ksrm

মুক্তকথাআমা‌দের নুসরাত ও লাল সবু‌জে কা‌লোর ছোঁপ

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
লাল, সবুজ আর আকাশী নীল। এই রঙগু‌লো একে অন্যের সহিত কম বেশী মি‌শিয়া মি‌শিয়া তৈরি ক‌রে আরো অসংখ্য বাহারি রঙ। আবার এই সমস্ত রঙ যখন এক সা‌থে সমান পরিমাণে পরস্পরে মি‌শিয়া যায় তখন তাহা আর রঙিন থা‌কে না, তাহা হ‌ইয়া যায় ‌কেবলি নিকষ কা‌লো। আরো এক‌টি রঙ আছে, যা‌হাকে ব‌লা হয় সাদা রঙ। আস‌লে এইটি কোন রঙেরই রূপ নহে ইহা আস‌লে সম্পূর্ণ রঙহীন। যে ফুল সূর্য হই‌তে কোন রঙই নেয় না সেই ফুল‌টিই হয় সাদা ফুল।
আমরা বোধক‌রি সৃ‌ষ্টিকাল হই‌তেই রঙ প্রিয় প্রজাতি। তাই সব‌ কিছু‌তেই রঙ মাখা‌ইতে দক্ষতাও আমরা অর্জন করিয়াছি অনেক। রঙ মা‌খি‌য়া কখ‌নো সবুজ‌কে ক‌রিতে পা‌রি হলুদ, আবার কখ‌নো সাদা‌কে ক‌রিয়া দি‌তে পা‌রি নিকষ কা‌লো। কতটা রঙ মাখা‌ইলে নি‌জে‌কে অন্যের চাই‌তে বেশী উজ্জ্বল দেখাইবে তাহাও আমরা উপযুক্ত পরিমাণে জা‌নিয়া গিয়া‌ছি।
এইগু‌লো কি লিখি‌তে‌ছি ছাইপাঁশ। আস‌লে আমি নুসরাত‌কে লইয়া কিছু লিখি‌তে ইচ্ছা ক‌রিয়া‌ছিলাম, কিন্তু কিছু‌তেই মুল প্রসঙ্গে আসি‌তে পা‌রি‌তে‌ছি না। কি এক অপরাধ‌বোধ আমা‌কে কোনভা‌বেই সহজ হ‌ইতে দি‌তে‌ছে না। তাহার উপ‌রে নুসরাত‌কে কি স‌ম্মোধন ক‌রিয়া লিখ‌‌িবো তাহাও বুঝ‌িতে পারি‌তেছি না। একবার বোন স‌ম্মোধন ক‌রিয়া লিখ‌তে যাইয়া নি‌জে‌কে প্রতারক ম‌নে হ‌ইলো তাই ফি‌রিয়া আসিলাম। ম‌নে হ‌ইলো, আমি য‌দি ভাই-ই হইতাম তাহা হ‌ইলে যে‌ইদিন এক নবব‌র্ষের অনুষ্ঠানে ঢা‌বি'র সাম‌নে আর এক বোন বাঁধন‌কে বিবস্ত্র ক‌রিয়াছিল কতিপয় নপুংসকেরা, সে‌ইদিনতো আমি বাঁ‌ধ‌নের ভাই হ‌ইতে পা‌রি নাই। বরং আমিও সে‌ইদিন রঙ উৎসব দেখিবার ম‌তো তা‌কাইয়া তাকাইয়া উপ‌ভোগ ক‌রিয়া‌ছিলাম কিভা‌বে ওই নপুংসকেরা স্বল্পব‌স্ত্রের অপরাধী নারী ব‌লিয়া নানা রঙ মা‌খাইয়া নির্যাতিত বাঁধনেরই ফাঁসি দাবী ক‌রিয়া‌ছিল। ‌সে‌ইদিন আমি পুরুষ সা‌জিয়া ঘ‌রে ব‌সিয়া র‌ঙের উৎসব দে‌খিয়া‌ছিলাম। তাই‌তো, অদ্যব‌ধি আরও সোৎসা‌হে চলি‌তে‌ছে গণনাহীন বাধঁ‌নের প্র‌তি‌নিয়ত বস্ত্রহর‌নের উৎসব। অথচ, সে‌ইদিন য‌দি আমি বাঁধ‌নের ভাই হ‌ইতে পার‌িতাম আর তাহার সাম‌নে দাড়াইয়া বাঁধ স‌া‌ধি‌তে পা‌রিতাম তাহা হই‌লে হয়‌তো আজ‌কে  নুসরাত‌কে লইয়া লিখ‌‌িতে বস‌‌িতে হ‌ইতো না। তাই ভাই ভা‌বি‌তে নি‌জের কা‌ছে যারপর নাই লজ্জা বোধ হই‌তে‌ছে।
আবার ভা‌বিলাম নি‌জে‌কে না হয় মানুষ ভা‌বিয়া ওর জন্য দুই-চারিটা লাইন লিখ‌‌িতে চেষ্টা ক‌রি। কিন্তু সেইখা‌নেও বি‌বেক আমা‌কে তা‌চ্ছিল্য ক‌রি‌তে‌ছে। ম‌নে হইতে‌ছে যে‌ইদিন আমা‌দের নিরাপত্তা রক্ষ‌কেরই গা‌ড়ি‌তে রাতভর উপর্যুপ‌রি ধ‌র্ষিত হ‌ইয়া একজন ইয়াস‌মিন অসহ্য যন্ত্রনায় ছটফট ক‌রিয়া মৃত্যু‌কে আলিঙ্গন ক‌রিয়া‌ছিল সে‌ইদিনও আমি মানুষ না সা‌জিয়া পুরুষ সা‌জিয়া যাহারা রক্ষা ক‌রি‌বেন সেই তাহা‌দেরই নগ্ন উম্মত্ততা গি‌লিয়া খাইলাম আর নষ্টা নারীর রঙ মা‌খাইয়া নি‌জেরা ঋষী সাজিবার উৎসব দেখিয়া আনন্দ উপ‌ভোগ ক‌রিলাম। তাই‌তো আজও তুমুল উদ্দ‌মে চল‌‌িতেছে ‌সম্ভ্রমহারা বিচারপ্রার্থীর পুনর্বার সম্ভ্রমহানীর বিরামহীন মহাযজ্ঞ। ধর্ষ‌কের স‌হিত রক্ষককু‌লের নিবিড় সক্ষ্যতা। নি‌জে‌কে মানুষ ভা‌বিবার দু:সাহস দেখা‌ইতে গি‌য়ে সেইখান হই‌তেও তাই ফি‌রিয়া আস‌‌িতে হ‌ইয়া‌ছে।
নুসরাত‌কে লইয়া লেখিবার ধৃষ্টতা দেখাইবার ম‌তো ম‌নোবল আজ আর হ‌ইবেনা আমার। তাহারপরও একটা ভয় কিছু‌তেই মন হই‌তে তাড়া‌ইতে পাররি‌তে‌ছিনা। কেব‌লি ম‌নে হ‌ইতে‌ছে, য‌দি পরজন‌মে নুসরা‌তের স্ব‌র্গের জানালা বরাবর বৃহৎ নর‌কের কোন এক‌টি দরজা মু‌খোমু‌খি প‌ড়িয়া যায় তাহা হই‌লে সে‌ইদিন হয়‌তো এইসব ‌সিরাজ‌দৌলা গং‌দি‌গের অগ্নিকুন্ডের নানা র‌ঙের ফুল‌কি নুসরা‌তের পু‌ড়িয়া যাওয়া ম‌নকে নানা র‌ঙে সাজা‌ইয়া দি‌বে। সকল সিরাজ‌ বা তাহা‌দের সহ‌যোগীদের লালসার জিহ্ববা বারংবার খ‌সিয়া পড়িবার দু:সহ চিৎকার এহকা‌লের নিশ্বব্দ যন্ত্রনাকে সে‌দিন ‌নিশ্চই ছ‌ন্দে ভরাইয়া দি‌বে। কিন্তু আমার ভয় হই‌তে‌ছে, সে‌ইদিন য‌দি আমি নুসরা‌তের সাম‌নে প‌ড়িয়া যাই আর নুসরাত য‌দি আমা‌কে সে‌ইদিন আমার আজকের নি‌র্লিপ্ততার জন্য মু‌খোমু‌খি দাড় ক‌রাইয়া দেয় তখন আমার জায়গা কোথায় হ‌ইবে? ও আবার আমার আজ‌কের রঙ খেলা দেখিবার প্র‌তি‌শোধ লইবে না‌তো?
নুসরা‌তদের আত্মাহু‌তির পু‌র্বেই য‌দি আমি মানব না হই, তাহ‌া হইলে নুসরাত‌দের আত্মাহু‌তির প‌রে মানববন্ধন ক‌রিয়া ‌সে‌ইদি‌নের বিচার‌কের সাম‌নে দাড়াইবার দু:সাহস আমার কোনম‌তেই হ‌ইবেনা। হয়‌তো যুগ যু‌গের ধর্ষক সিরাজ‌ু‌দৌলা আর তাহা‌দের সহ‌যোগী‌দের আগু‌নের লাক‌ড়ি হ‌ইতে হ‌ইবে আমারও।
আর ভাব‌িতে পারি‌তে‌ছি না। এই নির্লজ্জ র‌ঙের খেলার সময় শেষ হইবার পু‌র্বেই বাঁধ সাধ‌িতে হ‌ইবে আমার, নতুন আর এক নুসরাতের আত্মাহু‌তির পু‌র্বেই। আমি নুসরা‌তের স্ব‌র্গের জানালা বরাবর সেই জলন্ত নর‌কের লাক‌ড়ি না হ‌ইয়া বরং কোন এক সু‌যো‌গে এই র‌ঙের কারবা‌রি‌দের সহিত সম্মুখ যু‌দ্ধে নুসরা‌তের ভাই প‌রিচ‌য়ে আত্মাহু‌তি দি‌তে চাই। আমি মানুষ হইয়া ম‌রি‌তে চাই।
সৈয়দ মইনুজ্জামান (লিটু)
‌ লেখক ও রাজনী‌তি‌বিদ

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop