মহানগর সময়নারায়ণগঞ্জে শিশু আলিফ হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি

শওকত আলী সৈকত

fb tw
somoy
নারায়ণগঞ্জ শহরের জল্লারপাড় এলাকায় সৌদি প্রবাসীর চার বছরের সন্তান আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নিহত আলিফের বাবা আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে দুই জনকে অভিযুক্ত করে সদর মডেল থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।
তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত মূল হত্যাকারীকে গ্রেফতার বা হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন করতে পারেনি।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে আলিফের পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় শোকার্ত পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
জল্লারপাড় এলাকায় আলমগীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন রুমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আলিফের বিভিন্ন খেলনা ও ব্যবহারের জিনিসপত্র। ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনরা এগুলো ধরে আহাজারি করছেন।
চার সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট সন্তানকে হারিয়ে গত দু’দিন ধরে বাকরুদ্ধ হয়ে প্রায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন আলিফের মা সালমা বেগম। মাঝে মাঝে চেতনা ফিরলেও চিৎকার করে ছেলেকে ফেরত চাইছেন আর কাঁদছেন।
গণমাধ্যমের কর্মীরা বাড়িতে গিয়ে তার সং্গে কথা বলতে চাইলে একইভাবে তিনি আহাজারি করেন এবং সন্তান হত্যার বিচার চান। পরিবারের অন্যদের অবস্থাও একই রকম।
নিহত আলিফের বড় বোন শহরের ইংরেজি মাধ্যম স্কুল মাউন্ট রয়েল একাডেমির চতুর্থ গ্রেডের ছাত্রী সুমাইয়া জানায়, তার শিশু ভাইটি তো কোনো অপরাধ করেনি। তাদের পরিবারেরও কোনো শত্রু নেই। তার প্রশ্ন, কি অপরাধে এবং কেন তার শিশু ভাইকে এভাবে শ্বাসরোধ ও নির্যাতন করে হত্যা করা হলো? সে কিছুতেই এই হত্যাকাণ্ডকে মেনে নিতে পারছে না। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া এই নাবালিকা শিশুটিও ছোট ভাইয়ের খুনিদের ফাঁসির দাবি জানায়।
একই স্কুলের শিক্ষার্থী নিহত আলিফের দুই বছরের বড় ভাই সিয়ামও দিনরাত কান্না করছে ছোট ভাইকে হারিয়ে। তার খেলার সাথী আদরে প্রিয় ভাইটি আজ নেই, এটা সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। ভাইয়ের খেলনাগুলো জড়িয়ে ধরে কান্না করেই দুইদিন কাঁটালো এই শিশুটি।
স্বজনরা ও এলাকাবাসী বলছেন, আলিফের প্রবাসী বাবা কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের কারো সাথেই কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না। বারো বছর ধরে এই এলাকায় বাড়ি করে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও কারো সঙ্গে কোনো ঝগড়া হয়নি। দীর্ঘ ‌৫ বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাসে থাকলেও প্রতি বছরই দেশে আসেন। এলাকার সবার সঙ্গেই তার সুসম্পর্ক রয়েছে। তার স্ত্রী সালমা বেগমও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হন না। অপরিচিত কোনো মানুষকেও কখনো তাদের বাড়িতে যেতে কেউ দেখেনি। স্বামী-স্ত্রীর চারিত্রিক বিষয়েও সবাই প্রশংসাই করলেন। তবে তারপরেও কি কারণে এমন নির্মমভাবে শিশুটিকে হত্যা করা হলো কেউ এর কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না।
এলাকাবাসী ও স্বজনদের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার বেলা ‌‌১১টার দিকে প্রতিবেশী আলী খোকনের ভাড়াটে যুবক অহিদ আলিফকে চকলেট দেবার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই আলিফ নিখোঁজ থাকে। বিকেলে অহিদের ঘরের তালা ভেঙেই উদ্ধার হয় আলিফের বস্তাবন্দী লাশ। রাতে এবং শুক্রবার সকালেও অহিদ আলিফের চাচার মোবাইলে ফোন করে মামলা না করতে হুমকি দিয়েছে। অন্যথায় আলিফের অন্য তিন-ভাই-বোন এবং বাবা-মাকেও হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। ফলে এলাকাবাসী ও স্বজনদের অভিযোগের আঙ্গুল অহিদের দিকেই। তবে ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টা পার হলেও অহিদকে পুলিশ গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী ও স্বজনরা। তারা দাবি করেন, অহিদকে গ্রেফতার করতে পারলেই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন হবে। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আলিফ হত্যাকারীদের সুষ্ঠু বিচার চান।
তবে পুলিশের দাবি, এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে জোর তদন্ত চলছে। সদর মডেল থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম জানান, মূল আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান অব্যাহত রেখেছে। শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।
হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, নিহত আলিফের বাবা হুমকির বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। আমরা সেই হুমকিদাতার মোবাইল নম্বর পর্যবেক্ষণ করছি। নিহত শিশুটির শোকার্ত পরিবারের নিরাপত্তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত ১৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় নারায়ণগঞ্জ শহরের জল্লারপাড় আমহাট্টা এলাকার বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী আলমগীর হোসেন তার ছোট সন্তান আলিফকে আদর করে ব্যাংকে টাকা তোলার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। বেলা ১১টায় বাসা থেকে ফোন আসে, আলিফ বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের ছয় ঘণ্টা পর বিকেল পাঁচটায় একই মহল্লার প্রতিবেশীর বাড়ির ভাড়াটের ঘর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হয় আলিফের রক্তাক্ত লাশ। এ ঘটনায় পুলিশ ওই ঘরের ভাড়াটে সম্রাট ওরফে রিপনকে আটক করলেও মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তি অহিদ লাশ উদ্ধারের পর আত্মগোপন করে।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop