ পরিকল্পনা বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।  
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘হিযবুত তাহরীর মূলত অসৎ উদ্দেশ্য থেকে চেষ্টা করেছে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও কোমলমতি শিশুদেরকে বিভ্রান্ত করে তাদের উদ্দেশ্যটাকে বাস্তবায়ন করতে পারে।’
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ বলেন, ‘অন্য সময় যখন আসার চেষ্টা করবে, তখন তো তাকে জঙ্গি বলে ফেরত দেবে, অথবা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেবে। এই যে পরিবেশটা পেল তারা আবার জনগণের মধ্যে মিশে যাওয়ার, সেটা নির্বাচনকালীন কোনো একটি পক্ষকে সুবিধা দেয়ার জন্য ব্যবহৃত হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’       
এ অবস্থায় সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া হিযবুত তাহরীর সদস্যদের পুনরায় নজরদারির মধ্যে আনার নির্দেশ দিয়েছে সিএমপি। সেই সঙ্গে হিযবুত তাহরীরকে প্রতিরোধে চট্টগ্রামের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নজরদারির মধ্যে রেখেছে পুলিশ প্রশাসন। 
মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। সঙ্গে শহরেও কোথাও আছে বলে জানতে পেরেছি। অ্যারেস্ট ছিল যারা জামিনে বেরিয়ে এসেছে, তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করছি। তাছাড়াও আমাদের যারা ইন্টালিজেন্স ওয়ার্ক করে, তাদের মাধ্যমে খবর নিচ্ছি।’
চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চুয়েট, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং আরও কয়েকটি বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তারা আছে। প্রত্যেকটি জায়গায় আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।    
২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে হিযবুত তাহরীর। এর মধ্যে উগ্রপন্থা অবলম্বনের অভিযোগে সরকার ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর হিযবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop