মহানগর সময়শেখ হাসিনার চীন সফর বাংলাদেশের আঞ্চলিক শক্তি হয়ে ওঠার উদাহরণ

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
চীনে পাঁচদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে আসলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সংক্রান্ত ৯টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১ জুলাই থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সফরে হওয়া এ সকল সমঝোতা বা চুক্তির বাইরেও দুদেশের বহুমাত্রিক লাভ দেখছেন অনেকে। এদের মধ্যে আছেন ভারতের সাবেক কূটনীতিক এম কে ভদ্রকুমার। ২৯ বছর দেশটির ফরেন সার্ভিসে কাজ করেছেন তিনি। বুধবার (১০ জুলাই) শেখ হাসিনার চীন সফর নিয়ে ‘ইন্ডিয়ান পাঞ্চলাইন ডট কম’-এ একটি আর্টিকেল লিখেছেন। ‘দ্যা রাইস এন্ড রাইস অব বাংলাদেশ’ শিরোনামের লেখাটিতে বিশ্ব রাজনীতিতে বিশেষ করে, আঞ্চলিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী অবস্থানের বিষয়টি উঠে এসেছে।
ভদ্রকুমার লিখেছেন, শেখ হাসিনার চীন সফর আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন মানদণ্ড সামনে নিয়ে এসেছে আর তা হলো- আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের উত্থান।
গত বছর ভারতকে ছাপিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বাধিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (৭.৩%) অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা ‘সোনার বাংলা’ গড়ার পথে ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
শেখ হাসিনার সফরে যে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে ভদ্রকুমার মনে করছেন তা হলো, এক- চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং বাংলাদেশ-চায়না-ইন্ডিয়া-মিয়ানমার ইকোনোমিক কোরিডোরে (বিসিআইএম-ইআর) বাংলাদেশের বাংলাদেশের পা বাড়ানো। দুই- ডিজিটাল ইকোনোমিতে জোর দিতে বাংলাদেশের উৎসাহ। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যেটিকে বলেন, ‘ডিজিটাল সিল্ক রোড’ যা কিনা শেখ হাসিনার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের’ ব্লুপ্রিন্ট। আর তিন নম্বর হল- রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদে এবং সম্মানজনকভাবে নিজ দেশে ফেরাতে চীনের অঙ্গীকার।
সাবেক এ ভারতীয় কূটনীতিকের মতে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বচ্ছন্দ এবং সুস্থ গতিবিধির কারণে চীন সন্তুষ্ট এবং তারা বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ব্যাপারেও পুনরায় নিশ্চয়তা পেয়েছে। শেখ হাসিনার বাস্তবধর্মীতায় তারা স্বাচ্ছন্দও বোধ করছে- তিনি ভারতপন্থী হিসেবে বিবেচিত হলেও ভারত বলয় থেকে বাইরেই থাকছেন এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করছেন, সঙ্গে প্রতিবেশী অন্য দেশগুলোকেও যুক্ত করছেন।
এখানে চীন-ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় কোনো সমস্যাও হচ্ছে না, যতক্ষণ পর্যন্ত শেখ হাসিনা শুধু তার দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়েই গুরুত্ব দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এশিয়া অঞ্চলে চীনের শুরু হওয়া নতুন স্নায়ুযুদ্ধ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না বাংলাদেশ। এই ‘গ্রেট গেম’ থেকে দূরে থাকাকেও কদর করছে চীন।
এতে বলা হয়, আপাতত দৃষ্টিতে চীনও মনে করছে, বাংলাদেশ সরকারের ‘সোনার বাংলা’ স্বপ্ন হয়তো পূরণ হবে। ১৭০ মিলিয়ন জনসংখ্যার বিশাল বাজার নিয়ে বাংলাদেশ চীনকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যের বিশাল সম্ভাবনা অফার করছে, যে সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো হয়নি। বাংলাদেশ যদি উন্নয়নের দ্রুত গতি বজায় রাখতে পারে তাহলে এই গতিশীল অর্থনীতির আরো ভালো অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সাপোর্ট দরকার হবে। আর এক্ষেত্রে চীন হতে পারে ‘একের ভেতর সব’। ঋণ এবং প্রযুক্তি প্রদানের পাশাপাশি অবকাঠামো নির্মাণেরও অংশীদার হতে পারে চীন, বিশেষ করে পণ্য পরিবহন, পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন এবং টেলিকমিউনিকেশনে।
শেখ হাসিনার সফরের পর ৬ জুলাই ভারতের দ্যা হিন্দু পত্রিকার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অতুল আনিজা লিখেছেন, বাংলাদেশ-চায়না-ইন্ডিয়া-মিয়ানমার ইকোনোমিক কোরিডোর (বিসিআইএম-ইসি) ঝিমিয়ে যাওয়ার পর গত মাসে আবারো গতি পায় কাজাখিস্তানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আলোচনায়। এরপর শেখ হাসিনা চীন সফরের সময় ভারতের সহযোগিতায় এটিকে আরো গতিশীল করার প্রয়াস নেন।
‘চায়না-ইন্ডিয়া প্লাস’ সহযোগিতা ধারণার টেস্ট কেস হতে পারে বিসিআইএম-ইসি। এক্ষেত্রে ভারত-চীন হাত মেলালে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরো মজবুত হবে। রোহিঙ্গা সমস্যা তখন কলমের মাথায় আসবে। কেন এ ক্ষেত্রে ভারত এবং চীন একটি যৌথ পদক্ষেপ নিতে পারছে না? অপরদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র চাতুর্যপূর্ণ পথ ধরেছে। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসম্যান ব্রাড শেরম্যান প্রস্তাব দিয়েছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যকে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত করার। তবে সোমবার (৮ জুলাই) চীন সফর থেকে দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা বাস্তবসম্মত জবাব দিয়েছেন ওই প্রস্তাবের।
তিনি বলেন, এটা অবিবেচক প্রস্তাব। আমরা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার নিয়েই খুশি। মিয়ানমার তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে থাকবে। আমরা আমাদেরটা নিয়ে থাকবো। আমরা রাখাইন চাই না। প্রত্যেক দেশ তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে সে থাকবে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। রাখাইন মিয়ানমারের অংশ। আমরাই এটা চাই না। সেখানে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে রাখাইনকে জুড়ে দিতে চায় কেন?  কোন বড় দেশের কংগ্রেসম্যান হয়তো ভুলে গেছেন তাদের অতীত। তাদের দেশে গৃহযুদ্ধ লেগেই থাকতো। সে অতীত তাদের ভুলে যাওয়া উচিৎ না। সেটা যে ভবিষ্যতেও আসবে না, সেটা তারা কীভাবে ভাবে? রাখাইনে সারাক্ষণ গোলযোগ লেগেই থাকে। আমরা গোলযোগে অংশ কেন নেবো? এটা কোনোদিনই করবো না। এটা আমরা চাই না।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা দেশ তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে থাকবে, সেটাই আমরা চাই। আমাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার। আমরা এটাই চাই যে, মার্কিন কংগ্রেসম্যান এসব কথা না বলে, বরং মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়, তা নিয়ে কথা বলেন ও কাজ করেন। সেটাই হবে মানবিক দিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেখানেই তারা হাত দিয়েছে, সেখানেই তো আগুন জ্বলছে। কোথাও তো শান্তি আসেনি, বরং জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয়েছে, অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের অঞ্চলটাতে আমরা একটু শান্তিপূর্ণভাবে থাকার চেষ্টা করছি। এখানে এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য না।... রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চীন আমাদের পাশে থাকার নিশ্চয়তা দিয়েছে। সেটা কি ভালো খবর না?

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop