মুক্তকথাসাকিব যে একটাই!

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটার পর ফেসবুকে কোনো স্ট্যাটাস দেই নি। যারা অন্য ম্যাচগুলোতে সরব ছিলেন, তাদেরও দেখলাম চুপ। কারণটা তো খুব সহজ-অধিক শোকে পাথর!
শেষের দিনের স্মৃতিটা মনে নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করতে চাইলে তাতে শুধু হতাশা আর আক্ষেপই মিশে রবে। এত অপ্রাপ্তির এক ম্যাচেও কিন্তু উজ্জ্বল আমাদের সাকিব।
হ্যাঁ আমাদের। শুধুই আমাদের। বাংলাদেশের জান। বাংলাদেশের প্রাণ। সাকিব আল হাসান।
আহা! সাকিব স্তুতি লিখতেই কতোই না ভালো লাগছে। কিন্তু বিশ্ব মিডিয়ার সাথে গলা মিলিয়ে প্রশংসা তো সবাই করতে পারে। আমরাও করছি। নিজের দলে একটা সাকিব না থাকার প্রচ্ছন্ন আক্ষেপও দেখিয়েছে কোনো কোনো গ্রেট ক্রিকেটার।
আর আমরা? বলতেই পারেন, আমরাও বা কম কি সে! সাকিব বন্দনাই তো করছি! হ্যাঁ, আমরা করছি, তবে অতীতটাকে মনে করলেই বুঝবেন আমরা সবাই সাকিবকে কিভাবে এবং কতটা মূল্যায়ন করেছি। আজ যে বাংলাদেশ সাকিবের প্রশংসায় টইটুম্বুর, গতকাল ছিল একটু হলেও অন্যরকম।
বেয়াদব। শব্দটা মনে পড়ে? এই সাকিব আল হাসানকেই আমরা অনন্য এই শব্দটা উপহার দিয়েছিলাম কোনো এক কালে। তার বউ-বাচ্চা নিয়ে ট্রল করতেও ছাড়ি নি। আর এবার আইপিএল তো সাকিবকে একরকম ইগনোরই করেছে। ডেকে নিয়ে বসিয়ে রাখায় একটুও কি মন ভাঙে নি সাকিবের!
দলের সাথে টিম ফটোসেশনে না থাকা নিয়ে আমি নিজ চোখেই তো কমপক্ষে শ’খানেক স্ট্যাটাস দেখেছি সাকিবকে ভর্ৎসনা করে। সেই মানুষগুলোর ওয়ালে ওয়ালে ঘুরছে সাকিবের ৮ ম্যাচের সাফল্য উপাখ্যান।
বলবো না সাকিবের দোষ ছিল না কোনো কালে। ক্রীড়া সাংবাদিকতা যেহেতু করেছি, এ বিষয়ে কিছু অভিজ্ঞতা তো আছেই। গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচের আগে প্রাকটিস সেশন সাকিব মিস করেছিলেন অ্যাডের ফটোশুটের  কারণে। সেদিন আমিও টেলিভিশন প্রতিবেদনে খোঁচা মেরে বলেছিলাম, ‘দলের বিপদে হাল ধরেন সাকিব। প্রাকটিস সেশনে তো দলের কোনো বিপদ নেই, তাই হয়তো সাকিব আসেন নি’।
সম্প্রতি, সাকিবের স্ত্রীর দেয়া সংবাদমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্য করে দেয়া স্ট্যাটাস নিয়েও তো কম হলো না। দু’ভাগে ভাগ হয়ে ফেসবুক লড়াইয়ে নেমেছিলেন নেটিজেনরা। আর কয়েকবছর আগের হাসি-তামাশা ভুলে গেলেন? ওই যে, সাকিব যখন রেস্টুরেন্ট খুললো, কিংবা রাজনীতিতে আসার আভাস পাওয়া গেল?
কেন সাকিবময় সুবাতাসের মধ্যে দূষণীয় আলোচনা করছি? খুব জরুরি বলেই হয়তো!
একটা ব্যাপার মাথায় ঘুরছে। এই ব্যাপারটা শুধু বাংলাদেশিদের, নাকি বাকি বিশ্বের সবার, সেটা গবেষণার বিষয়। আমরা পেশাগত হতে পারি নি। পারছি না। ক্রিকেটার সাকিবের সাথে ব্যক্তি সাকিবকে মিশিয়ে একটা অপাচ্য খিচুড়ি তৈরি করি সবসময়। সেটা শুধু সাকিব কেন, সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
সাকিব আল হাসান একজন ক্রিকেটার। বিশ্বমানের। বিশ্বমানটা এসেছে ক্রিকেটার হিসেবেই। অন্য বিবেচনাগুলো এখানে না আসারই কথা। আমরা আনি। কার সাথে সেলফি তুললো, কোথায় খেতে গেল, বিদেশ থেকে বসে কি ভিডিও পোস্ট করলো, সবকিছুর দিকেই আমাদের তীক্ষ্ণ নজর থাকে। সমালোচনা করতে পিছপাও হই না আমরা।
হাঁড়ির খবর নেয়াটা আমাদের অভ্যাস। কি পাঞ্জাবি পরে ঈদ করছেন অমুক, কোন খাবারটা ভালো খান তমুক এসব জানার মধ্যেও একটা সুখ খুঁজে পাই আমরা। এসব নিয়ে বিস্তর প্রতিবেদনও ছাপা হয় হরহামেশা। অথচ, অমুক ক্রিকেটার কি ব্যাট দিয়ে খেলেন, ক্রিকেটের জগতে তার স্ট্রাগল কি, সেগুলো জানতে বা জানাতে আমাদের রুচি কম। এই সেদিনই তো আমাদের এক উপস্থাপিকাকে দেখলাম ভিনদেশের এক উপস্থাপিকার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। এতে ক্রিকেটের কী আসে যায়! জবাব নেই। আমরা এমনই।
তাই, বিশ্বে সাকিব একটাই হোক, আর সেটা আমাদেরই হোক; সাকিবকে থাকতে হবে সতর্ক। আমরা আজ তোমাকে হৃদয়ে বসিয়েছি, কাল ছুঁড়ে ফেলে দিতে দ্বিধা করবো না। যদি তাই না হতো, কাল বারবার ক্যামেরায় দেখানো মাশরাফির নি ক্যাপ পড়া হাঁটুর ছবি দেখে ধারাভাষ্যকারদের করা হৃদয় নিংড়ানো মন্তব্য আমাদের ছুঁয়ে যেত। সারাজীবনের এত এত দেশপ্রেম আর অবদান এক ঝটকায় ভুলে গিয়ে হাস্যরস করতাম না।
সাকিবকে নিয়ে এ ভয়টা আরও বেশি। ব্যক্তি মাশরাফির গ্রহণযোগ্যতা আকাশছোঁয়া হওয়ার পরেও যদি তাকে বর্তমানের নোংরামি সহ্য করতে হয়, তাহলে সাকিবের জন্য তো অপেক্ষা করছে আরও ভয়াবহ কিছু। হোক না টানা পাঁচ ম্যাচে ফর্ম খারাপ। আজকের সাকিব ভক্তদের অনেকেই ঝরে যাবেন। উল্টোরথে, উল্টোপথে হাঁটবেন।
নিজদেশের ক্রিকেট গ্রেটদের কি মর্যাদা অন্যান্য দেশ দিচ্ছে, একটু তাকিয়ে দেখুন। ব্র্যাডম্যান, শচীন, ওয়াসিম আকরাম আমাদের নেই, সেটাই বলবেন তো? বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার আছে, তাকে তো অন্তত ক্রিকেটার হিসেবে ন্যূনতম সম্মানটা দিন, একদিন নয়, ফর্ম দেখে নয়; সবসময়, চিরদিন।
ক্রিকেটার হিসেবে তার প্রাপ্য সম্মানটা দিন, ব্যক্তি হিসেবে না হয় না দিলেন! সাকিবকে দিন। মাশরাফিকে দিন। এই যে খেলার সাথে রাজনীতি মেলাবেন না বলে যারা বিশেষ দল সাপোর্টের যুক্তি খোঁজেন, তারাই কেন খেলার সাথে রাজনীতি মিশিয়ে মাশরাফি-সাকিবকে দূরে ঠেলেছিলেন? কিছু কথার জবাব মিলবে না জানি। থাক সে কথা।
ক্রিকেট একটা ক্রিকেটারের ড্রইং রুম। সমর্থক হিসেবে আমাদের ওই পর্যন্ত থাকাটাই সঙ্গত। কিন্তু, আমরা রান্নাঘর কিংবা বেডরুমেও উঁকি ঝুঁকি দিতেও দ্বিধা করি না। দিন তো বদলাচ্ছে, এগুলোও বন্ধ হোক নতুন দিনগুলোতে।
আর শেষ করবো কি লিখে?
ব্যাট হাতে ৭৫, ৬৪, ১২১, ১২৪, ৪১, ৫১, ৬৬, ৬৪ এবং বল হাতে ১১।
এক জীবনে ক্রিকেটার হিসেবে ন্যূনতম সম্মান পেতে এর বেশি কি আর কিছু লাগে? হয়তো আমাদের চোখে সেটাও লাগে। তবু, কেন ক্রিকেট বিশ্বের আক্ষেপ, ‘সাকিব যে একটাই!’
হ্যাটস্ অফ সাকিব।
লেখক: মনদীপ ঘরাই, সিনিয়র সহকারী সচিব, (সাবেক ক্রীড়া রিপোর্টার)।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop