ksrm

সাক্ষাৎকার‘মহিউদ্দিনের স্ত্রী চিৎকার করে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু আর নেই’

সময় সংবাদ

fb tw
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের রচয়িতা সাংবাদিক-কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। বুধবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিষয় নিয়ে সময়নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন গাফ্ফার চৌধুরী। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন আমাদের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি সোয়ের কবীর ।  
   

সময়নিউজ: বঙ্গবন্ধুকে যে হত্যা করা হল, এই মেসেজটা আপনি কীভাবে পেলেন? সেই দিনটার কথা একটু বলুন।
গাফ্ফার চৌধুরী: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে আমি লন্ডনে ছিলাম। আমার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ওই বছরের অক্টোবর মাসে লন্ডনে আসি। মাঝে মাঝে বাংলাদেশে যেতাম, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতাম। তিনি তখন বাকশাল গঠন করার জন্য ব্যস্ত। আমি যখন শেষবার তাকে দেখি ১৯৭৫ সালের জুন মাসে। তখন জেলা গভর্নরদেরকে ট্রেনিং দিচ্ছিলেন। আবার নতুন করে গভর্নমেন্ট (সরকার) হবে। আর তখনই আমি দেখে আসছিলাম, বাংলাদেশে একটি ষড়যন্ত্রমূলক আবহাওয়া কাজ করছে। যেখানে যাই সেখানেই বলে একটা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হবে। খুবই গভীর ষড়যন্ত্র। বঙ্গবন্ধু জানতেন কিনা জানি না। আমি তাকে (বঙ্গবন্ধু) সতর্ক করেছিলাম। কিন্তু বিশ্বাস করতে পারতেন না, বাঙালি তাকে হত্যা করতে পারে। এরপর জুন মাসেই আমি লন্ডন চলে আসি। আগস্ট মাসে এক ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠেছি তখন আমি এই বাড়িতে (যে বাড়িতে বসে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন) থাকতাম। এই বাড়িটা তখন ছিল বাংলাদেশ হাইকমিশনারের প্রেস সচিব মহিউদ্দিনের। তিনি আমার বন্ধু। সম্প্রতি তিনি মারা গেছেন। তার স্ত্রী ভোরবেলা চিৎকার করে বলেছিলেন যে, বঙ্গবন্ধু আর নেই।
তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠেছি, রেডিও ধরেছি এবং তাই শুনেছি। শেষরাতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু তার পরিবারের কি হয়েছে তখন তা বলা হয়নি। বাংলাদেশ হাইকমিশনে তখন সুলতান সাহেব রাষ্ট্রদূত, আমার বন্ধু ফারুক আহমেদ চৌধুরী উপ-রাষ্ট্রদূত এবং আমার আরেক বন্ধু যায়যায় দিনের শফিক রেহমান আমার বাসায় এসেছেন। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার হাইকমিশন লন্ডনে যাই। গিয়ে দেখি সেই বিধ্বস্ত। সেইখানে এক অফিসারকে মারধর করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ছবি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ওইখানে বসে আবার শুনলাম বঙ্গবন্ধু নেই এবং পরিবারের কী হয়েছে, সেটা জানতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তারপর দিন শেষে জানা গেল ওই পরিবারের কেউ নেই। তার ছেলে, ছেলের বউ, পত্মী, আত্মীয় স্বজন, শেখ ফজলুল হক মণি, তার স্ত্রী সকলকে হত্যা করা হয়েছে।
এই খবর পেয়ে অন্ধকারে বাতির মতো দুই সন্তান বেঁছে আছে। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। তারা তখন ছুটি উপলক্ষে জার্মানিতে ছিলেন। আর সম্ভবত সেইদিন তারা ব্রাসেলস ছিলেন। ভাবলাম, এরাই সম্বল এদেরকে যেন হত্যা না করা হয়। ১৫ ও ১৬ আগস্ট বিষাদ ও অত্যন্ত শোকে কেটেছে। এবং তখনি আমার মাথায় চিন্তা এসেছে, বাংলাদেশে যে পাকিস্তানি ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, এটা ব্যর্থ করার জন্য আমাদের কি করা উচিত।
সময়নিউজ: ১৫ আগস্ট আসলে আপনার কেমন...
গাফ্ফার চৌধুরী: ১৫ আগস্ট এলে খুব শোক হয়। কারণ, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। আমাকে তিনি অনেক সাহায্য করেছিলেন। আমার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য নানাভাবে সাহায্য করেছিলেন। তার চেয়ে বড় কথা হলো ১৯৪৮ সালে উনি যখন ছাত্রলীগের নেতা, তখন থেকে তার সঙ্গে আমার পরিচয়।  সেই সঙ্গে তার আইডিওলজি (মতাদর্শ) বিশ্বাস করতাম। ছয় দফা আন্দোলনে সমর্থন করেছিলাম এবং সরকারের রোষাণলে পড়েছিলাম।
স্বাধীনতা আন্দোলনে দেশ ত্যাগ করে মুজিবনগরে চলে গেছি, বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমার চরম আনুগত্য ছিল আদর্শগত ও ব্যক্তিগত।  ফলে ১৫ আগস্ট এলে অনেকটাই পিতৃ শোকের মতো শোক আসতো। এই জন্য শেখ হাসিনা এবং তার আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি, সমর্থন দিয়েছি। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই শোক অনেকটা কেটে গেছে। এখনো আছে, তবে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসায় এবং তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় অনেকটা সান্ত্বনা পাচ্ছি।
সময়নিউজ: বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
গাফ্ফার চৌধুরী: খুবই ভালোভাবে মূল্যায়ন করেছি। কেননা রাজনীতিতে তিনি গোড়া থেকে যুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা ইডেন কলেজে ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। বিভিন্ন আন্দোলনসহ..., ভাষা আন্দোলনে নয়, এরপরের আন্দোলনে শরিক হয়েছেন। এমনকি তিনি কলেজে পড়ার সময় কলেজের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন ছাত্র ইউনিয়নের এবং একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। সেই কলেজের প্রিন্সিপাল ওই শহীদ মিনার নির্মাণ করার জন্য তার কক্ষে নিয়ে তাকে ৩-৪ ঘণ্টা বন্দী করে রেখে দিয়েছেন। পরদিন তিনি আবারও শহীদ মিনার তৈরি করেন। এতে আমার মনে হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর যে সাহস এবং রাজনৈতিক চিন্তা সেটা তার কন্যার (শেখ হাসিনা) মধ্যে বর্তমান। তার ছেলে ও পরিবারকে হত্যা করে খুনিরা যা ভেবেছিল, সেটা হবে না। জার্মানি থেকে তিনি দিল্লী যান, দিল্লী থেকে ঢাকা আসেন। তখন তাকে অভ্যর্থনা দেওয়ার জন্য বিমানবন্দরে ১০ লাখ (লোক) সমবেত হয়েছিল। আর তখনই আমার মনে হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর হত্যার একটা প্রতিকার হবে এবং হত্যাকারীদের বিচার হবে। বাংলাদেশে আবার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা শুরু হবে।
সময়নিউজ: বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কোন স্মৃতি মনে দাগ কাটে?
গাফ্ফার চৌধুরী: ১৯৫৫ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে আমি জেলে ছিলাম। শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলাম। বঙ্গবন্ধুও ওই জেলে বন্দী ছিলেন। সেই সময় আমাদের সঙ্গে ক্লাস ফাইভের একটি ছেলে জেলে গিয়েছিল। জেলে তখন খাদ্যের মান এত নিচু স্তরের ছিল। ওটা খেয়ে বেঁচে থাকা যায় না। ওই ছেলেটি খাবার খেতে পারত না, আর কাঁদতো। পরে বঙ্গবন্ধু তা জানতে পারেন। তখন বাসা থেকে বঙ্গবন্ধুর যে খাবারটা আসতো, বঙ্গবন্ধু সেই খাবারের কিছু অংশ খেয়ে বাকিটা ওই ছেলের জন্য পাঠিয়ে দিতেন। আমরা যতদিন..., প্রায় আমরা একমাস জেলে ছিলাম, ততদিন তিনি খাবার পাঠিয়ে ছিলেন।
এই রকম মহানুভবতা আমি আরো অনেক দেখেছি। কিন্তু, এই স্মৃতিটা আমার মনে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছে এবং এখনও মনে রেখেছি। বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমার ব্যক্তিগতভাবে অনেক আনুগত্য ছিল।'

আরও পড়ুন

বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করেননি বাঙালিরা তাকে হত্যা করতে পারে : গাফ্ফার চৌধুরী‘বঙ্গবন্ধু কারাগারে নিজের খাবার অন্যকে দিয়ে দিতেন’

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop