বাণিজ্য সময়অর্গানিক পদ্ধতিতে পালনকৃত গরুর বৈশিষ্ট্য

সময় সংবাদ

fb tw
দাম যাই হোক কোরবানির পশুটি হতে হবে সুদর্শন, স্বাস্থ্যবান। সচেতন ক্রেতা মাত্রই পশুর গায়ের রং আর শারীরিক সুস্থতার নানা লক্ষ্মণ পর্যবেক্ষণ করেন খুঁটিয়ে খুতিয়ে। এবার খতিয়ে দেখার তালিকায় যুক্ত হয়েছে গরুটি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মোটাতাজা করা হয়েছে কি না। গ্রাহক চাহিদার কথা মাথায় রেখে তেমন প্রস্তুতি নিয়েছেন খামারিরাও। অর্গানিক পদ্ধতিতে পালন করা পশুর নানা দিক নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন পশু বিশেষজ্ঞরা।
খামারের পাশে প্রায় ৫ বিঘা জায়গা জুড়ে আবাদ করা হয়েছে দেশি-বিদেশি ঘাস। তিনবেলা প্রতিটি গরুকে এসব ঘাস খাওয়ানো হচ্ছে। আবার সারের পরিবর্তে ঘাস চাষে ব্যবহৃত হচ্ছে খামারেরই গোবর।
কোরবানিতে ক্রেতাদের কাছে স্বাস্থ্যসম্মত গরু সরবরাহ করতে দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে অর্গানিক খামার। খামারিয়া বলছেন, গরু মোটাতাজা করতে ক্ষতিকর হরমোনের পরিবর্তে খড়, খৈল, কুড়া, ভুষি, চিটাগুড় খাওয়ানো হচ্ছে। এতে গরু মোটাতাজা করতে সময় লাগছে ছয় থেকে সাত মাস। হরমোন ব্যবহার করা গরুর থেকে অর্গানিক গরুর শারীরিক গঠন সম্পূর্ণই আলাদা।
গরুর খামারে কাজ করেন এমন এক ব্যক্তি জানান, প্রথম খাবার দেই কাঁচা ঘাস। পরে ভুষি-খইল।
অন্য এক ব্যক্তি জানান, মেডিসিন ব্যবহার করলে গরুতে ১০ মণ গোসত হবে। আমরা ব্যবহার করি নাই, আমাদের গরুতে ৫ মণ গোসত হয়েছে।
অর্গানিক পদ্ধতিতে দেশীয় সংকর জাতের ব্রাহমা জাতের গরু পালন করলে খামারিরা অধিক লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন শেরবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. লামিয়া আসাদ। তিনি বলেন, ব্রাহমা জাত প্রতিদিন গড়ে ৮০০-৯০০ গ্রাম পর্যন্ত দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। তাহলে তার স্টেরয়েড হরমোন দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ওষুধ দিয়ে মোটাতাজা করার পশুর মাংস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে অর্গানিক পদ্ধতিতে পালন করা পশুর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তবে কুড়া, ভুসি, খৈলের দাম বেশি হওয়ায় পশু পালনে হিমশিম খাচ্ছেন খামারিরা। দাবি জানিয়েছেন গো-খাদ্যের দাম সহনীয় রাখার।
অর্গানিক পদ্ধতিতে পালনকৃত গরুর বৈশিষ্ট্য:
১. শরীরের রং উজ্জ্বল থাকবে। গরুর পিঠের কুজ মোটা, টানটান ও দাগমুক্ত হবে।
২. চটপটে প্রকৃতির হবে।
৩. ওষুধ খাওয়ানো গরুর শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়। মনে হবে হাঁপাচ্ছে। তবে অর্গানিক গরুর এমন সমস্যা নেই।
৪. অতিরিক্ত স্টেরয়েড দেয়া গরুর মুখ দিয়ে প্রতিনিয়ত লালা ঝরবে। কিছু খেতে চায় না। তবে সুস্থ গরু খাবার টেনে খাবে। জাবর কাটবে।
৫. অর্গানিক গরুর নাকের উপরের অংশ ভেজা বা বিন্দু বিন্দু ঘাম থাকবে। ওষুধ খাওয়ানো গরুর নাক শুকনা থাকবে।
৬. অর্গানিক গরুর রানের মাংস শক্ত থাকবে। চাপ দিলে হালকা দেবে গিয়ে দ্রুত আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে। যেখানে স্টেরয়েড দেয়া গরুর রান বেশি নরম থলথলে।
৭. অর্গানিক গরুর চামড়ার ওপর দিয়ে পাজরের হাড় বোঝা যাবে।
ক্রেতা ফলে ক্রেতা চাহিদা মাথায় রেখে দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে অর্গানিক খামার। যেখানে ওষুধের পরিবর্তে, ঘাস, খড়-কুড়া'সহ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজা করা হয়। খামারিরা বলছেন, অর্গানিক পদ্ধতিতে পশুপালন দীর্ঘমেয়াদী ও ব্যয়সাপেক্ষ হওয়ায় লাভ তুলনামূলক কম।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop