প্রবাসে সময়ব্রেক্সিট অনিশ্চয়তায় নেতিবাচক প্রভাব পর্তুগালেও

তারিকুল হাসান

fb tw
রেক্সিট অনিশ্চয়তায় নানা ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দক্ষিণ পশ্চিম ইউরোপের দেশ পর্তুগালে। বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলেনিয়াম বিসিপি'র শেয়ারের দরপতনের পাশাপাশি সামনের বছর থেকে লন্ডন রুটে ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ট্যাপ এয়ার। এছাড়া ব্রেক্সিট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে পর্তুগালের নাগরিকরাও। ব্রিটিশ বিশ্লেষকরা বলছেন, যে ধরণের ব্রেক্সিটই হোক না কেনো তা প্রভাব ফেলবে দু'দেশর চলমান সুসম্পর্কে।
অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই সুসম্পর্ক রয়েছে ইউরোপের দুই দেশ পর্তুগাল ও যুক্তরাজ্যের। তবে সম্প্রতি পর্তুগালের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলেনিয়াম বিসিপি'র শেয়ারের দরপতনের কারণ হিসেবে ব্রেক্সিট ইস্যুকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ব্রেক্সিট হলে যাত্রী সংকট তৈরি হবে এমন আশংকায় এরই মধ্যে সামনের বছর থেকে লন্ডন রুটে ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণাও দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা।
দুদেশের অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী কর্মসংস্থান ও শিক্ষাসহ নানা প্রয়োজনে প্রায় দেড় লাখ পর্তুগিজ যুক্তরাজ্যে এবং ৫০ হাজারের বেশি ব্রিটিশ নাগরিক পর্তুগালে বসবাস করছে। ব্রেক্সিট হলে তাদের ভবিষ্যৎ কি হবে তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন পর্তুগীজরা।
দেশটির এক নাগরিক বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে আমি বেশ উদ্বিগ্ন। জানিনা কি হতে যাচ্ছে। তবে আমি চাই, ই-ইউ এবং যুক্তরাজ্য উভয়ের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনা করে যুক্তরাজ্য দ্রুতই এই ব্রেক্সিট অনিশ্চয়তার ইতি টানবে।'
আরো একজন বলেন, 'যুক্তরাজ্যের সাথে নানা ক্ষেত্রে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে।  আমাদের অনেক নাগরিক যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে, কাজ করছে। আমার প্রত্যাশা ব্রেক্সিট হলেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কগুলো একই রকম থাকবে।'
অপর একজন বলেন, 'পর্তুগালের সাথে যুক্তরাজ্যের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি রয়েছে। ব্রেক্সিটের আগে  সেসব নিরাপদ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। এছাড়া বর্তমানে যুক্তরাজ্যে কর্মরত পর্তুগীজ নাগরিকদের কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানাচ্ছি।'
ইস্যুটিকে এখনো অনিশ্চিত উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, যে ধরণের ব্রেক্সিটই হোকনা কেন তাতে ভ্রমণ, কর্মসংস্থানসহ নানা ক্ষেত্রে জটিলতায় পড়বে অভিবাসী হওয়া ই-ইউ বা ব্রিটিশ নাগরিকরা।
পর্তুগালে বসবাসরত ব্রিটিশ বিশ্লেষক গ্রেগ পালমার বলেন, 'কেউ জানেনা কি ধরনের ব্রেক্সিট হতে যাচ্ছে। চুক্তিসহ বা চুক্তি ছাড়া সবকিছুতেই রয়েছে ধুম্রজাল। আদৌ ব্রেক্সিট হচ্ছে কিনা সেটিও নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে যে ধরনের ব্রেক্সিটই হোক না কেন  সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায় ই-ইউ নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে বা ব্রিটিশদের ই-ইউ দেশগুলোতে প্রবেশসহ নানা ক্ষেত্রে একটি বড় জটিলতার সৃষ্টি হবে। সেসব পর্তুগীজ নাগরিকরা ই-ইউ নাগরিক হিসেবে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে তারা অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো তাদের বর্তমান সুযোগসুবিধাগুলো হারাবে তেমনটি ঘটবে ব্রিটিশ নাগরিকদের ক্ষেত্রেও।'
অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিও পর্তুগিজ পাসপোর্ট নিয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।
সম্প্রতি টেলিফোনে কথা বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্তোনিও কস্তা। ব্রেক্সিট হলেও পর্তুগালের সাথে চলমান সুসম্পর্ক ও সব রকমের সাহায্য  সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টার আশ্বাস দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।  তবে ব্রেক্সিট হলে ই-ইউভুক্ত দেশ পর্তুগালের সাথে সেই সুসম্পর্ক কতোটা বজায় রাখতে পারবে যুক্তরাজ্য সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop