বাংলার সময়বাগেরহাটে অকেজো বিশুদ্ধ পানি শোধনাগারগুলো, তীব্র পানি সঙ্কটে স্থানীয়রা

আলী আকবর টুটুল

fb tw
somoy
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বিলকুল গ্রামে ২০০৯ সালে একটি পন্ড স্যান্ড ফিল্টার (পিএসএফ) স্থাপন করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। কিন্তু বছর যেতে না যেতেই নষ্ট হয়ে যায় এর সঙ্গে যুক্ত টিউবওয়েল, ফিল্টার পাইপ ও ট্যাব। এতে পিএসএফটি অকেজো হয়ে পড়ায় পানের জন্য বৃষ্টি ও পুকুরের পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে গ্রামের বাসিন্দারা।
একই অবস্থা জেলায় স্থাপিত অধিকাংশ পিএসএফের। এ কারণে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে পুরো জেলায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও দেখভালের জন্য নির্দিষ্ট লোক না থাকায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। আর জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, বাজেট না থাকায় তারা অকেজো পিএসএফ মেরামত করতে পারছে না।
জানা গেছে, পিএসএফ মূলত পুকুরের পানি শোধন ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে পুকুরের পাশে স্থাপিত একটি ট্যাংকে নলকূপ দিয়ে পানি টেনে তা প্রাকৃতিক উপায়ে বিশুদ্ধ করা হয়। পরে ট্যাংকের নিচে স্থাপিত ট্যাবের মাধ্যমে তা সংগ্রহ করা যায়। সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ১৯৮৪ সালে বাগেরহাট জেলা গঠনের পর থেকে সরকারিভাবে এ ধরনের ২ হাজার ২৫৬টি পিএসএফ স্থাপন করা হয়।
এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫৭, কচুয়ায় ৩৫৭, মোড়েলগঞ্জে ৬৩৪, রামপালে ১০১, শরণখোলায় ৪৭১, চিতলমারীতে ৩৫০, মোংলায় ২৫১, মোল্লাহাটে ৩৫টি পিএসএফ রয়েছে। এর বাইরে বেসরকারিভাবে হাজার খানেক পিএসএফ স্থাপন করা হলেও কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
এসব পিএসএফের বেশির ভাগই স্থাপন করা হয় ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানার পর। তবে নিয়মিত পরিচর্যা না করায় দীর্ঘদিন ধরে এসব পিএসএফের অধিকাংশ অকেজো হয়ে আছে।
বিলকুল গ্রামের নকীব মিজানুর রহমান বলেন, আমার বাড়ির পুকুর পাড়ে স্থাপিত পিএসএফ থেকে আশপাশের শতাধিক পরিবার বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করত। পিএসএফটি নষ্ট হওয়ার পর উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগকে জানালেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। সেই থেকে পিএসএফটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে রয়েছে।
সাংদিয়া গ্রামের মুকন্দ লাল বলেন, 'আমাদের গ্রামে সুপেয় পানি সংগ্রহের কোনো ব্যবস্থা নেই। একটি পিএসএফ ছিল, তাও নষ্ট হয়ে গেছে। তাই ৪০ টাকা করে ২০ লিটার পানি কিনে পান করে জীবন বাঁচাচ্ছি।
নরেন্দ্রপুর গ্রামের মজিদ শেখ বলেন, আমাদের এখানে একটি পিএসএফ ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এটি অকেজো। জনপ্রতিনিধি বা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কেউ এসে খোঁজও নেয় না। খুব পানির কষ্টে আছি। বৃষ্টি ও পুকুরের পানি ফিটকিরি দিয়ে খেতে হচ্ছে।'
শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের ওহাব আলী সারেং বলেন, 'সুন্দরবনসংলগ্ন এই গ্রামে নলকূপের পানি পান করা যায় না। একটি পিএসএফ দীর্ঘ তিন বছর ধরে নষ্ট থাকায় পানি ফুটিয়ে খেতে হচ্ছে।'  
রামপাল উপজেলার ভোজপাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, 'ভোজপাতিয়া, পেড়িখালী, রামপাল সদর, মল্লিকেরবেড়, বাঁশতলী ইউনিয়নে সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে। এসব এলাকায় স্থাপিত পিএসএফগুলো অকার্যকর। এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখলে পানির সংকটের সমাধান হতে পারে।'  
এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম শামীম আহমেদ বলেন, 'জেলার নয় উপজেলায় সরকারিভাবে ২ হাজার ২৫৬টি পিএসএফ রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক চালু রয়েছে। বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সংস্থা সিডরের পর প্রায় সহস্রাধিক পিএসএফ স্থাপন করেছিল। সেগুলোরও বেশির ভাগ অকেজো রয়েছে।'
তিনি বলেন, ' যারা তত্ত্বাবধায়ক ছিল, তারা দেখভাল না করার কারণে এসব পিএসএফ নষ্ট হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত তহবিল ও লোকবল সংকটের কারণে এসব পিএসএফ আমাদের দপ্তরের পক্ষ থেকে দেখভাল করা সম্ভব নয়।'

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop