অন্যান্য সময়পুরুষের হাই হিল যেভাবে নারীর হলো

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
আজকালকার ফ্যাশন সচেতন নারীর এক জোড়া হলেও হাই হিল জুতা থাকবেই। কিন্তু জানেন কি, পুরুষদের মধ্যেই সর্বপ্রথম হাই হিল পরার চল তৈরি হয়। শুধু তা-ই নয়, অতীতে উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন পুরুষের স্ট্যাটাসের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো হাই হিল!
একসময় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মধ্যপ্রাচ্যে হাই হিল পরার প্রচলন ছিল। কিন্তু এই হাই হিল হাঁটার জন্য নয়, বরং ব্যবহৃত হতো যুদ্ধের সময়ে। ঘোড়ার পিঠে চড়ে যুদ্ধ করার সময় রেকাবে পা রেখে দাঁড়িয়ে যেতে হতো এবং তীর ছুঁড়তে হতো। এ সময় হাই হিল পরা থাকলে রেকাবে পা আটকে রাখা সহজ হতো। শুধু এ কারণেই তীরন্দাজরা হাই হিল পরতেন।
১৫৯৯ সালে পারস্য থেকে প্রতিনিধি আসে রাশিয়া, জার্মানি এবং স্পেনে। সে সময়েই হাই হিলের ফ্যাশন সম্পর্কে জানতে পারে ইউরোপীয়রা। ১৬শ শতকের দিকে ইউরোপীয় সমাজে এই প্রথা শুরু হতে দেখা যায়। তখন সমাজের ধনী শাসক গোষ্ঠীর পুরুষেরা নিজেদের ঠাঁটবাট জাহির করার জন্য হাই হিল পরা শুরু করে।
হাই হিল পরলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে সমস্যা হয়। এটি পরে দৈহিক পরিশ্রমের কাজ করাও সম্ভব নয়। সমাজের নিম্ন মর্যাদার সাধারণ মানুষের সেই অবকাশ ছিল না যে তারা হাই হিল পরে কাজ না করে বসে থাকবে। সমাজে যারা উচ্চ মর্যাদার মানুষ তাদের কোনো রকমের পরিশ্রম করতে হতো না। তারাই শুধুমাত্র হাই হিল পরার মতো বিলাসিতা করতো।
তবে, পদমর্যাদা বা সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে হাই হিল পরা শুরু হলেও পরবর্তীতে পুরুষের কর্তৃত্বের প্রতীক হিসেবেও এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৬৩০ সালের দিকে নারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং পুরুষের কর্তৃত্ব খর্ব করার জন্য তাদের মতো পোশাক আশাক পরতে শুরু করে। ধূমপান, পুরুষালী হ্যাট পরা, চুল ছোট করা, পোশাকে অ্যাপিউলেট (কাঁধে লাগানোর ঢাকনাবিশেষ) লাগানোর পাশাপাশি নারীরা হাই হিলও পরা শুরু করে।
এরপর নিম্ন মর্যাদার মানুষের মাঝেও ফ্যাশন হিসেবে হাই হিল পরা শুরু হয়। কিন্তু উঁচু শ্রেণী আর নিচু শ্রেণীর মানুষের জুতো একই রকম হয়ে গেলে উঁচু শ্রেণীর মানুষের মর্যাদা খর্ব হবে। তাই নারী এবং নিম্ন শ্রেণীর মানুষের চাইতে নিজেদেরকে আলাদা করে তুলতে উচ্চশ্রেণীর পুরুষেরা নিজেদের হিলের উচ্চতা বাড়িয়ে তোলে। আবার পুরুষ এবং নারীর হাই হিলের মধ্যেও পার্থক্য তৈরি করে দেওয়া হয়। নারীরা পরতো চিকন হিল এবং পুরুষেরা পরতো মোটা হিল।
ছবি: ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুই
 
ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুই ছিলেন হাই হিল পরার ব্যাপারে সবার চেয়ে বিখ্যাত। মাত্র পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি উচ্চতার এই শাসক নিজের উচ্চতা বাড়াতে কমপক্ষে চার ইঞ্চি উচ্চতার হাই হিল পরতেন। এখান থেকে ইংল্যান্ডের রাজন্যবর্গের মাঝেও এটা ছড়িয়ে যায়। চতুর্দশ লিউ ১৬৭০ সালের দিকে নিয়ম করে দেন, শুধুমাত্র তার রাজসভার সদস্যরা লাল রঙের হিল পরতে পারবেন। ফলে কারও পায়ের দিকে তাকালেই বোঝা যেত তিনি রাজার প্রিয়পাত্র কি না।
পুরুষ কেন হাই হিল পরা বন্ধ করে দিল? তার কারণ হলো নারীরা হাই হিল পরে এর পুরুষালী আবেদন কমিয়ে দিচ্ছিল! ফলে হাই হিল পরার ওপর থেকে পুরুষেরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
১৭৪০ সালের দিকে পুরুষের হাই হিল পরার চল উঠে যায়। ফরাসি বিপ্লবের পরে হাই হিলের চল নারীদের মধ্যে থেকেও উঠে যায়। ১৯ শতকের মাঝামাঝি দিকে এসে ফটোগ্রাফির একটা ঝোঁক দেখা যায় সবার মাঝে। তখন আবার হাই হিল নারীদের মাঝে জনপ্রিয় হতে শুরু করে।
বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের হিল পরার অভ্যাস চালু আছে নারীদের মাঝে। সমকামি পুরুষদেরও মাঝে মাঝে হিল পরতে দেখা যায়।
যদিও এখন আর সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে পুরুষেরা হাই হিল পরেন না। কিন্তু কেউ যদি হাই হিলকে মেয়েদের বৈশিষ্ট্য বলে জাহির করবার চেষ্টা করে তবে তাকে মনে করিয়ে দেবেন, এক সময় পুরুষের থেকেই এসেছে এর প্রচলন।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop