মহানগর সময়ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের তিন শতাধিক গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে

নাজমুস সালেহী

fb tw
বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট- বিআরটি প্রকল্পের আওতায় শুরু হয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক সম্প্রসারণের কাজ। এতে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে উত্তরার জসীম উদ্দিন পর্যন্ত কাঁটা হচ্ছে তিন শতাধিক ২০-২৫ বছর বয়সী গাছ। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বলছে, সড়ক উন্নয়নে কোন উপায় না থাকায় গাছ কাটতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
ঢাকা বন বিভাগ বলছে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষেই এই সিদ্ধান্ত। তবে নগরবিদরা বলছেন, গাছগুলো রেখেই সম্ভব ছিল উন্নয়ন। গাছ ধ্বংস করে টেকসই ও পরিকল্পিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বিশ বছর আগে নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিবেশ রক্ষায় ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের মাঝ দিয়ে সারি সারি গাছগুলো লাগিয়েছিলো ঢাকা বন বিভাগ। বেড়ে ওঠা সবুজ গাছগুলো চলাচলকারীদের জন্য বেশ স্বস্তিরও। কিন্তু হঠাৎ করে পরিণত গাছগুলো কেটে ফেলা উদ্যোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
স্থানীয় একজন বলেন, 'গাছগুলোর কারণে ছায়া ছিল। মানুষ একটু আশ্রয় নিত। এটা কেটে ফেললে তো আর হাওয়া বাতাস পাবলিক পাবে না।'
আরেকজন বলেন, 'দুইটা সারি কেটে ফেলা তো ঠিক না। একটা সারি থাকলে ভালো হত।'
২০১৬ সালে পাস হওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর শিববাড়ি পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত আট লেনে সড়কে বাড়ানো হবে আরও দুই লেন। আর মাঝে মাঝে নির্মাণ করা হবে বেশ কিছু ফুট ওভার ব্রিজ। উন্নয়নের এই কাজের জন্যই কাটা হচ্ছে গাছগুলো।
প্রকল্প পরিচালক বলছেন, তাদের চাহিদা মোতাবেক সামাজিক বন ঢাকা অঞ্চলের সহায়তায় কাটা হচ্ছে গাছগুলো।
বিআরটি'র প্রকল্প পরিচালক মো. সানাউল হক বলেন, 'এয়ারপোর্টে দু'টো ফ্লাইওভার পাশাপাশি হবে। একটা পূর্বপাশে আরেকটা পশ্চিম পাশে। আরেকটা ফ্লাইওভার হবে জসিম উদ্দিনে। আমাদের এই ফ্লাইওভার করতে গেলে গাড়ির বর্তমান যে চাপ তাতে যান চলাচল যাতে সহনীয় থাকে সেজন্য আইল্যান্ডে যে গাছগুলো আছে সেগুলো কেটে আইল্যান্ডের ওখানে রাস্তা করবো।'
ঢাকা বন বিভাগ এবং সড়ক ও জনপথের যৌথ কমিশন দীর্ঘদিন গবেষণা করে গাছগুলো কাটার পক্ষে মত দিয়েছেন এমনটা জানালেও, ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজী হননি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, গাছগুলো রেখেই সম্ভব ছিল সড়ক সম্প্রসারণ। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এমন উন্নয়ন টেকসই ও সুষম হবে না।
নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, 'সড়ক ব্যবস্থায় গাছ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একটা পরিণত উপাদানকে সমূলে উৎপাটন করার আগে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল অন্য কোন উপায় আছে কিনা। আসলে সংরক্ষণকারী মানসিকতার থেকে ধ্বংসকারী মানসিকতা আমাদের উন্নয়নে এখন একেবারে গেঁথে গেছে। এই উন্নয়ন আমাদের উন্নয়ন না।'
প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop