আন্তর্জাতিক সময়যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে ইরান, তবে...

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
শর্তসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ইরান। আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে আলোচনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, পরমাণু চুক্তি রক্ষা করতে হলে ইউরোপকে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। এদিকে ইরানের উচ্চ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। একইসঙ্গে ব্রিটেন, জার্মানি এবং ফ্রান্স যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ইরান সঙ্কট নিরসনে পরমাণু চুক্তির পক্ষে একসঙ্গে কাজ করবে ইউরোপ।
রোববার (১৪ জুলাই) ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ খোরাসানে পরমাণু সঙ্কট, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে উত্তেজনাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। এরপর সংবাদ সম্মেলনে আরোপিত মার্কিন অবরোধের কঠোর সমালোচনা করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। প্রস্তাব দেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার।
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, কোন শক্তিধর দেশ দাম্ভিকতা দেখালে, কখনোই আমরা তাদের কাছে মাথা নত করবো না। তাদেরকে অবশ্যই এই মনোভাব ত্যাগ করতে হবে। আমরা সবসময়ই আলোচনায় বিশ্বাসী। আমরা চাই যুক্তি দিয়ে সঙ্কট সমাধান করতে। আলোচনার টেবিলে বসতে। তবে এজন্য অবশ্যই আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
এর আগে শিরভানে বিশাল এক জনসভায় ভাষণ দেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে রুহানি অভিযোগ করেন, ইরানিদের ঐক্যে চিড় ধরাতেই বিগত ১৪ মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করছে। পরমাণু চুক্তি রক্ষায় ইরান সব সময়ই আন্তরিক বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে জাতিসংঘ উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠকে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফররত ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, পরমাণু চুক্তি রক্ষা করতে ইউরোপকে অবশ্যই আন্তরিক হতে হবে। রোববার সাংবাদিকদের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর, ইউরোপ তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন, ইউরোপের দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সমঝোতা রক্ষা করতে তারা ইরানে বিনিয়োগ করবে। কিন্তু সে ধরনের কোন পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয়। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ইরান চুক্তি রক্ষায় সব করবে, কিন্তু অবশ্যই অন্য পক্ষগুলোকেও আন্তরিক হতে হবে।
এদিকে ইরান আবারো উচ্চ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করায় উদ্বেগ জানিয়েছে ফ্রান্স। রোববার ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ ইভ দ্রিঁয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চলমান সঙ্কটের জন্য ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বেরিয়ে যাওয়া এবং ইরান আবারো সমৃদ্ধকরণ শুরু করা- দুটিকেই বাজে সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এরমধ্যেই ব্রিটেন, জার্মানি এবং ফ্রান্স এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের পরমাণু চুক্তির রক্ষা এবং এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে বিদ্যমান উত্তেজনা কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করবে ইউরোপ।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইরানকে আলোচনার দেওয়া হয়েছে আগেই। এবার তেহরানের তরফ থেকেও এলো একই টেবিলে বসার প্রস্তাব। তবে শর্তের বিষয়ে অনড় দু'পক্ষই। আর এটিই সঙ্কট সমাধানের প্রধান অন্তরায় বলে মত বিশ্লেষকদের।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop