ksrm

শিক্ষা সময়‘নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই’ মোরেলগঞ্জে শিক্ষক বদলি

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
‘নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে’ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের অনিয়ম করে বদলি করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার নন্দি। বদলিকৃত শিক্ষকদের পুনরায় স্ব-কর্মস্থানে ফিরিয়ে আনতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আদেশ দিলেও গত দু’মাসে তা বাস্তবায়ন করেননি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার নন্দি। অভিযোগ উঠেছে অর্থের বিনিময়ে ওইসব শিক্ষকদের বদলি করেছেন তিনি। এ বিষয়ে ক্ষোভ অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে। তবে আশীষ কুমারের দাবি, নিয়ম মেনেই তাদের বদলি করা হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও চালাচ্ছেন তিনি।
  
সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি নির্দেশিকা-২০১৯ অনুযায়ী, যেসকল বিদ্যালয়ে চারজন বা তার কম সংখ্যক শিক্ষক আছেন সেসব বিদ্যালয় থেকে প্রতিস্থাপন না করে সাধারণভাবে শিক্ষক বদলি করা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, উপজেলার ১৩৩ নং ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক ছিলেন। সেখান থেকে মাহাফুজা আক্তারকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করেন। ২১৫ নং সন্নাসী বরিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষকের মধ্য থেকে চম্পারানী হালদারকে অন্যত্র বদলি করেন। শুধু এ দুটি বিদ্যালয়ের নয়, উপজেলার ১০টির অধিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের তিনি এভাবেই বদলি করেছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট দু-একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর শিক্ষকদের বদলি না করার আবেদনও করেছেন। 
আবেদনের প্রেক্ষিতে ৭ মে  জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কবির উদ্দিন বদলিকৃত শিক্ষকদের বদলি আদেশ বাতিল করে মূল বিদ্যালয়ে সংযুক্তিকরণের আদেশ দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার নন্দিকে। দুই মাস অতিবাহিত হলেও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার নন্দি বিষয়টি কর্ণপাত না করে নিয়ম বহির্ভূত আদেশ বহাল রেখেছেন। যার ফলে ওইসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
২১৫ নং সন্নাসী বরিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা বলেন, আমার বিদ্যালয়ে মাত্র চারজন শিক্ষক ছিলেন। সেখান থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার নন্দি একজন শিক্ষককে তার পছন্দের জায়গায় বদলি করেন। নিয়মবহির্ভূত বদলির বিষয়টি আমি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানালেও কোনো ফল পাইনি। এছাড়া বদলি হওয়া সহকারী শিক্ষক চম্পারানী হাওলাদার বদলিকৃত কর্মস্থলে যাওয়ার সময় আমার কাছ থেকে ছাড়পত্রও নেয়নি। 
১৩৩ নং ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হক বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়মবহির্ভূতভাবে আমার বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষককে বদলি করেছেন। বদলি করার সময়ে আমাকে বলেছেন আমার বিদ্যালয়ে আরেকজন শিক্ষককে দেবেন কিন্তু তিনি দেননি। 
১৭১ নং পূর্ব আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার বলেন, আমার বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন শিক্ষক ছিলেন। সেখান থেকে মিতা হালদার নামে একজন সহকারী শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে মাত্র দুইজন শিক্ষক নিয়ে বিদ্যালয় চালাতে খুব সমস্যা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার নন্দি বলেন, শিক্ষকদের নিয়মের মধ্যেই বদলি করা হয়েছে। তারপরও জেলা কর্মকর্তার নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। তবে অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এড়িয়ে গিয়ে অফিসে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কবির উদ্দিন বলেন, বদলির বিষয়ে কোনো প্রকার অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। মোরেলগঞ্জে সহকারী শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যার প্রেক্ষিতে ওইসব শিক্ষকদের পূর্বের বিদ্যালয়ে ফিরে আসার জন্য বদলির আদেশ বাতিল করতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার নন্দিকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop