ksrm

মুক্তকথাজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মহান নেতার পদাঙ্ক অনুসরণ করছি কি?

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
২৫ মার্চ রাত বারটার কিছু সময় পরে, ১৯৭১ তখন। ‘ইহাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন।’ হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের কিছু সময় আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাক্ষর করেন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে। প্রতিটি জাতিরই একজন অবিভাবক অতীব প্রয়োজন হয়। আমরা গর্বিত যে আমরা এমন এক মহান নেতাকে জাতির পিতা হিসেবে পেয়েছি যার তুলনা অতুলনীয়। বাঙালি জাতির স্বাধীনতার জন্যই যার জন্ম।
নিপিড়িত, নির্যাতিত, পশ্চাদপদ জাতির মুক্তির জন্যই যার আগমন। যিনিই শিখিয়েছেন অধিকার আদায়। কিভাবে নিজের অধিকারের জন্য শাসকের চোখে চোখ রেখে অধিকারের কথা বলতে হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে রক্ত পিপাসায় উন্মত্ত কতিপয় কুলাঙ্গার, মহান পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে কৃতঘ্নতা ও অপরাধের শিখরে অবস্থান নেয়। কেউ কি নিজের পিতাকে হত্যা করতে পারে! ইতিহাসও যেখানে লজ্জ্বা পায়। সেই দিন পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে খুন করা হয়েছে সমগ্র জাতিকে।
বঙ্গবন্ধুর জন্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের জন্ম হয়েছে। পরাধীনতা থেকে মুক্তি ও স্বাধীনতার স্বর্গসুখের স্থান ছিল সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনায়। যুদ্ধ করেছেন আজীবন অন্যায়-অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে। লাঞ্ছিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষের বন্ধু ছিলেন। আমরা কি মহান নেতার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পেরেছি? নাকি নির্লজ্জতার শীর্ষে অবস্থান করছি। ৭১’ এর ৭ মার্চের পিতার ভাষণ শ্রবণে আজও কি বাঙালির রক্ত কম্পিত হয় না? নাকি আমাদের অনুভব শক্তি গন্ডারের মত পূর্ণ রূপে বিলুপ্ত হয়েছে।
সর্বোত্তম এ শিক্ষকের শিক্ষার কি কোনো মূল্য নেই। আমরা কোন ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শকে বাঁচিয়ে রেখেছি? লোক দেখানো আদর্শ ছাড়া কেন বাস্তবিক আদর্শ আমাদের ভিতরে স্থান পায় না?  রাজনৈতিকভাবে বঙ্গবন্ধু ছিলেন সফল ব্যক্তিত্ব। তবে এ সফলতার পেছনে ছিল তাঁর অপরিমেয় ত্যাগ-তিতিক্ষা আর বিসর্জন। নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছ করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে তিনি এগিয়ে গেছেন সর্বদা। রাতের অজস্র প্রহর আর দিনের আলো-ছায়ার হাজারও ক্ষণ তাঁর অতিবাহিত হয়েছে কারাগারে। আর এখন আমাদের রাজনীতি কিসের উপর নির্ভর করে? আমরা তাঁর আদর্শের নেতৃত্ব কি পাচ্ছি? জনগণের জন্য নেতার নেতৃত্ব কোন দিকে কাজ করছে? এ রকম হাজারও প্রশ্ন পাওয়া যাবে। তাঁর সময়ে ৭ কোটি বাঙালিকে সন্তানের মতো লালন করেছেন তিনি। সেই লালিত সন্তানই কিনা তাঁর বুকে গুলি চালালো। ৪৪ বছর পরেও আমরা স্বাধীনতার সম্মান কতটুকু রক্ষা করতে পেরেছি?  
জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো পিতাকে কাটাতে হয়েছে কারাবন্দি হিসেবেই। জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়েই তাঁর জীবনে বারবার এই দুঃসহ নিঃসঙ্গ কারাজীবন নেমে আসে। তবে তিনি কখনও আপস করেননি। ফাঁসির দঁড়িকেও ভয় করেননি। মানুষের জন্য তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। বাঙালি জাতিকে বীর হিসেবে বিশ্বে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে সৃষ্টি করেছেন। আমেরিকার বিখ্যাত সাময়িকী নিউজউইকের প্রথিতযশা সাংবাদিক লরেন্স জেকিংস বঙ্গবন্ধুকে ‘Poet of Politics’ তথা রাজনীতির কবি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
বঙ্গবন্ধু ব্যক্তিচরিত্রে ব্যতিক্রম ও দৃষ্টান্ত ছিলেন। তিনি ঔপনিবেশিক শাসনামলে জন্মেছিলেন, তবে পরাজয় মানেননি। জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি দেশের নিজস্ব পরিচয়ের জন্য, দেশের মানুষের কল্যাণে যুদ্ধ করে গেছেন। তিনি সারা বিশ্বে শোষিত, নিপীড়িত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত ও ভাগ্যহত মানুষের মুক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। জাতির পিতাকে এককেন্দ্রীক দৃষ্টিতে দেখানো অপরাধ, সেই সাথে আরও মারাত্মক অপরাধ তাঁর অবদানকে অস্বীকার করা। কিন্তু আজ অবধি বাংলাদেশে এ রকম হীন কর্ম অহরহ ঘটে চলছে। জাতির পিতা সর্বজনীন।
বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কথা বললেই বা আর কতটুকু ফলপ্রসূ উত্তর পাওয়া যাবে। সমতা, অধিকারের নিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক মুক্তি আদায়ে পিতার স্বপ্ন আমরা কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। তাঁর ভালোবাসার রাজনৈতিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন কি নিজ আদর্শে পুরোপুরি অটুট থাকতে পেরেছে? হিসেবের পরে হিসেব, ফলের থলিতে সফলতা তেমন সাফল্যমন্ডিত নয়। কীর্তিমানেরা আসেন, শিক্ষা প্রদান করেন, পথ দেখান। দেখানো পথে চলার দায়িত্ব কাদের? তাঁর আদর্শকে শুধু মাত্র মলাটে বন্দি করলে আদর্শের বাস্তবায়ন নিজ থেকে ধরা দিবে না। এর জন্য প্রয়োজন কাজ করা, কঠোর প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামা। আর নিজেদের ভিতরে সহিংসতা বিদ্যমান থাকলে কোনো কালেই আদর্শের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
দেশের রাজনৈতিক দলগুলো বিরতিহীনভাবে সহিংসতায় লিপ্ত হয়। এতে মৃত্যু হয়, কাদের? পিতার সন্তানদেরই। সন্তানদের ভিতর সহিষ্ণুতার অভাব থাকলে পিতার শিক্ষা, আদর্শ কিভাবে মূল্যায়িত হয়? সত্যিই আমরা কি মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পরেছি?
লেখক: মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ, সাংবাদিক। ই-মেইল: shafi9312@gmail.com
 
 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop