ksrm

মহানগর সময়যৌন নিপীড়নে অভিযুক্তদের পদোন্নতি কেন?

শতরূপা দত্ত

fb tw
somoy
বৈষম্য ও অনিয়ম যেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগেও সময় সংবাদের অনুসন্ধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের কথা উঠে এসেছে। এবার জানা গেলো এক নারী কর্মকর্তাকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে এক কর্মকর্তাকে।
২৫ জুলাই তারিখে মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে এই পদোন্নতির কথা প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ২১ ব্যাচের কর্মকর্তাদের পরিচালক থেকে মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। পদোন্নতি প্রাপ্তদের মধ্যে একজন মোহাম্মদ নুরে আলম, কাউন্সিলর, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, এই কর্মকর্তা যখন টোকিওতে কর্মরত ছিলেন তখন ওই দূতাবাসের এক নারী কর্মকর্তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৫ সালে ঐ নারী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে পররাষ্ট্র সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছিলেন। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, অভিযোগ করার চার বছর অতিক্রান্ত হলেও সেই বিষয়ে আজ পর্যন্ত কোন তদন্ত করা হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই নারী কর্মকর্তাকেই বরং মিথ্যা অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। একটা সময় তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন প্রমাণেরও চেষ্টা চলেছে। তাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে চাকরী থেকে অপসারণের সাময়িক সিদ্ধান্ত নিয়ে চিঠিও দেয়া হয়। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে না পারলেও এখনো পর্যন্ত ওই নারী কর্মকর্তার পোস্টিং ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে জানায় সূত্রটি।
আরেকটি সূত্র থেকে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে হাইকোর্টের নির্দেশনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ কমিটি গঠিত হওয়ার পর ঐ নারী কর্মকর্তা এই কমিটির কাছে নুরে আলমের হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। সূত্রটি জানায়, অভিযোগ কমিটি যখন তদন্ত শেষ করে এনেছে তখনই নুরে আলমের পক্ষ থেকে কমিটি প্রধানের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয় তদন্ত বন্ধ করার জন্য। কমিটি প্রধান অসম্মত হলে গত ২৭ জুন ২০১৯ তারিখে রাতারাতি কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
এদিকে, ভারতে একজন ভারতীয় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ থাকার পরও পদোন্নতি পেয়েছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনার কাজী মুনতাসির মোর্শেদ। এ বিষয়ে গত ১৫ জুন সময় সংবাদে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, মোহাম্মদ নুরে আলম ও কাজী মুনতাসীর মুর্শেদের নারী কেলেঙ্কারির কথা জানা সত্ত্বেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু ব্যক্তি তাদের পক্ষ নিচ্ছেন। নারী নির্যাতনকারীর পক্ষ নিয়ে তারা তাদের বাঁচানোর এবং এসব ঘটনা ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করছেন বলে জানান এই কর্মকর্তারা।
এই দুইটি ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নারী কর্মকর্তারা বেশ আতঙ্কিত বোধ করছেন বলে জানিয়েছে সূত্রটি। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে এবং তাদের সাথে হওয়া অন্যায়ের সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তারা। মিশনে কর্মরত একজন নারী কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ‘সিডো’-র সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ শুধু প্রহসন নয় বরং অপরাধ।

আরও পড়ুন

দূতাবাস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভারতীয় তরুণীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop