মুক্তকথাএই তো আমরা পাশে আছি...

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
ডেঙ্গু নিয়ে লেখালিখিটা একটু বেশিই করছি। উপায়ই বা কি? চারদিকে এখন চিন্তা কিংবা দুশ্চিন্তার বিষয় তো এই একটাই। আমরা রিফাত, রেনু, গুজব ভুলতে বসেছি ডেঙ্গুর প্রকোপে। কারণটা সহজ: বাকি আলোচনাটা আমাদের নিজেদের জন্য প্রাসঙ্গিক ছিল না। কিন্তু ডেঙ্গুর শঙ্কাটা সকলের। তাই পত্রিকা, অনলাইন, ফেসবুক, চায়ের দোকান কিংবা বাসার খাবার টেবিল...সবখানে আলোচনায় ডেঙ্গু। জেন্টস হোক আর লেডিস...সবার মুখে ঘুরছে এডিস।
পরিস্থিতি যে ভয়াবহ, সন্দেহ থাকার কথা না কারও। মৃত্যুসংবাদও শুনেছি একের পর এক। আশেপাশের চেনা মানুষ ও তাদের আত্মীয়দের আক্রান্ত হবার খবরও আসছে কানে। কেউ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন, কেউ এখনও চিকিৎসা নিচ্ছেন আর কেউ বা দুর্ভাগ্যে পাড়ি জমিয়েছেন ওপারে।
এই যখন পরিস্থিতি তখন আমরা জানছি কি? জানাচ্ছি কি?
সত্যি বলতে কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা গণমাধ্যম কয়েকটি জিনিস খুব বেশি জানতে পারছি: অপ্রতুল উদ্যোগ (ব্যক্তিগত ও সরকারি), ফি বেশি নেয়াতে জরিমানা আর আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। সেই সাথে পেঁপের পাতার রস কিভাবে ডেঙ্গু সারাবে সেই উপায়, নারকেল তেল হাঁটু পর্যন্ত মাখা, সেই সাথে গুজব হিসেবে হারপিক ও ব্লিচিং এর মনগড়া গল্প।
তাহলে, হোক না অপ্রতুল কিন্তু জাতির এই সংকটকালে শুভ উদ্যোগ নিয়ে কোথাও কি কেউ নেই? ফেসবুক আর গণমাধ্যম দেখে সেটা বুঝতে পারবেন সামান্যই। এতে কিন্তু কাউকে দোষ দিতে যাবেন না। কারণ, গণমাধ্যম নৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি সেটাই জানাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, যেটাতে টিআরপি বাড়বে। অর্থাৎ দর্শকের চাহিদা রয়েছে। তার মানে আমরা এসব খবর শুনতেই অভ্যস্ত হয়ে উঠছি।
আমি তো ব্যক্তি মাত্র। তাই, পাঠকের চাহিদার বাইরে গিয়ে কিছু কথা বলি? এই ছুটির দিনগুলোতে কোথাও ঘুরতে না গিয়ে একটিবার হাসপাতালে ঘুরে আসুন। চিকিৎসক আর সেবিকাদের আন্তরিকতা আর নির্ঘুম ব্যস্ততা আপনার মন ছুঁলেও ছুঁতে পারে। একটু হলেও আশ্বাস পেতে পারেন, অসুস্থ হলেও এই আন্তরিক মানুষগুলো তো আছে। অদূর ভবিষ্যতে ‘কসাই’ ডাকার আগে একবার হলেও লজ্জ্বা পেয়ে যাবেন।
জেলায় জেলায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন, উপজেলাতেও হচ্ছে অনুরূপ কার্যক্রম। স্কুলে-স্কুলে সচেতন করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।পুলিশ রুখে চলেছে ডেঙ্গুভিত্তিক গুজব। ফেসবুকে ব্লাডম্যান নামের রক্তদাতা সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে নিরলস, যুক্ত হয়েছে ছারপোকা নামের রক্তসংগ্রহের অ্যাপ, সাইবার-৭১ নামের গ্রুপ আছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে। তথ্য জানতে ৩৩৩২ হটলাইন আছে, অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হলে ৯৯৯ আছে। ডেঙ্গুর টেস্টিং কিট কেনা হচ্ছে কোটিরও বেশি। বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মিলছে নির্ধারিত মূল্যে পরীক্ষা সেবা। এ বিষয়ে গরমিল হলে জানাতে পারবেন মিনিস্টার মনিটরিং সেল এ ০১৩১৪৭৬৬০৬৯, ০১৩১৪৭৬৬০৭০, ০২-৪৭১২০৫৫৬, ০২-৪৭১২০৫৫৭।
জানি, একটা প্রাণ অমূল্য। যে পরিবার তাকে হারায়, কষ্টটা তাদেরই। যে আক্রান্ত হয়, তার কষ্টটা অন্য কেউ ভাগ করে নিতে পারে না।
এতকিছুর পরেও বলবো, চারপাশে সবাই সাধ্যমতো হাত বাড়িয়ে আছে। চলুন শুভ হাতগুলোকে দৃশ্যমান করি সবাই মিলে।
একজন মানুষও যদি মনে মনে বলে ওঠেন,
‘কোথাও কেউ নেই’
তবে, সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণ্যমাধ্যম যেন চিৎকার করে বলতে পারে,
‘কে বলেছে কেউ নেই? এই যে আমরা সবাই আছি পাশে!’
লেখক: মনদীপ ঘরাই, সহকারী সিনিয়র সচিব

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop