আন্তর্জাতিক সময়যৌন নিপীড়নের 'আখড়া' আফগান সরকার

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
যৌন নিপীড়নের আখড়ায় পরিণত হয়েছে আফগান সরকার। বিচার চাইলে যৌন হয়রানি করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং বিচারকরাও। এমনই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সরকারের ছত্রছায়ায় চলছে এসব ঘৃণ্য কার্যকালাপ। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে আফগান কর্তৃপক্ষ।
নারীদের জন্য অনিরাপদ দেশের মধ্যে একটি আফগানিস্তান। গেলো বছর জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে আফগানিস্তানের যৌন অপরাধ ও সংঘাতের বিস্তারিত। উল্লেখ করা হয়, কিভাবে ভুক্তভোগীকে চাপ প্রয়োগ করে অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। উঠে আসে অভিযোগ প্রত্যাহারে রাজি না হলে ভুক্তভোগীকে দোষী বানানোর তথ্যও।
বৃহস্পতিবার ছয়জন ভুক্তভোগীর সাক্ষাতকার নিয়ে নতুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। নিরাপত্তার শঙ্কায় তারা কেউই নাম প্রকাশে রাজি হননি। তাদের একজন আফগান সাবেক সরকারি চাকরিজীবী। সরকারের এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হন তিনি।
নির্যাতনের শিকার ঐ নারী বলেন, 'তিনি সরাসরি আমাকে অসামাজিক কাজের প্রস্তাব দেন। তাকে বললাম, আমি অভিজ্ঞতা, যোগ্যতায় এখানে চাকরি করছি। কখনো চিন্তাও করিনি আমাকে এসব বলা হবে। চলে আসার জন্য উঠে দাঁড়ালে জোর করে আমার হাত ধরে অফিসের পেছনের কক্ষে নিয়ে যান তিনি। তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বললাম, আমাকে চিৎকার করতে বাধ্য করবেন না।'
এ ঘটনার পর চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগও করেননি। কারণ সরকারের ওপর ভরসা নেই ভুক্তভোগী ওই নারীর। তিনি বলেন, আদালত-পুলিশ সব জায়গা দুর্নীতিগ্রস্ত। এসব বিষয়ে কথা বলতে গেলে উল্টো ভুক্তভোগীকে দায়ী করা হয় বলে জানান তিনি।
সরকারের ওই মন্ত্রী দ্বারা আরো দুই নারী ধর্ষণের শিকার হন বলেও উল্লেখ করা হয়। ব্যক্তি বা মন্ত্রণালয় নয়, যৌন হয়রানি পুরো আফগান সরকারেই ছড়িয়ে গেছে। আর একে নিত্যদিনের ঘটনা বলে অভিহিত করেন আরেক ভুক্তভোগী নারী।
ভুক্তভোগী এক নারী বলেন, 'সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করেছিলাম। সবকিছু ঠিক ছিল। আমাকে বলা হলো-প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির এক সহযোগীর সঙ্গে দেখা করতে হবে। ওনার সঙ্গে দেখা হলে আমাকে বলেন, তিনি কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে দেবেন। বিনিময়ে অসামাজিক কাজের প্রস্তাব দেন। রাজি হলে সারাজীবন আমাকে নরকের জীবন বইতে হতো। যেখানে যাবেন বিচার চাইতে, তারাও একই প্রস্তাব দেবে।'
গেলো মে মাসে সরকারের অভ্যন্তরের যৌন কেলেঙ্কারির তথ্য সামনে আনেন আশরাফ ঘানির সাবেক উপদেষ্টা জেনারেল হাবিবুল্লাহ আহমেদেজাই। এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং রাজনীতিকরা যৌন ব্যবসাকে উৎসাহিত করছেন। যদিও সরকার তার এ অভিযোগকে মিথ্যাচার ও ব্যক্তিস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এক টুইটে নারগিস নেহান নামের এক নারীমন্ত্রী সরকারের পক্ষ নিয়ে যৌন হেনস্তার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বোলে উল্লেখ করেন।
তবে নারী অধিকারকর্মী এবং সাবেক সংসদ সদস্য ফাওজিয়া কোফি জানান, বর্তমান সরকারের পুরুষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার বহু অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। অভিযোগ তদন্তে সরকারের পদক্ষেপ আত্মরক্ষামূলক বলেও জানান তিনি।
নারী অধিকারকর্মী ফাওয়জিয়া কোফি বলেন, 'বিচারহীনতার ধারা চলছে এখানে। অপরাধীরা সরকারের ছত্রছায়ায় নিরাপদ থাকছে। দিনে দিনে এ ধরনের অপরাধে আরো উৎসাহী হয়ে উঠছে।'
যৌন নিপীড়নের ঘটনা তদন্তে সরকারের নির্দেশে বিচার বিভাগ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে অ্যাক্টিভিস্ট, অধিকারকর্মী এবং ধর্মীয় চিন্তাবিদদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে তারা। এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংকট সমাধানের দাবি ভুক্তভোগীদের। যদিও এ মুহূর্তে ন্যায় বিচারের আশা মরীচিকা বলে মনে করেন তারা।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop