খেলার সময়সেদিন কলম্বোয় ফুটেছিল বাংলাদেশের ‘আশার ফুল’

মামুন শেখ

fb tw
somoy
উষ্কখুষ্ক চেহারা। উচ্চতা মাত্র ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। হ্যাংলা শারীরিক গঠন। মোটেও স্পোর্টম্যানসূলভ বলা যায় না। প্যাড, হেলমেট আর গ্লাভসের ভেতরে হারিয়ে যাওয়া শরীরটা খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। প্রতিপক্ষের বোলারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো তো দূরের কথা, এমন পিচ্চি ছেলেকে নিয়ে তাদের হাসি-তামাশাই করার কথা! কিন্তু ভেতরে বারুদ থাকলে তা যেকোনো সময় জ্বলে উঠতে পারে; সেটাই প্রমাণ হয়েছিল আজ থেকে ২০ বছর আগে কলম্বোর সিংহলী স্পোর্টস গ্রাউন্ডে।
২০০১ সালের আজকের দিন (৮ সেপ্টেম্বর)। সিংহলী স্পোর্টস গ্রাউন্ড সাক্ষী হয়েছিল ৪০ বছরের পুরনো এক রেকর্ড ভাঙার। ক্রিকেট বিশ্ব তাকিয়েছিল অবাক দৃষ্টিতে। সেদিন চামিন্দা ভাস, মুত্তিয়া মুরালিধরনদের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে শতক তুলে নিয়েছিলেন নিয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। এখনো পর্যন্ত যা আন্তর্জাতিক টেস্টে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরির রেকর্ড। ১৭তম জন্মদিনের আগের দিন ব্যাট হাতে নেমে এই ইতিহাস গড়েছিলেন আশরাফুল। তার আগে রেকর্ডটি ছিল পাকিস্তানের মুস্তাক মোহাম্মদের। ১৯৬১ সালে ভারতের বিপক্ষে ১০১ রানের ইনিংসটি খেলার সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর ৮২ দিন।
এখানে একটা বিতর্কও আছে। অনেক জায়গায় আশরাফুলের জন্মদিন বলা হয়েছে ৭ জুলাই। কিন্তু তার পাসপোর্টে জন্ম তারিখ রয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর। অবশ্য এর মধ্যে যেকোনো তারিখ হিসাব করলেই তিনি তার রেকর্ড ধরে রাখতে পারবেন।
২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় বাংলাদেশের। এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষের দুই ম্যাচের একটি সিরিজ খেলার পর শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানকে নিয়ে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলে টাইগাররা। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে লঙ্কানদের বিপক্ষে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৯০ রানে অলআউড হয়ে যায় নাইমুর রহমান দুর্জয়ের দল। ওই ম্যাচে অভিষেক হওয়া মোহাম্মদ আশরাফুলের ২৬ রানই ইনিংসে সর্বোচ্চ। জবাব দিতে নেমে মারভান আতাপাত্তুর ২০১ এবং মাহেলা জয়াবর্ধনের ১৫০ রানে ভর করে ৫ উইকেটে ৫৫৫ রান করে ইনিংস ঘোষণা দেয় লঙ্কানরা।
জবাব দিতে নেমে আবারো ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে ঠাঁই দাঁড়িয়ে লড়ে যান মোহাম্মদ আশরাফুল। ২১২ বলে ১৬টি বাউন্ডারিতে সাজান ১১৪ রানের ইনিংসটি। ম্যাচে শক্তিশালী লঙ্কানদের কাছে ইনিংস এবং ১৩৭ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ।
সেদিন দলকে বড় হারের লজ্জা থেকে বাঁচাতে পারেননি মোহাম্মদ আশরাফুল। কিন্তু অভিষেক টেস্টেই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন; ১৬ কোটি মানুষের ‘আশার ফুল’ হয়ে ওঠেন। কিন্তু ২০১৩ সালে ‘ফিক্সিং’ নামক ঝড়ে সেই ফুলের ডগাটাই মচকে যায়। এরপর থেকে দিনে দিনে শুকিয়ে যাওয়ার অবস্থা প্রতিভার এই ভাণ্ডারটির।
সেবছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএলে) ম্যাচ পাতানো এবং স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে পরের বছর বিপিএল এন্টি করাপশন ট্রাইব্যুনাল আশরাফুলকে ৮ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। সঙ্গে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ডিসিপ্লিনারি প্যানেল ওই সাজা কমিয়ে পাঁচ বছর করে। ২০১৮ সালের ১৩ অগাস্ট আশরাফুলের সব নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। আবারো জাতীয় দলে ফিরতে চান। অ্যাশ ভক্তদের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়। কিন্তু গত প্রায় এক বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি; দর্শকরাও খুঁজে পাননি ‘পুরনো আশরাফুলকে’। গত পাঁচ ছয় বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট যত দ্রুত এগিয়েছে, মোহাম্মদ আশরাফুল ঠিক ততটাই পেছনে পড়েছেন। ক্যারিয়ারের ৬১ টেস্টে ৬টি সেঞ্চুরিসহ ২ হাজার ৭৩৭ রান করেছেন আশরাফুল; সর্বোচ্চ ইনিংস ১৯০। ১৭৭ ওয়ানডেতে তার রান ৩ হাজার ৪৬৮; সেঞ্চুরি ৩টি। আর ২৩ টি-২০তে করেছেন ৪৫০ রান।
চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই সময়ে ৩৬ বছরে পা দেয়া আশরাফুলের আবারো জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরা যে সহজ নয় সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আরও পড়ুন

নেইমারকে নিয়ে আর ভাববে না বার্সেলোনাএখন কি ওদের শেখাতে হবে, কীভাবে টেস্ট খেলতে হয়!

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop