ভ্রমণঘুরে আসুন অতিথি পাখিদের রাজ্য থেকে (ভিডিও)

সাব্বির সামি

fb tw
ঘুমকাতুরে শীতের সকালে যদি আপনি ঘুমকে বিসর্জন দিয়ে রওয়া করতে পারেন আমাদের সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,তাহলে আপনার জন্য দিনটি হতেও পারে আপনার জীবনের অন্যতম সেরা একটি দিন। একা,বন্ধুদের সঙ্গে কিম্বা পুরো পরিবার মিলে ঘুরে আসতে পারেন মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অতিথি পাখিদের রাজ্য থেকে। তবে আপনি এই সুযোগটি পাবেন মূলত প্রতিবছরের ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকতেই আপনাকে অভ্যর্থনা জানাবে নাম জানা-না জানা অসংখ্য পাখির কলকাকলি। আপনার জন্য মূল আকর্ষণ অপেক্ষা করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ট্রান্সপোর্ট চত্বর’-এ। এ চত্বরের সুরক্ষিত লেক থেকে দেখবেন চারদিকে পাখিদের কলরব উঠেছে। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি শব্দ করতে করতে উড়ে যাচ্ছে এক লেক থেকে অন্য লেকে। পাখিদের আচরণ দেখে মনে হবে তারা যেন কোন বিজয় উৎসব মেতেছে।
ভাগ্য ভালো থাকলে আপনি দেখা পাবেন আকাশে অথবা লেকের পানিতে পাখিদের খুনসুটি। চোখের নিমেষে পাখিটির মাছ শিকারের দৃশ্য। আপনি দৃষ্টি ফেরাতে পারবেন না ঝাঁক ঝাঁক পাখির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে।
তারা কখনো আপন খেয়ালে পানিতে ডুবছে তো ফুড়ুত করে উড়াল দিচ্ছে আকাশে, কেউ আবার পালকের ভেতর মুখ গুঁজে পোহায় মিষ্টি রোদ। এ দৃশ্য উপভোগ করতে রাজধানীসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রকৃতি ও পাখি প্রেমী মানুষেরা। এখানে কেউ পাখি দেখে, কেউ প্রকৃতির কোলে অলস সময় কাটায়। কেউবা রং তুলিতে এঁকে চলেন প্রকৃতি ও পাখির ছবি।
 
এগুলো আসলে পরিযায়ী পাখি। আসলে বিশ্বে অনেক প্রজাতির পাখি আছে যারা বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় অন্য দেশে চলে যায়। কিছু কিছু পাখি তাই প্রতিবছর ২২ হাজার মাইল পথ অনায়াসে পাড়ি দিয়ে চলে যায় দূরদেশে। উত্তর মেরু অঞ্চলের এক জাতীয় সামুদ্রিক শঙ্খচিল প্রতিবছর এই দূরত্ব অতিক্রম করে দক্ষিণ দিকে চলে আসে। বরফ শুভ্র হিমালয় এবং হিমালয়ের ওপাশ থেকেই বেশির ভাগ অতিথি পাখির আগমন ঘটে। এ ছাড়া ইউরোপ, দূরপ্রাচ্য (যেমন সাইবেরিয়া) থেকেও এসব পাখি আসে। এরা কিছু সময় পর আবার ফিরে যায় নিজ দেশে পাখিগুলোকে আদর করে সবাই ডাকে অতিথি পাখি!
শীতকালে বাংলাদেশের অনেক জায়গায় এই ‘অতিথি’ পাখিদের আনাগোনা দেখা যায়, তার মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসও একটি। ডাঙাবাসী কিংবা জলচর—দুই ধরনের পাখিরই দেখা মেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ডানায় ভর করে উড়ে আসা এই পাখিগুলোর নামও ভারি বাহারি। পাতিসরালি, বড় সরালি, পাতারি, ফ্লাইক্যাচার, গার্গেনি, পান্তামুখী, পচার্ড, ছোট জিরিয়া, মুরগ্যাধি, কোম্বডাক, খয়রা, বামুনিয়া হাঁস, লাল গুড়গুটিসহ তাদের যে কত নাম!
তবে একটি বিষয় আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। পাখি দেখতে গিয়ে আপনি পাখিদের বিরক্ত করতে পারবেন না। শব্দ করা, ঢিল ছোঁড়া, খাবার দেয়া ও পরিবেশ নোংরা না করার বিষয়টি আপনাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট না পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে অতিথি পাখিদের আগমন।
পাখি দেখার পালা শেষে একটু ক্লান্ত আপনি? কোন চিন্তা করতে হবে না আপনাকে। আশেপাশের দোকান ও ভ্রাম্যমাণ বেশকিছু দোকানে শীতের পিঠা পুলিতে মন ভরে যাবে আপনার। সঙ্গে চা, কফি চিপস, আইসক্রিমসহ অন্যান্য খাবারও পাবেন বেশ কম দামে। আর জাহাঙ্গীরনগরে আসলে আপনি দুপুরের খাবারটির স্বাদ নিতে ভুলবেন না। খুবই কম দামে আপনি এখান থেকে বিভিন্ন মাছ, মাংসসহ প্রায় ৪০/৫০ ধরনের ভর্তার স্বাদ নিতে পারেন।
এরপর সুন্দর একটি দিনের মজার কিছু স্মৃতিকে সঙ্গী করে ফিরে যেতে পারেন যার যার গন্তব্যে।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop