ksrm

মহানগর সময়নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য চলছে বিআইডব্লিউটিসিতে

শতরূপা দত্ত

fb tw
somoy
বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন- বিআইডব্লিউটিসিতে দুর্নীতি মহামারীর আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সেখানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা।
বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতারা শ্রমিক-কর্মচারি নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্যের কথা সময় সংবাদকে জানিয়েছেন।
বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ওয়াকিং প্রেসিডেন্ট মির্জা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শত শত শ্রমিক-কর্মচারী অস্থায়ী হিসেবে বছরের পর বছর কর্মরত থাকলেও তাদেরকে স্থায়ীকরণের কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিভিন্ন শূন্যপদে লোক নিয়োগ দিচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী পদ শূন্য হলে আগে অস্থায়ী হিসেবে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ দিয়ে স্থায়ী করার কথা। কিন্তু বিআইডব্লিটিসি-র একটি সিন্ডিকেট অর্থের বিনিময়ে বাইরে থেকে লোক নিয়োগ দিচ্ছে, বঞ্চিত হচ্ছে বছরের পর বছর অস্থায়ী পদে কাজ করে যাওয়া শ্রমিক- কর্মচারীরা।
তিনি আরো জানান, বিআইডব্লিউটিসি-তে কিছু শূন্যপদ থাকলেও বাস্তবিক অর্থে সেখানে কর্মস্থলের অভাব রয়েছে। যেসব জাহাজ ও ফেরি বর্তমানে মেরামতের জন্য রাখা হয়েছে সেগুলো শূন্যপদেও লোক নেয়া হচ্ছে। নতুন নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মচারী অধিকাংশ সময় চাকরিতেও আসেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে উঁচুমহলের সাথে যোগসাজসের কারণে তারা কোনো সমস্যা ছাড়াই বেতন ভাতা তুলে নেন, নিজের সুবিধামতো সময়ে এসে সারা মাসের হাজিরাও দিয়ে যান বলে জানান মির্জা মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
শ্রমিক নেতারা জানান, পুরানো, অচল, অলাভজনক এমনকি ইঞ্জিনবিহীন জাহাজগুলোর বিপরীতে লোক নিয়োগ করা হলে মূলত সেসব লোকের কাজ করার কোনো জায়গা থাকে না। কিন্তু নিয়োগের পর থেকেই তারা বেতন ভাতা সবই পেতে থাকেন। ফলে মূলত লোকসানের মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠান।
বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি মো. মহসিন ভূঁইয়া জানান, বিআইডব্লিউটিসি-র বর্তমান চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তি বিশ্বাস, নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম এবং চিফ পার্সোনেল ম্যানেজার কে এম জাকির হোসেন মিলে নিয়োগ নিয়ে এই বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। অস্থায়ী কর্মচারীদের স্থায়ী না করে বাইরে থেকে লোক নিয়োগের মাধ্যমে এই চক্রটি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, বাইরের এক একজন প্রার্থীর কাছ থেকে চক্রটি দশ-পনেরো লাখ করে টাকা নিয়ে তাদের শূন্য পদে নিয়োগ দিচ্ছেন। মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ায় এসব কর্মচারীদের যথাযথ মান যাচাইও সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন মো. মহসিন ভূঁইয়া। তিনি মনে করেন, এসব নিয়োগে অষ্টম শ্রেণী পাসের যোগ্যতা এবং মৌখিক পরীক্ষার সুযোগটিকে কাজে লাগাচ্ছে অসাধু চক্রটি।
তিনি আরো জানান, বিআইডব্লিউটিসি-র বর্তমান চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তি বিশ্বাস খুব শিগগিরই অবসরে যাবেন, চিফ পার্সোনেল ম্যানেজার কে এম জাকির হোসেনের চাকরি সময়সীমাও আর বেশিদিন নয়, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম বিআইডব্লিউটিসি-র নিজস্ব কর্মকর্তা নন, তিনি জন প্রশাসন থেকে নিয়োগ পেয়েছেন। এই চক্রটি অবসরে যাওয়ার আগে যতটা সম্ভব নিজেদের পকেট ভারী করতে চায় বলে মনে করেন তিনি।