খেলার সময়নতুন ঘরে যাচ্ছে বিশ্বকাপ

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
অস্ট্রেলিয়ার সেমিফাইনালে উঠা মানেই কাপটা তাদের দিতে হবে! এতদিন রীতিটা প্রায় এমনই ছিল। বিগত ১১টি আসরের মধ্যে ৭ বারই তারা সেমিফাইনালে উঠেছে এবং প্রতিবারই ফাইনালে পা রেখেছে। যার মধ্যে ১৯৭৫ সালের প্রথম বিশ্বকাপে এবং ১৯৯৬ সালে তারা শিরোপা ঘরে তুলতে পারেনি। বাকি পাঁচবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিশ্বকাপে হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া একমাত্র দল তারাই।
বার্মিংহামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি ছিল রঙিন পোশাকের 'অ্যাশেজ'। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের কাছে অস্ট্রেলিয়ার সব দম্ভ চূর্ণ হয়ে গেলো। সেমিতে অপরাজেয় থাকার রেকর্ডটাও অবশেষে ভেঙে গেলো।
অনেকটা টানাটানি করেই সেমিতে উঠে ইংলিশদের স্মৃতিতে ভাসছিল সেই ১৯৯২ সালের কথা। গুনে গুনে ২৭ বছর। সবশেষ সেবারই বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল ইংল্যান্ড। অবশেষে ভাগ্যের শিকে ছিড়লো। চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে বীরদর্পে ফাইনালে পা রাখলো ইংলিশরা। লিগপর্বের বাধা টপকে সবার আগে ফাইনালে পা রাখা পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়াকে এক কথায় উড়িয়ে দিলো।
এর আগে মোট তিন বার (১৯৭৯, ১৯৮৭, ১৯৯২) ফাইনালে উঠলেও চ্যাম্পিয়নের ট্রফিটা ঘরে তুলতে পারেনি ক্রিকেটের জনকরা। ঘরের মাটিতে এবার তাই বড় সুযোগ ইংলিশদের। রোববার (১৪ জুলাই) লর্ডসে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। এখন পর্যন্ত একরই ফাইনালে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। সবশেষ ২০১৫ সালের আসরে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেই শিরোপা স্বপ্ন চুরমার হয়েছিল কিউইদের। এবার তাই প্রথম শিরোপা জয়ের সুযোগ তাদের সামনেও।
বার্মিংহামে এদিন আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলে উঠেছিলো মরগান বাহিনী। টস হারলেও তার কোনো প্রভাব পড়তে দেননি বোলারা। শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরে অলআউট করে দেয় মাত্র ২২৩ রানে। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে তেমন ঘামই ঝরাতে হয়নি স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের। দুই ওপেনারের ১২৪ রানের জুটিই ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় অস্ট্রেলিয়াকে। জনি বেয়ারস্টোকে তুলে নিয়ে স্বদেশী গ্লেন ম্যাকগ্রাথকে ছাড়িয়ে এক আসরে সবচেয়ে বেশি (২৭) উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়লেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি মিচেল স্টার্ক। আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন ৮৫ রানে আউট হওয়া জেসন রয়। ২ উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি অধিনায়ক ইয়ন মরগান এবং জো রুট। এ দুজনের সাবলীল ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ড জয়ের বন্দরে পৌঁছে ১০৮ বল হাতে রেখেই।
এর আগে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ডের সামনে মামুলি টার্গেট দাঁড় করায় অস্ট্রেলিয়া। আগে ব্যাট করতে নেমে ২২৩ রানে অলআউট হয় অজিরা।
টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। নিজের সিদ্ধান্তকে নিজেই ভুল প্রমাণিত করে শূন্য রানে বিদায় নিলেন ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই। অধিনায়কের পথ ধরলেন আরেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারও। ক্রিস ওকসের বাউন্সার সামলাতে না পেরে উইকেটের পেছনে জনি বেয়ারস্টোর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন মাত্র ৯ রানে। উসমান খাজার ইনজুরির সুবাদে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া পিটার হ্যান্ডসকম্বের বিদায়ে সংকটের অথৈ সাগরে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
৬ ওভারে ১৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর অ্যালেক্স কারিকে নিয়ে হাল ধরেন স্টিভ স্মিথ। তাদের ১০৩ রানের জুটি ভাঙে ৪৬ রানে কারির বিদায়ে। স্মিথ হাত খুলতে শুরু করলেও আবার খোলসের মধ্যে ধুকে পড়তে হয় মার্কাস স্টইনিশ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং প্যাট কামিন্সদের দ্রুত বিদায়ে।
শেষ দিকে মিচেল স্টার্ককে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকায় গতি আনছিলেন। কিন্তু তিন ওভার বাকি থাকতে স্মিথ যখন রান আউটের ফাঁদে পড়েন তখন তার সেঞ্চুরি পূরণ হতে বাকি ১৫ রান। ১১৯ বলে ৮৫ রানের লড়াকু ইনিংসটিতে মাত্র ৬টি বাউন্ডারি হাঁকান অজিদের সাবেক অধিনায়ক।
স্মিথের বিদায়ের পর নির্ধারিত ৫০ ওভার খেলতেই পারেনি পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এক ওভার বাকি থাকতেই ২২৩ অলআউট হয় তারা।
বল হাতে ৩টি করে উইকেট তুলে নেন ক্রিস ওকস এবং আদিল রশিদ। এছাড়া জোফরে আর্চার ২টি এবং ১টি উইকেট নেন মার্ক উড।
বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা
১৯৭৫- ওয়েস্ট ইন্ডিজ
১৯৭৯- ওয়েস্ট ইন্ডিজ
১৯৮৩- ভারত
১৯৮৭- অস্ট্রেলিয়া
১৯৯২- পাকিস্তান
১৯৯৬- শ্রীলঙ্কা
১৯৯৯- অস্ট্রেলিয়া
২০০৩- অস্ট্রেলিয়া
২০০৭- অস্ট্রেলিয়া
২০১১- ভারত
২০১৫- অস্ট্রেলিয়া
২০১৯- ইংল্যান্ড অথবা নিউজিল্যান্ড

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop