মুক্তকথাবানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াই

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
বহুজাতি, বহুভাষা ও বহু সংস্কৃতির অনন্য দেশ বাংলাদেশ। এদেশে বৃহত্তর বাঙালি জনগোষ্ঠী ছাড়াও প্রায় ৪৫টির অধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। যারা এদেশের বিভিন্ন প্রগতিশীল আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-আদিবাসী সকলের মেলবন্ধনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। 
আমরা সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করি না। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। আমরা ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তস্নাত এই বাংলাকে ভালবাসি। স্বাধীনতার সাতচল্লিশ বছর পর সাম্প্রদায়িকতার নামে যারা মানুষের মাঝে বিভাজন তৈরি করছে তারা অমানুষ। তারা সাম্প্রদায়িক। তারা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ নষ্ট করছে। তারা শান্তি, সাম্য এবং মানবতায় বিশ্বাস করে না। 
সাম্প্রদায়িকতার ইস্যুতে যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুন্ন করছে, ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার প্রয়াসেই হোক আর অন্য কোন প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর চক্রান্তেই হোক, সেটি অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এদের নেপথ্যে থাকা অপশক্তিকে খুঁজে বের করতে হবে। জাতীয় স্বার্থে মানুষের কল্যাণের জন্য সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে আমাদের। দেশের যে কোন সংকট আমাদের একসাথে মোকাবেলা করতে হবে। 
বাংলাদেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন ও অগ্রগতির চাকাকে যারা থামিয়ে দিতে চায়, যারা দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে ধ্বংস করতে চায়, আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই, রুখে দাঁড়াই। প্রতিবাদ করি। 
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর শতভাগ কাজ সম্পন্ন করতে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। আর এই পদ্ধা সেতুকে কেন্দ্র করে যারা নোংরা রাজনীতি করছে তারা জনগণের শত্রু। তারাই পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে বলে ছেলেধরা নামক গুজব ছড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারাই নিরপরাধ শিশুর মাথা কেটে এই ঘৃণ্য অপরাধটি সংঘঠিত করছে। যারা ছেলেধরা নামে গুজব ছড়িয়ে সাধারণ নিরীহ নিরপরাধ মানুষ হত্যা করছে, জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, দেশকে অস্থিতিশীল করতে ঘৃণ্য চক্রান্ত করছে, দেশের নিরপরাধ মানুষকে উসকানি দিচ্ছে, তারা সমাজবিরোধী, তারা মানবতাবিরোধী অপশক্তি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে এই অপশক্তি তাদের নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তাদেরকে দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। তাদের খুঁজে বের করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। এদের পরাজিত করতে হবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে। 
দেশের চলমান ছেলেধরা নামক গুজবটি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে সাধারণ মানুষকে। বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম এই ব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরো বেশি মানুষকে সচেতন করতে হবে।  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো বেশি সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। কারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় তাদের কর্তব্য। কেউ এই কর্তব্য পালনে অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। 
বেশ কিছুদিন ধরে একটানা অবিরাম বৃষ্টি। বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। দিশেহারা মানুষ। অসহায় বৃদ্ধ, শিশু এবং নারী। একটু নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি। বিপন্ন স্বাভাবিক জীবন এবং জীবিকা। মাথাগোঁজার শেষ অবলম্বনটুকু পানির নিচে তলিয়ে গেছে। 
সেইসব বানভাসি মানুষের পাশে আমরা কি সাহসে বুক বেঁধে দাঁড়াতে পারি না? তাদের প্রতি কি আমরা সহানুভূতির হাত বাড়াতে পারি না? মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে কিংবা সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে হলেও আসুন আমরা তাদের পাশে দাঁড়াই। তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। 
বন্যায় অগনিত মানুষের বসতবাড়ি, অসংখ্য গবাদিপশু, আসবাবপত্র ভেসে গেছে। এখনো মাইলের পর মাইল হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক জায়গায় রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। কয়েকটি জেলা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।
বন্যাদুর্গতদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে খাবার, আশ্রয়, বস্ত্রসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও চিকিৎসা সামগ্রীসহ চিকিৎসক দল পাঠানো প্রয়োজন। এছাড়া যার যেরকম সামর্থ্য আছে সেই সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
আমরা কি ভুলে গেছি প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকার সেই কালজয়ী গানের কথা- মানুষ মানুষের জন্য/জীবন জীবনের জন্য/একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না/ও বন্ধু। 
মানুষের প্রতি মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা তৈরি হোক। মানবতাবোধ জাগ্রত হোক সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে। সংকটে, দুর্যোগে মানুষ মানুষের পাশে হাতে হাত রেখে কাঁধে কাঁধ রেখে দাঁড়াক। আসুন গুজবে কান না দিয়ে আমরা পানিবন্দী মানুষের পাশে দাঁড়াই।
 
লেখক: সুজন হাজং, গীতিকার 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop