মহানগর সময়ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যে কৃষিজমি হয়ে যাচ্ছে আবাসন প্রকল্প

রাশেদ বাপ্পী

fb tw
রাজধানীর আশপাশে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়া ও প্রশাসনের নীরবতায় হাজার হাজার একর কৃষি ও জলাভূমি ভরাট করে চলছে অবৈধ প্লট বাণিজ্য। এতে একদিকে যেমন সর্বস্বান্ত হচ্ছেন প্রকৃত জমির মালিক অন্যদিকে চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে প্রতারিত হচ্ছেন প্লট ক্রেতারা। ভূমিদস্যুদের এই দৌরাত্ম্যের জন্য রাষ্ট্রীয় অবহেলাকে দায়ী করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ নগরপরিকল্পনাবিদের।
নিজের জমি হারিয়েছেন অনেক আগেই। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে চলছিলো সংসার। তবে সম্প্রতি সেখানেও লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে আবাসন কোম্পানির মালিকদের।
চারদিকে বিস্তীর্ণ বালুর রাজ্য, মাঝখানে একখণ্ড জমি। আর তাতেই মন-প্রাণ সপে ফসল চাষে ব্যস্ত কৃষক। প্রায় ৩০ বছর ধরে নিজের এই জমিতে ফসল ফলালেও সম্প্রতি তা বালু দিয়ে ভরাট করেছে আবাসন কোম্পানি। প্রতিবাদ করতে গিয়ে শিকার হতে হয়েছে নির্মম নির্যাতনের। এমনই বাস্তবতায় অসহায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার অধিকাংশ কৃষক ও জমির মালিক।
তারা বলেন, এইখানে যে স্কুল আছে তার পাশ থেকে সব বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। সাইনবোর্ড দিয়ে পুরো দখল করে নেয়া হচ্ছে। এক দুই বছর পরে বাধ্যতামূলক বিক্রি করতে হচ্ছে।  
শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, রাজধানীর কাছে ও সহজ যাতায়াতের সুবিধা কাজে লাগিয়ে গাজীপুর-মুন্সিগঞ্জ, কেরাণীগঞ্জে গড়ে উঠছে একের পর এক নাম সর্বস্ব আবাসন প্রকল্প। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনুমোদন না থাকলেও প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অন্যের জমি দখল ও জলাশয় ভরাটের মহোৎসবে নেমেছে কোম্পানিগুলো।
স্থানীয়রা বলেন, বড় বড় নেতাদের সহায়তায় অল্প একটু কিনে বাকিটা জোর করে দখল করা হচ্ছে। কেউ কিছু বলতে পারে না। বললে মেরে ফেলবে।  
সম্প্রতি হাইকোর্ট গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের ২২টি আবাসন প্রকল্পের ভরাট কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও, আসছে না কোন স্থায়ী সমাধান। নগরবিদরা মনে করেন, এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে অচিরেই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে, আগামীতে জলাবদ্ধতা ও যানজট মুক্ত রাজধানী গড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।
নগরপরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, আদালতে রায়ের পর রায় হচ্ছে কিন্তু সরকারের না দেখার ভান করার কারণে মূল্যবান ভবিষ্যতের স্বপন হারাচ্ছি।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ৫ বিঘা জায়গা কিনে ২০ বিঘা জায়গা ভরাট করা কোন ধরনের নির্দেশনা ছাড়ায় এগুলো হচ্ছে। আমরা এসকল বিষয় খতিয়ে দেখবো।
আদালতের নির্দেশের পর এসব এলাকায় মাটি ভরাট বন্ধ থাকলেও অবৈধ সাইনবোর্ডও সরিয়ে ফেলার দাবি এলাকাবাসীর।
আবাসন প্রকল্পগুলো অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিবেশবাদী সংগঠন এবং আদালত যতটা সোচ্চার ঠিক ততটাই নির্বিকার স্থানীয় প্রশাসন। আর এই  সময় যত গড়াচ্ছে দখল হচ্ছে কৃষি জমি। ভরাট হচ্ছে জলাশয়।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop