বাংলার সময়ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশের সোর্স আটক

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে শামীম নামের এক সোর্সকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।
একই সাথে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের ঘটনায় সোর্স শামীমকে সহযোগিতার অভিযোগে জনতার ধাওয়ায় পালিয়ে বেঁচেছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।
শনিবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে নয়টার দিকে বন্দর উপজেলার সাবদি এলাকায় এমন অভিযোগে ওই সোর্সকে আটক করে স্থানীয় এলাকাবাসী। এ সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তা পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত দুই পুলিশ হলেন, বন্দর থানা পুলিশের দুই সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমিনুল হক ও আনোয়ার।
এলাকাবাসী জানায়, রাত সাড়ে নয়টার দিকে বন্দর থানার এএসআই আমিনুল হক, এএসআই আনোয়ার ও সোর্স শামীম ভ্রাম্যমাণ আদালতের কথা বলে সাবদি বাজার এলাকার নান্নুর মুদি দোকানে গিয়ে জরিমানা করে। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসী ও আশপাশের লোকজন বিভিন্ন প্রশ্ন করলে তাদের কাছ থেকে সদুত্তর না পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়।
এক পর্যায়ে সোর্স শামীমের উপর এলাকাবাসী চড়াও হয়ে তাকে মারধর করেন। এ সময় অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশের এএসআই আমিনুল ও এএসআই আনোয়ার বাজারের পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।
পরে খবর পেয়ে বন্দর থানার ওসি এবং অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীকে শান্ত করেন এবং সোর্স শামীমকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। 
সাবদি বাজার ও আশেপাশের একাধিক দোকানদারদের অভিযোগ, অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও সোর্স শামীম প্রায় সময়ই তাদের দোকানে আসেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কথা বলে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে যান। এ ধরনের ঘটনা তারা ইতিপূর্বে আরো বেশ কয়েকবার ঘটিয়েছেন। তবে সোর্স শামীমের সাথে দুই পুলিশ কর্মকর্তা থাকায় ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।
এর আগে জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) কর্মরত ছিলেন এএসআই আমিনুল হক। গত বছরের ২৬ আগস্ট রাতে শহরের খানপুর এলাকার ‘মাই লাইফ’ ফাস্টফুডের দোকানিদের সাথে ডিবি পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ফাস্টফুডের মালিক জালাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা ইয়াসমিনের দায়ের করা মামলায় এএসআই আমিনুল হককেও আসামি করা হয়।
এ ব্যাপারে বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ওই দোকানে গাঁজা ও লায়ন নামে নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক পানীয় বিক্রি হয় এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে পুলিশের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত চালাতে হলে তো ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন। 
ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে অভিযান চালালে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আমি গিয়ে এলাকাবাসীকে শান্ত করি এবং সোর্স শামীমকে পুলিশের হেফাজতে থানায় নিয়ে আসি।
তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সোর্স শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং দুই পুলিশ সদস্য জড়িত ছিলেন কিনা সে বিষয়টি নিয়েও তদন্ত চলছে।
ওই দুই পুলিশ সদস্য ও সোর্সের বিরুদ্ধে এর আগেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে অভিযানের কথা বলে দোকানিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, এমন কোন অভিযোগ কেউ আমাদের কাছে করেনি। আমরা অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা (পরিদর্শক) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ সুপারকেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। 
তিনি জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পুলিশ সদস্যকেও ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop