আন্তর্জাতিক সময়ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট সমাধানে অগ্রগতি হয়েছে: ট্রাম্প

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান সংকট সমাধানে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া, ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বিষয়ে সমঝোতার জন্য তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তবে, ইরান জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনাই করবেন না তারা। এরমধ্যেই, পারস্য উপসাগরে তৃতীয় রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।
রোববার (১৪ জুলাই) গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জানান, তার দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলেই কেবল ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসা সম্ভব।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয় বরং ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি আছে বলে উল্লেখ করে। মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেন, তেহরান অচিরেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার ইস্যুতে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তারা পরমাণু কর্মসূচি জারি রাখতে পারে না। এই বিষয়ে আমরা তাদের সহযোগিতা করতে চাই। এক সঙ্গে কাজ করতে চাই, যেন তারা এই কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। তার মানে এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষমতার পালা বদল চায়।
যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, গতকাল প্রথমবারের মতো ইরান আমাদের বলেছে, তারা প্রস্তুত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বৈঠকে বসতে। সুতরাং আমাদের কথাবার্তার সুযোগ সৃষ্টি হলো। এর মাধ্যমে নতুন কিছু প্রত্যাশা করছি আমরা।
তবে ট্রাম্প-পম্পেও'র এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরান কখনোই তার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কেন, অন্য কোনো দেশের সঙ্গেও আলোচনায় বসবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত পাল্টা টুইট বার্তায় এ কথা জানান। এর আগে সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব পাস হয়।
এ অবস্থায় মার্কিন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার জানান, যুক্তরাষ্ট্র কোনো যুদ্ধ চায় না। ইরান সংকট সমাধানে ওয়াশিংটন চায় কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে এবার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি জানান, ব্রিটিশদের অপকর্ম সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। তারা জলদস্যুতা শুরু করেছে। যার সমুচিত জবাব দেয়া হবে।
ইরান সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া তথ্য মতে, ইউরোপ ১১টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর একটাও তারা মেনে চলেনি। অথচ আমরা মেনেছি। এখন আমরা সেসব প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছি, যার বিরোধিতা করছে ইউরোপ। তারা অবিবেচকের মতো কাজ করছে। এদিকে যুক্তরাজ্য আমাদের তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করে জলদস্যুর মতো আচরণ করেছে। যথা সময়ে যথা স্থানে এর জবাব দেয়া হবে।
ইরানের সঙ্গে পাঁচ বিশ্বশক্তি ও জার্মানির পরমাণু চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে ফিরে যেতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মঙ্গলবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান এ কথা বলেন।
ফেদেরিকা মোঘেরিনি বলেন, আমাদের ইরানের কাছে আবেদন স্পষ্ট। তারা যেন পরমাণু চুক্তি লঙ্ঘন না করে। তারা ইতোপূর্বে যেভাবে চুক্তি রক্ষা করে এসেছে সেভাবে যেন তারা মেনে চলে। এটা আমাদের কাম্য, এটা ইরানবাসীর স্বার্থের জন্যই আমরা বলছি। এ চুক্তি রক্ষায় আমাদের যা যা করার আমরা তা করবো।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনার মধ্যেই এবার ব্রিটেনের সঙ্গে নতুন করে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছে তেহরান। জুলাইয়ের শুরুতে জিব্রালটার উপকূলে ইরানি তেল ট্যাঙ্কার জব্দের জেরে এ সংকট তীব্র হয়। তেহরানের হুমকি উপেক্ষা করে পারস্য উপসাগরে সেপ্টেম্বরে তৃতীয় রণতরী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এ অবস্থায় পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এটাই এখন দেখার বিষয়।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop