ksrm

মহানগর সময়পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম

শতরূপা দত্ত

fb tw
somoy
অনিয়ম জেঁকে বসেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। সম্প্রতি সময় সংবাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে মন্ত্রণালয়টির নানা অনিয়মের চিত্র।  
অভিযোগ রয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়ম মেনে কর্মকর্তাদের পোস্টিং দেয়া হয় না। পোস্টিং বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সুবিধাভোগী কিছু কর্মকর্তা প্রতিবারই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে নিউইয়র্ক, জেনেভা বা লন্ডনের মতো আকর্ষণীয় জায়গায় পদায়ন পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম জানায়, যারা স্বল্প সময়ের ব্যবধানেই ভালো জায়গায় পদায়ন পেয়েছেন। যেমন, সাদিয়া ফয়জুন্নেসা নিউইয়র্ক থেকে এসেই আবারো নিউইয়র্কে পদায়ন পেয়েছেন, ফাইয়াজ মুন্সী কাজী নিউইয়র্ক থেকে এসে পোস্টিং পেয়েছেন জেনেভাতে, শাহানারা মনিকা ওয়াশিংটন থেকে এসেই পোস্টিং পেয়েছেন নিউইয়র্কে, দেওয়ান মাহমুদ অটোয়াতে আট বছর থেকে এসে মাত্র আট মাসের মাথায় পদায়ন পেয়েছেন লন্ডনে। 
সূত্র বলছে, এমন অনেক কর্মকর্তা আছেন যারা চার-পাঁচ বছর ধরে মন্ত্রণালয়ে পরে থেকেও কোথাও পোস্টিং পান নি। অথচ স্বল্প সংখ্যক কিছু কর্মকর্তা ঠিকই সুবিধা আদায় করে নিচ্ছেন কোনো না কোনো ক্ষমতার উৎসকে কাজে লাগিয়ে।
পদায়ন নিয়ে এধরনের দুর্নীতির পাশাপাশি নিয়মেরও চূড়ান্ত ব্যত্যয় ঘটছে বলে জানা গেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং সম(প্রঃ-২)- ১০৪/৮৯(অংশ-২)-৪, তারিখ: ৩ জানুয়ারি, ১৯৯৪ অনুযায়ী, দুইয়ের বেশি সন্তানের জনক/জননী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিদেশে নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু বিধি-নিষেধ রয়েছে। 
এই বিধি মোতাবেক, ১ জানুয়ারি ১৯৯২ তারিখের পর যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান জন্মগ্রহণ করে এবং তার সন্তান সংখ্যা দুইয়ের  বেশি হয়, তবে তিনি সরকারের আওতাধীন বিদেশে চাকরি/প্রেষণের জন্য বিবেচিত হবে না। বিদেশে নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্মগ্রহণকারী দুইয়ের অতিরিক্ত কোনো সন্তানকে সরকার থেকে যাতায়াত বা দৈনিক ভাতা অথবা অন্য কোনো প্রকার সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে না এবং এই নীতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেলাতেও প্রযোজ্য হবে।
এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই বিদেশে পোস্টিং দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। এমন দু’একজনের মধ্যে রয়েছেন আমেরিকা অনুবিভাগের পরিচালক ফেরদৌসী শাহরিয়ার এবং অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত ফরিদা ইয়াসমিন।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নারী নিপীড়নের ঘটনার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে বেইজিং থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে শাহ আহমেদ শফিককে। চলতি বছরের জুনে ইরান থেকে একই অভিযোগে ফিরিয়ে আনা হয়েছে রাষ্ট্রদূত একেএম মুজিবর রহমান ভূঁইয়াকে। একেএম মুজিবর রহমান ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এর আগে জাপানে কর্মরত অবস্থায় একই অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমানে আফ্রিকা অনুবিভাগের পরিচালক কাজী মুনতাসির মোর্শেদের বিরুদ্ধেও ভারতের আসামে অ্যাসিস্টেন্ট হাই কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ভারতীয় এক তরুণীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ রয়েছে। 
একের পর এক নারী নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা ঘটলেও বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে এই অপরাধ দমনের পথে প্রধান বাধা বলে মনে করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ একজন কর্মকর্তা। এর পাশাপাশি মন্ত্রণালয়েরই এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী এইসব অভিযুক্তদের বাঁচাতে, তাদের অপরাধকে ধামাচাপা দিতে উঠে-পরে লেগেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। 
এসব অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায়। কাজী মুনতাসির মোর্শেদের বিরুদ্ধে আনা ঐ যৌন নির্যাতনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ‘নারী নিপীড়ন কিংবা যৌন নির্যাতন বিরোধী অভিযোগ কমিটি’ গঠিত হয়। কিন্তু সম্প্রতি সেই তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে 'বিতর্কিত' নতুন কমিটি গঠন করা হয় বলেও জানা যায় সময় সংবাদের অনুসন্ধানে। জানা যায়, নতুন কমিটি গঠনের পর পূর্বতন কমিটিকে না জানিয়েই রাতারাতি কমিটির পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলা হয় নতুন কমিটির সদস্য শাহানারা মনিকার নির্দেশে, যা বিধি বহির্ভূত। 
নবগঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য শাহানারা মনিকার কার্যকারিতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কিছুদিন আগে শাহানারা মনিকার সাথেও তার ভাইবারে মেসেজ প্রদানের মাধ্যমে হয়রানিমূলক আচরণ করে কে বা কারা। কিন্তু তিনি সেই বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেন নি। 
মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এক কর্মকর্তা বলেন, অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, তদন্ত কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও যিনি নিজের সাথে হওয়া অন্যায়-হয়রানি নিয়ে সচেতন এবং সরব নন, তিনি অন্য নারী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কতটুকু বলিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন? অন্য নারী কর্মকর্তাদের মনেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এই কমিটির কাছ থেকে কতটুকু ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে তা নিয়ে।
এদিকে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে চলতি বছরের জুনে লেবাননের রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকারকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। এখনো থমকে আছে সেই বিচারও।
মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এক কর্মকর্তা বলেন, এরা মন্ত্রণালয়ে নারীদের কাজ করার পরিবেশ যেমন নষ্ট করছে, তেমনি তাদের আচরণ বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন করছে।  

আরও পড়ুন

দূতাবাস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভারতীয় তরুণীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগসময় অনুসন্ধান: এবার ভিয়েতনামে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop