ksrm

বাংলার সময়‘এটাতে ওঠ, নইলে গুলি করে মেরে ফেলব’

আবদুল আহাদ

fb tw gp
ভূ-মধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে অচল বোট থেকে বেঁচে আসা মৃত্যুঞ্জয়ী রুবেল। দেশে ফিরে সময় সংবাদের কাছে জানান সাগরে কাটানো তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। তিনদিন সাগরে ভেসে খুব কাছ থেকে দেখেছেন মৃত্যুকে। লিবিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশে দুটি বোটে যাত্রা করলেও ভাগ্যক্রমে রুবেলদের নৌকা অচল হয়ে গেলে সবাই বেঁচে যায়।
রুবেল জানান, লিবিয়া প্রবাসী পাচার চক্রের হোতা পারভেজের কাছে ইতালি যাওয়ার জন্য বন্দি রয়েছে সিলেটের আরও ৫০ জন। তার দাবি, অবৈধ মানবপাচারের সঙ্গে লিবিয়ার সেনা সদস্যরাও জড়িত।
অসুস্থ বাবা-মা, স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া তিন বোন আর ভাইয়ের সংসারে রুবেল বড়। ভাগ্য বদলের আশায় দালালের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। গত রোজায় বিমানে করে বাংলাদেশ থেকে দুবাই-মিশর হয়ে লিবিয়া পৌঁছান রুবেল।
কথা ছিল সিরিয়া থেকে মাছ ধরার নৌকায় তাকে পাঠিয়ে দেয়া হবে স্বপ্নের দেশ ইতালি। কিন্তু সিরিয়ায় নিয়ে অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়। সেখানে চলে অমানবিক নির্যাতন। খেয়ে না খেয়ে এক বছর কাটানোর পর গত ৯ মে তুলে দেয়া হয় ভূ-মধ্যসাগরের রবারের তৈরি বোটে। ২০ জন ধারণ ক্ষমতার নৌকায় তোলা হয় ৫৭ জনকে। উঠতে না চাইলে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেয় দালালরা।
রুবেল আহমদ বলেন, প্রথমে আমাদের কোমর পানিতে দুই ঘণ্টা হাঁটিয়েছে। আমাকে যখন বোটে তোলা হয় তখন জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আমাদের তো শিপে নেয়ার কথা ছিল। তখন তিনি জবাব দেন, এটাতে ওঠ, নইলে গুলি করে মেরে ফেলব।
এক ঘণ্টার ব্যবধানে লিবিয়া থেকে দুটি নৌকা ইতালির উদ্দেশে সাগরে যাত্রা করে। কিছুদূর গিয়ে অপর নৌকাটি ডুবে গেলে সাগরে প্রাণ হারায় সব যাত্রী। তিউনিসিয়া সীমান্তে যাওয়ার পর রুবেলদের নৌকাটিও নষ্ট হয়ে যায়। তারপর টানা তিনদিন সাগরে ভেসে থাকে রুবেলদের নৌকার নারী শিশুসহ ৫৭ যাত্রী। এক পর্যায়ে জেলেদের একটি ট্রলার তাদেরকে উদ্ধার করে তিউনিসিয়া কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করে।
রুবেল বলেন, সাগরে তিনদিন ছিলাম। আমরা মরার জন্য কলেমাও পড়েছি। শেষে জেলেরা আমাদের উদ্ধার করেছে। 
রুবেল জানান, লিবিয়া বিমানবন্দরে নামার পর তাদেরকে গ্রহণ করে সে দেশের সশস্ত্র কিছু সেনা সদস্য। তারা নিজেদের গাড়িতে করে রুবেলদের পৌঁছে দেয় দালালের কাছে।
রুবেল আরও বলেন, পারভেজের কন্ট্রাক্ট সেনাবাহিনীর সঙ্গে। তাদের সঙ্গে তার কথা থাকে, আমাদের লোক আসবে। তাদেরকে এনে পৌঁছে দেয়ার।
ইতালি পৌঁছে দেয়ার আশ্বাসে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বৈরাগীবাজার কাতলীপড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিক মিয়া ৯ লাখ টাকা নেন রুবেলের কাছ থেকে। দালাল রফিকের ছেলে লিবিয়া প্রবাসী পারভেজ মানব পাচার চক্রের মূলহোতা বলে দাবি রুবেলের। সিলেটের ৫০ জন ইতালি যাওয়ার জন্য এখন পারভেজের কাছে বন্দি রয়েছে বলেও তথ্য দেন রুবেল।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
GoTop