পশ্চিমবঙ্গবাঙালির জন্য জীবন বিসর্জন দিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু: কলকাতায় ড. আতিউর

কলকাতা অফিস

fb tw
somoy
বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) রাতে কলকাতার কলামন্দিরের কলাকুঞ্জে আয়োজিত হয় বঙ্গবন্ধুর জীবন-দর্শন নিয়ে এক আন্তর্জাতিক আলোচনা অনুষ্ঠানের।
বাংলাদেশ বাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিয়ার রাহমান, ভারতের বিশিষ্ট রাজনীতিক সরদার আমজাদ আলী এবং কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মার সঙ্গে মিশে আছেন বঙ্গবন্ধু। সশরীরে তিনি নেই কিন্তু তার আদর্শ এবং তার দেখানো স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন দীঘল পুরুষ। হাত বাড়ালেই তিনি আকাশ ছুঁতে পারতেন। আর সেই আকাশ ছোঁয়া ব্যক্তিত্বের পুরুষ অবহেলিত বাঙালির জন্য জীবন বিসর্জন দিয়ে গেছেন। বাঙালির মুক্তির দিশারী হিসেবে বঙ্গবন্ধু আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু বাঙালিকে স্বাধীনভাবে বাঁচতে একটি দেশ উপহার দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। 
ভারতের বিশিষ্ট রাজনীতিক সরদার আমজাদ আলী বলেন, পৃথিবীতে বঙ্গবন্ধুর মতো নেতার জন্ম খুব কম হয়েছে। তার চিন্তা দুরদর্শিতা এবং প্রজ্ঞা  বাঙালিজাতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও বটে।
কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনার ও অনুষ্ঠানের সভাপতি তৌফিক হাসান বলেন, বঙ্গবন্ধুর দেখানো স্বপ্ন সোনার বাংলার বাস্তবায়ন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনা থেকে আন্তর্জাতিক ভাবে বাংলাদেশের সম্মান বৃদ্ধি সবই জাতির জনকের স্বপ্ন ছিল। 
আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিটি নিরবতা পালন করা হয় এবং এরপরই দেখানো হয় জাতির জনকের ওপর নির্মিত একটি প্রামান্য চিত্র।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম মিশন কলকাতার ৯ নম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরণিতে অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন চত্বরে স্থানীয় সময় সকাল সাতটায় শোক দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দিবসটি উপলক্ষে উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন। এরপর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।  
 
বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত ইসলামিয়া কলেজের (বর্তমানে মৌলানা আজাদ কলেজ) বেকার গভর্নমেন্ট হোস্টেলে ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতিকক্ষে’ স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে পুষ্পস্তপক অর্পণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের (বর্তমানে মৌলানা আজাদ কলেজ) ছাত্র হিসেবে ১৯৪৫-৪৬ সালে ৮ স্মিথ লেনের বেকার গভর্নমেন্ট হোস্টেলের ২৪ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।
পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু ১৯৪৬ সালে ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন। 

বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, কলকাতা উপ-হাইকমিশনের সম্মেলন কক্ষে ‘স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ উপ-হাইকমিশনের মিনিস্টার (রাজনৈতিক) ও দূতালয় প্রধান বি এম জামাল হোসেন, কাউন্সেলর (কন্স্যুলার) মো. বশির উদ্দিন, প্রথম সচিব (প্রেস) মো. মোফাকখারুল ইকবাল এবং এ উপ-হাইকমিশনের ১০ জন কর্মচারী রক্তদান করেন। এছাড়া কলকাতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তিরা রক্তদান করেন।

এছাড়াও বৃহস্পতিবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের মসজিদে বাদ যোহর মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

 
 
 
 
 
  

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop