পশ্চিমবঙ্গমতুয়া প্রধানের শেষকৃত্যানুষ্ঠান নিয়ে জটিলতা

সুব্রত আচার্য

fb tw
somoy
প্রায় দুই কোটির বেশি মতুয়া ভক্ত রয়েছে। এক সময়ের পূর্ব বাংলা তথা ফরিদপুরের ওড়াকান্দি থেকে আসা নমঃ শুদ্র সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষের এই সংঘের প্রধান উপদেষ্টা বড়মা বীণাপাণি ঠাকুর। তিনি মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাতে কলকাতার পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
রাতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে ছুটে যান তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। সেখানেই তিনি ঘোষণা করেন বুধবারই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মতুয়া প্রধানের শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। কিন্তু বুধবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যা পর্যন্তও বড়মার মরদেহ ঠাকুরনগরে ঠাকুর বাড়ির নাটমন্দিরে রাখা ছিল ভক্তদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।
ঠাকুর বাড়ির মধ্যে দুটি রাজনৈতিক ধারার একটি পশ্চিমবঙ্গের শাসক তৃণমূলের অংশ থেকে দাবি করা হয়েছিল, বুধবারই বড়মার দাহ করা হবে। কিন্তু অন্য অংশ কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির অংশ থেকে পরিস্কার তা নাকজ করে দেওয়া হয়। মূলত প্রধান দুটি রাজনৈতিক মতাদর্শে বিভক্ত হয়ে যাওয়া কোটি পরিবারের মতুয়া সংঘের প্রধানের শেষকৃত্যানুষ্ঠান নিয়ে তীব্র মতরোধ শুরু হয়েছে। 
বড়মার বড় পুত্রবধূ তথা তৃণমূল সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর বলেছেন, ভক্তরা চেয়েছেন বুধবারই মাকে দাহ করতে। দেহ বাড়িতে রেখে পচিয়ে ফেলা কোনো সন্তান দেখতে পারেন না। তাই বুধবারই দাহ করার পক্ষে তিনি। 
যদিও বড়মার ছোট ছেলে মঞ্জল কৃষ্ণ ঠাকুর এবং তার ছোট ছেলে বিজেপি নেতা শান্তুনু ঠাকুর পরিস্কার করে বলেছেন, হাজার হাজার ভক্ত দেশ বিদেশ থেকে আসছেন। তাদেরও বড়মা কে শেষ দেখার অধিকার আছে। সেই ভক্তরাই ঠাকুরবাড়ির প্রাণ। তাই বৃহস্পতিবার বড়মার শেষকৃত্যানুষ্ঠান করা হবে।
এদিকে, বড়মার মৃত্যু নিয়ে বুধবারই বিস্ফোরক অভিযোগ ‍তুলেছিলেন বড়মার নাতি শান্তুনু ঠাকুর। তিনি তার তৃণমূলের জেঠিমার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বড়মাকে খুনের অভিযোগ ‍তুলেছেন। শান্তুনু মনে করেন, শীতকালীন অধিবেশনের উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব বিলে মমতা ব্যানার্জির দলের সমর্থন চেয়ে মমতাকে চিঠি দিয়েছিলেন বড়মা। সেই চিঠিটি জাল বলে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছিলেন। বড়মা বেঁচে থাকলে সেটা প্রমাণ হয়ে যেতে যে ওই চিঠিতে তারই স্বাক্ষর ছিল। তাই তাকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে।
যদিও এই অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল সাংসদ ও তৃণমূল দলীয়ভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে বিজেপি নেতা এবং এক সময়ের মমতার ঘনিষ্ঠ মুকুল রায় বলেছেন, শান্তুনু যে দাবি করেছেন সেটা ওর ব্যক্তিগত। ওদের পরিবার থেকে এই দাবি তুলতেই পারেন শান্তুনু। 
গত ২ ফেব্রয়ারি ঠাকুরনগরের বড়মার বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বড়মা তথা মতুয়া ভোট পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণের বড়সড় প্রভাব ফলতে পারে। সে কারণেই প্রধান দুটি দলই চায় মতুয়ারা তাদের সংঘে থাকুন। আর তাই গত কয়েক বছর মমতা ব্যানার্জি  ঠাকুর নগরের ঢালাও উন্নয়ন করেছেন। এমন কী মতুয়া ধর্ম প্রচারের সরকারি বিভিন্ন তহবিল থেকেও সুবিধা দেওয়া হয়েছে। 
একইভাবে বিজেপি প্রতিশ্রুতি করেছে, মতুয়াদের ভারতের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হবে। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের সিংহভাগই দেশভাগ এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষ। তাই তাদের নাগরিকত্ব ইস্যুটাই তাদের কাছে সব চেয়ে বড় ইস্যু।
আর বড়মার মৃত্যুর পর এসব বিষয়ে ঠাকুরবাড়ির অভ্যন্তরে যেমন তুমুল বির্তক শুরু হয়েছে তেমনই প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যেও চলছে নানা ধরনের বিশ্লেষণ। 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop