মহানগর সময়পুণ্যস্নানে শেষ হলো দুবলার চরের রাস উৎসব

আলী আকবর টুটুল

fb tw
somoy
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরের আলোর কোলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তিন দিনব্যাপী ঐতিহাসিক রাস উৎসব শেষ হয়েছে। শুক্রবার(২৩ নভেম্বর) ভোরে সূর্যোদয়ের পর প্রথম জোয়ারে বঙ্গোপসাগরের নোনা পানিতে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে এই উৎসব শেষ হয়েছে।  
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ জানায়, বুধবার(২১ নভেম্বর)  সকাল থেকে রাস উৎসবকে ঘিরে আগাত পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সাগরদ্বীপ আলোরকোল। আলোরকোলে রাস উৎসবে আগতদের যাতায়াতের জন্য সুন্দরবন বিভাগ ৮টি রুট নির্ধারণ করে দেয়।
এর মধ্যে শরণখোলা রেঞ্জের বগী স্টেশন-বলেশ্বর-সুপতি স্টেশন-কচিখালী-শেলারচর হয়ে আলোরকোল এবং শরণখোলা স্টেশন-সুপতি স্টেশন ও শেলারচর হয়ে আলোরকোলে পৌঁছায় পূণ্যার্থী ও পর্যটকরা। প্রত্যেক পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের তিন দিন সুন্দরবনে অবস্থানের জন্য ৫০ টাকা, নিবন্ধিত ট্রলার ২০০ টাকা এবং অনিবন্ধিত ট্রলারে ৮০০ টাকা রাজস্ব ধরা হয়।
মোংলা থেকে নদীপথে বঙ্গোপসাগর পাড়ের সুন্দরবনের দুবলার চরের দূরত্ব প্রায় দেড়শ নটিক্যাল মাইল। প্রতি বছর হিন্দু সম্প্রদায় ছাড়াও বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণের হাজার হাজার মানুষ দুবলার চরের আলোরকোলে জড়ো হয়ে রাস উৎসবে মিলিত হয়। বিধাতাকে সন্তুষ্টি ও কৃপা লাভের আশায় সেখানে রাতভর চলে পূজা-অর্চনা, কীর্তন, গানসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। এ সময় পুণ্যার্থীরা ফানুস উড়িয়ে, শঙ্খ বাজিয়ে ও মন্ত্রপাঠসহ আরাধনা করে থাকে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা মনে করে, তাদের দেবতা শ্রীকৃষ্ণ এখানে এসে পুণ্যস্নান করেছিলেন। তাই বহু বছর ধরে তারাও তা করে আসছে। ধর্মীয় ভক্তি শ্রদ্ধায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন গত প্রায় দুই যুগ ধরে জাঁকজমকভাবে পালন করে আসছেন দুবলার চরের এই রাস উৎসব। উৎসবটি মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হলেও এটি এখন সব ধর্মের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান জানান, পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের পাশাপাশি নৌবাহিনী, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশের পাশাপাশি বনরক্ষীরাও নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া, কন্ট্রোল রুমে সার্বক্ষণিক একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তদারকির দায়িত্বে পালন করেন। এবার আলোরকোলে নারী পূণ্যার্থীদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য আলাদা শেড ও পর্যাপ্ত টয়লেট তৈরি করা হয়।
বঙ্গোপসাগর উপকূলে সুন্দরবনের দ্বীপ দুবলরা চর  আলোরকোলে আড়াই শত বছরের বেশি সময় ধরে নভেম্বর মাসের রাস পূর্ণিমায় সনাতন হিন্দুরা এই রাস উৎসব পালন করে আসছে। প্রথম দিকে এই উৎসবের কোনও নিয়ন্ত্রন বা আইনি নিয়মনীতি মানা হতো না। ৭৫ সালের পর বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং সুন্দরবনে মৎস্যজীবীদের সংগঠন দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি এবং মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের সাবসেক্টর কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে রাস মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
তবে, জিয়াউদ্দিনের মৃত্যুর পর গত দুই বছর ধরে বন বিভাগের মাধ্যমেই এই উৎসব পালিত হচ্ছে। প্রতিবছর এখানে দেশি-বিদেশি লক্ষাধিক লোকের মিলনমেলায় পরিণত হয় সুন্দরবনের তিন দিনের রাস উৎসব।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop