ভ্রমণঘুরে আসুন লম্বা-গলা নারীদের গ্রাম

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
‘লং নেক ওম্যান ভিলেজ’ অর্থাৎ লম্বা গলা নারীদের গ্রাম। এই গ্রামের নাম অনেকেই শুনে থাকবেন। থাইল্যান্ডের চিয়াং মে-তে অবস্থিত এই গ্রাম পর্যটকদের কাছে বহুল পরিচিত।
গলা অদ্ভুত রকমের লম্বা হওয়ায় অনেকে আবার এই মহিলাদের ‘জিরাফ ওম্যান’ বা ‘ড্রাগন ওম্যান’ও বলে থাকেন।
থাইল্যান্ডের ‘লং নেক ওম্যান ভিলেজ’-এ মূলত কায়েন সম্প্রদায় মানুষই থাকেন। জন্ম থেকেই অবশ্য কায়েন সম্প্রদায়ের নারীদের ‘জিরাফ’-এর মতো লম্বা গলা হয় না। বংশপরম্পরায় সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য রক্ষা করতেই আসলে নিজেদের গলা লম্বা করে নেন গলায় পেঁচানো রিং পরে।
কায়েন সম্প্রদায় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে থাইল্যান্ডের বাসিন্দা নয়। তাদের আসল বসতি মায়ানমারের কায়াহ জেলার লয়কাওয়ে। মায়ানমারে সেনা-পুলিশের অত্যাচার থেকে বাঁচতে তারা থাইল্যান্ডের উত্তরে উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় নেন। থাইল্যান্ডের চিয়াং মে-র সেই উদ্বাস্তু শিবিরই ক্রমে কায়েন সম্প্রদায়ের নাম অনুসারে কায়েন গ্রাম হিসাবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করে।
থাইল্যান্ড সরকার যখন কায়েনদের লম্বা গলার কথা শোনে, দেশের পর্যটন ব্যবসার উন্নতির পরিকল্পনা করে তাদের ভিসা দিয়ে দেয়। তারপর থেকে কায়েনরা ওই গ্রামেই স্থায়ী ভাবে থাকতে শুরু করেন।
সারা বছর ধরে প্রচুর পর্যটক এই গ্রামে ভিড় জমান কায়েনদের দেখতে। গ্রামটাকে এখন লম্বা গলা নারীদের গ্রাম হিসেবেই সবাই চেনে। পর্যটকদের নিজেদের বানানো জিনিস বেচে উপার্জনও করতে শুরু করেছেন এই নারীরা। ফলে তারা আর্থিক ভাবে অনেকটাই সাবলম্বী হয়েছেন।
প্রচলিত রয়েছে যে, মায়ানমারের কায়াহ জেলায় আগে অনেক বাঘ ছিল। তখন নিজেদের রক্ষা করতেই গলা, হাত, পা, কোমর ইত্যাদি জায়গায় এই শক্ত রিং তাঁরা পরতেন। ক্রমে সেটা ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
এই গ্রামে কোনও কায়েন কন্যার জন্ম হলে, তার ৫ বছর বয়স থেকেই গলায় সোনালি রঙের পেঁচানো রিং পরিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবছর রিঙের প্যাঁচ বাড়তে থাকে। এ ভাবে একটার পর একটা রিং যোগ করা হয় ২১ বছর পর্যন্ত। এই ২১ বছরে একবারের জন্যও কিন্তু কায়েন নারীরা ওই রিং গলা থেকে খোলেন না। অর্থাৎ ৫ বছর বয়স থেকে তারা কেউই নিজেদের গলা চোখে দেখেন না।