ksrm

বাংলার সময়শিক্ষার্থীরা বইখাতাসহ খালে পড়ে আর ওঠে, তবুও...

আলী আকবর টুটুল

fb tw
somoy
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের দাউরার খালের উপর এক যুগেও নির্মাণ হয়নি কোনো সেতু। সিডরে কাঠের পোলটি ভেঙে যাওয়ার পর সুপারি গাছ ও বাঁশ দিয়ে স্থানীয়ভাবে সাঁকো তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে সহস্রাধিক মানুষকে।
এমনকি এই সাঁকো পারাপার থেকে বঞ্চিত হয়নি ছাগল ও হাঁস মুরগি। 
একটি সেতুর জন্য বারবার জনপ্রতিনিধি ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরলেও কোনো উপকার হয়নি স্থানীয়দের।
উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদী সংলগ্ন সিংজোড়-চন্ডিপুর গ্রামের বুক চিরে বয়ে গেছে দাউরার খাল। দাউড়ার খালের পাশেই রয়েছে সিংজোড়-চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিংজোড়-চন্ডিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাউরার (সেলিমগড়) বাজার। গ্রামবাসীর চলাচল ও যোগাযোগ রক্ষার জন্য খালের উপর একটি কাঠের পোল ছিল। 
২০০৭ সালে ভয়ঙ্কর সিডরের সময় ভেঙে যায় কাঠের পোলটি। সিডরের পরে এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়নে বাস ও সুপারি গাছ দিয়ে একটি সাঁকো তৈরি করে। সেটিই একমাত্র ভরসা ওই এলাকার বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। 
প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই বিদ্যালয়ের ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী স্কুলে যায়। এছাড়াও প্রতিদিন এলাকার হাজার হাজার মানুষ এ সাঁকো পার হয়। বাধ্য হয়ে ছাগলসহ গবাদি পশু-পাখিও পার করেন এ সাঁকোর উপর দিয়ে।
স্থানীয় বাবুল শিকদার বলেন, সিডরের সময় বলেশ্বর নদীর উপর কাঠের পোলটি ভেঙে যায়। তারপর এলাকার লোকজনের কাছ থেকে সুপারি গাছ ও বাস সংগ্রহ করে সাঁকো তৈরি করা হয়। ওই সাঁকোতে নির্ভর করে চলে আমাদের যোগাযোগ। সম্প্রতি একটি বালুর ট্রলারের ধাক্কায় সাঁকোটি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন পার হতে গেলেই ভয় করে।
সিংজোড়-চন্ডিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামিমা বলেন, সকালে বাড়ি থেকে স্কুলের পোশাক পরে রওনা দিয়ে যখন সাঁকো পর্যন্ত আসি তখন মনের মধ্যে একটা ভয় কাজ করে, যদি পড়ে যাই। তারপরও স্কুলে যেতে হবে তাই ভয়ে ভয়ে পার হই সাঁকোটি।
তামিমা বলেন, স্কুলে আসা যাওয়ার পথে কয়েকবার সাঁকো থেকে পা পিছলে পড়ে আমাদের কয়েক সহপাঠীর বই-খাতা ভিজে গেছে। আহতও হয়েছে।
শুধু তামিমা নয় সুমি, সাকিব, সাজিদ, সাবরিনাসহ অনেক শিক্ষার্থী একইভাবে বলছিল তাদের কষ্টের কথা।
 
সিংজোড়-চন্ডিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এইচ এম আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি নিজেও প্রতিদিন এ সাঁকো পার হয়ে স্কুলে আসি। শিক্ষার্থীদের সাঁকো পার হতে খুব কষ্ট হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় প্রায়শই শিক্ষার্থীরা সাঁকো থেকে পড়ে যায়। দাউরার খালে যদি সেতু হতো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেত।
মুক্তিযোদ্ধা মোজাহুরুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি। এখন জীবনের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। সরকারের কাছে একটাই চাওয়া, মরার আগে দাউরার খালে একটি সেতু দেখে যেতে চাই।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শাহ-ই-আলম বাচ্চু বলেন, এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা শুনে আমি নিজে দাউরার খাল এলাকা পরিদর্শন করেছি। আসলেই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হয় স্থানীয়দের। উপজেলার তহবিলের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ওখানে যাতে সেতু হয় আমি সেজন্য চেষ্টা করব।
বাগেরহাট-৪  (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, দাউরার খালের উপর সেতুর জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে। অচিরেই সেতু নির্মাণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এ কাজের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
বাগেরহাট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহদাত হোসেন বলেন, ওই খাল পর্যন্ত যে কাঁচা সড়ক রয়েছে সেটি পিচ ঢালাইয়ের জন্য প্রকল্প পাস হয়েছে। এরপরেই ওই খালের উপর সেতু নির্মানের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop