অন্যান্য সময়ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞের মত জানুন লাইভ অনুষ্ঠানে

জাফর সাদিক

fb tw
somoy
ডেঙ্গু! শব্দটির উৎপত্তির বিষয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য না থাকলেও ধরে নেয়া হয়, সোয়াহিলি ভাষার ‘কা- ডিঙ্গা পেপো’ বাক্যাংশ থেকে শব্দটির উৎপত্তি, যার অর্থ-দুষ্টু আত্মা বা শয়তানের প্রভাবে সারা শরীরে ভয়াবহ ব্যথা। সোয়াহিলি ভাষার ‘ডিঙ্গা’ থেকেই স্প্যানিশ ‘ডেঙ্গু’ শব্দটি প্রতিস্থাপিত বলে মনে করেন অনেকে।
ডেঙ্গু বিস্তারের ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে দেখা যায় চীনা বিশ্বকোষে ২৬৫-৪২০ খ্রিস্টাব্দে জিন সাম্রাজ্য এমন একধরণের জ্বরের তথ্য আছে যা মূলত পতঙ্গের মাধ্যমে পানি-বাহিত একটি অসুখ হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে ১৭৭৯ সালে এই অসুখটির ডেঙ্গু নামকরণের পর ১৭৮০ সালেই এশিয়া, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকায় মহামারি আকারে এই ধরণের অসুখ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৭৮৯ সালে নিশ্চিতভাবে ডেঙ্গু রোগটি সনাক্ত হয়, জ্বরের সাথে ভয়ংকর শরীর ব্যথার কারণে যাকে বেঞ্জামিন রুশ ‘হাড়ভাঙ্গা জ্বর’ নামে আখ্যায়িত করেন।
বাংলাদেশে এই শতকের শুরুতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সন্ধান পাওয়ার পর গত কয়েক বছরে হঠাৎ করেই যেন অনুকূল পরিবেশ পেয়ে হু হু করে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। এতদিন ডেঙ্গু শুধু রাজধানীবাসীর আতঙ্কের কারণ থাকলেও এখন ডেঙ্গু আতঙ্কে কাঁপছেন সারাদেশের মানুষ। সরকারি হিসেবে এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত শুধু হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছেন অর্ধ-লক্ষাধিক ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষ। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩০ জন। বেসরকারি হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যাটাতো আরো কয়েকগুণ বেশি! বেসরকারি তথ্যমতে সারাদেশে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যাই ১৩০ জন!  
সরকারি নানা পরিকল্পনা আর দুই সিটির আশ্বাসেও কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না ‘হাড়ভাঙ্গা ব্যথা’র ডেঙ্গু রোগ। অথচ পৃথিবীর অনেক দেশের মত প্রতিবেশী দেশের কোলকাতাতেও বছরব্যাপী পরিকল্পিত ও সমন্বিত নানা উদ্যোগ আর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারে সফলভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। তাহলে বাংলাদেশে কেন বিস্তারের দুই দশক পরে এসে ডেঙ্গু ‘মহামারি’ আকারে রূপ নিতে যাচ্ছে?  কেনই বা এই রোগ নিয়ন্ত্রণে হাবুডুবু খাচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে কাজ করছেন। কেউবা ডেঙ্গু রোগ বিস্তারের উৎস খুঁজতে গিয়ে স্বেচ্ছায় ডেঙ্গু ম্যাপিং করছেন আবার কেউ ডেঙ্গু ভাইরাসবাহী মশা নিয়ন্ত্রণে গবেষণা করছেন। কেউ আবার যথাসাধ্য আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবায় সুস্থ করার কাজে ব্রতী। এর মধ্যে ‘স্টপ ডেঙ্গু’ নামে একটি অ্যাপও ঘটা করে উদ্বোধন করা হয়েছে।
চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানী ও আইসিডিডিআরবি’র সাবেক জ্যেষ্ঠ গবেষণা তদন্তকারী আতিক আহসান এ মাসের শুরুতে নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছায় ডেঙ্গু বিস্তারের উৎস খুঁজে বের করতে ডেঙ্গু ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু করেন। আক্রান্ত ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহের পর জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে মূলত ডেঙ্গু রোগীর অবস্থান ও ঘনত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিস্তারের উৎস চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হয় এই ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে। কোথায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, কোথায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হবে কিংবা অধিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন সেগুলো চিহ্নিত করা যাবে এই ম্যাপের মাধ্যমে। মূলত উন্নত বিশ্বে এধরণের রোগের ক্ষেত্রে এরকম ম্যাপিং প্রচলিত একটি পদ্ধতি। যাতে সহজেই উৎস ও বিস্তার চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যায়।
মাহফুজা মোমেন বাংলাদেশ আনবিক শক্তি কমিশন সাভার কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। গবেষক দলের সদস্য হিসেবে তিনি ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ‘স্টিরেল ইনসেক্ট টেকনিকস’ (এসআইটি) পদ্ধতির সফলভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হন। এই পদ্ধতিতে পুরুষ এডিস মশাকে গামা রশ্মি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রজনন অক্ষম করে ফেলা হয়। পরবর্তীতে এই পুরুষ মশার সাথে নারী এডিস মশা মিলিত হলেও আর লার্ভা উৎপন্ন হবে না। এভাবে লার্ভা উৎপাদন বন্ধ হতে থাকলে ক্রমান্বয়ে ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশার উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যাবে। এই প্রযুক্তিতে প্রজনন অক্ষম পুরুষ মশাকে যদি ডেঙ্গুর বেশি বিস্তার ঘটছে এমন এলাকায় ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে ধীরে ধীরে সেখান থেকে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
অন্যদিকে ডা. মতলেবুর রহমান মেডিসিন বিভাগের অধীনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিনিয়ত অসংখ্য ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ম্যাপিং এবং এসআইটি প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা কার্যকর হতে পারে সে বিষয়ে আলোয়ানয় অংশ নিবেন তিনি।
সময় টেলিভিশনের নিয়মিত অনলাইন অনুষ্ঠান ‘সাম্প্রতিক ভাবনা’য় এবার ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজের জায়গা থেকে কাজ করে যাওয়া এই তিনজন অতিথিকে নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধের কৌশল’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। সালাউদ্দিন সেলিমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করবেন মো. জাহিদুল ইসলাম রিফাত। আর অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন জাফর সাদিক।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠানটি বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে দর্শকরা সরাসরি দেখতে পারবেন। এছাড়া সরাসরি ০২-৯৬৭০০৬১ নম্বরে কল করে অথবা সময় টিভির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে কমেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন বা মন্তব্য করার সুযোগ পাবেন দর্শকরা।
অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখতে লগইন করতে হবে: www.facebook.com/somoynews.tv আর ইউটিউবে সরাসরি দেখতে লগইন করতে হবে: www.youtube.com/somoytvnetupdate এই ঠিকানায়।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop