মুক্তকথাপৃথিবীর মাটিতে জন্মেও মানুষের নাগরিক বিড়ম্বনা!

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
"হে মানুষ! 
পৃথিবীর মাটিতে নেই তোমার নাগরিকত্ব! 
রোহিঙ্গা ইস্যু, আসাম নাগরিকত্ব সংকট, 
কিংবা আমেরিকায় জন্ম হলেও নেই নাগরিকত্ব!!
আজ যেন নাগরিক সংকটে সংকটময় সারা পৃথিবী! 
পৃথিবীর মাটিতে জন্মিলেও নেই মানুষের নাগরিকত্ব! 
নাগরিক সংকটে মানুষ হারিয়েছে তার বিশেষত্ব! 
নাগরিকত্ব না থাকলে, থাকে না যে তার রাষ্ট্র! 
কিন্তু থাকে তো একটি জিনিস, সে হলো মনুষ্যত্ব! 
যদি মনুষ্যত্বকে মর্যাদা দিবে না?
তাহলে থাকবে কি তোমার মনুষ্যত্ব?
পরিশেষে তুমিই ভরণ করবে পশুত্ব!
তখন কিসের তোমার আধুনিক সভ্যতা? 
তোমার বসবাস হচ্ছে আধা বর্বরতা! 
পৃথিবীর মাটিতে জন্মে মানুষের নাগরিক বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষ নাগরিকত্ব আইন পাস করে। তবে জন্ম ও অনুমোদন সুত্রে এই নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়ে থাকে। যদিও বুদ্ধিমত্তার কৃত্রিম সংযোজনে আইন কানুন তৈরি করে প্রকৃতিমুখী মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে আধুনিক বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করার জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। মানুষের অধিকার যথাযথ বাস্তবায়নের কৌশলগুলো সঠিকত্ব করার জন্য রাষ্ট্র, নাগরিক, সরকার, শাসন পরিচালনা করা হয়েছে। রাষ্ট্রে মানুষকে নাগরিক নামে অভিহিত করা হয়েছে। রাষ্ট্র, নাগরিক, সরকার, শাসন বিষয়গুলো খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন যে, এগুলো প্রকৃতিগত বিষয় নয়। তবে প্রকৃতির মাঝেই অবস্থান করা কৃত্রিম প্রক্রিয়া মাত্র। এই কৃত্রিম প্রক্রিয়া আস্তে আস্তে মানুষ মানুষের জন্যে উন্মুক্ত করার পরিবর্তে জটিল করে তুলছে। সমস্ত পৃথিবীব্যাপী মানুষের জন্য জীবন যাপন প্রক্রিয়া জটিল হচ্ছে। অবশ্য রাজনৈতিক সমীকরণের জন্য এমন জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুঁজিবাদতন্ত্র কায়েমের স্বার্থেও জটিল করা হচ্ছে। 
পৃথিবীতে প্রকৃতির ভূমিকাতেই মানুষ পৃথিবীর মাটিতে জন্ম নেন। কিন্তু সেখানে নাগরিকের জন্য রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন করেছে মানুষ। এ রাষ্ট্রব্যবস্থা মানুষের নিশ্চিত নিরাপত্তার সাথে স্বাধীনভাবে বসবাস করার জন্য। কিন্তু আজকে পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্র তার নাগরিকের বিশেষ অংশকে রাষ্ট্র ছাড়া করছে। স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। কেন করছে এমন সব কার্য? তা সঠিক বোধগম্যমূলক ব্যাখ্যা প্রদান না করলেও, সংঘবদ্ধ রাজনীতির( কর্পোরেট পলিটিক্স) পাশাপাশি সংঘবদ্ধ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য (পুঁজিবাদী চিন্তা) চরিতার্থ করার প্রয়াসে এমনটি হচ্ছে, তাতে বিশেষ সন্দেহের অবকাশ নেই। রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্ব অর্জনের পদ্ধতিগুলো অনুসরণের মাধ্যমে এসব নাগরিকের নাগরিকত্ব ছিলো ঐসব রাষ্ট্রে। তবুও কেন তাদেরকে রাষ্ট্র ছাড়া হতে হলো বা হতে হবে? তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। বরং মনগড়া কিছু কথা রয়েছে। যেগুলো সুশাসন বা সভ্য সরকার অথবা রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিপন্থী কাজ। 
মায়ানমার সরকারের নিজস্ব সামরিক বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়ে সেখানকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী পালিয়ে আসার সময় সাতপাঁচ মার্কা কথা বলেছিলো বটে। দু'বছর গত হলো কিন্তু মায়ানমার সরকার আজ অবধি তাদের নাগরিকত্ব আইন নিশ্চিত করে এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজের মাটিতে ফিরিয়ে নেই নি। আন্তর্জাতিক সংগঠনের কোন চাপকে তারা বিশেষ কোন আমলে নেয় নি। আমলে না নেওয়ার কারণ স্পষ্ট নয়, তবে বলা যায় অস্ত্রবল আর অর্থবলে বলীয়ান কোন রাষ্ট্র বা  সরকার তাদের মদদদাতা। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য। হয়তো কিছুদিন পরে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট হতে পারে! ক্ষতি হতে পারে জন নিরাপত্তা! তবে আসল ক্ষতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই আধুনিক যুগের এই ভূমিহারা মানুষগুলো। আধুনিক যুগের সভ্যতা সংস্কৃতি তাদের মাটি হারা করেছে, ভূমিহীন করেছে, যে ভূমিতে তাদের জন্ম, সে ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছে! তাহলে কিসের সভ্যতা! কিসের আধুনিকতা! কিসের সংস্কৃতি!
২৫০০ বছরের দর্শন চর্চা মানুষের সংস্কৃতির বিশেষ কি সংস্করণ করতে পেরেছে? পারে নি বরং বর্বরোচিত চিত্র এখানে ফোটে উঠেছে। অভিযাত্রিক বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষকে মানুষের ভিটেমাটি ফিরিয়ে দিতে পারবে? সম্ভবত পারবে না। 
আবার এদিকে ভারতের আসামে ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন সংক্ষেপে এনআরসি বাতিলের পক্ষে বক্তব্য এসেছে প্রায় ১৯ লক্ষ নাগরিকের অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে এদের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে রাষ্ট্র বা সরকার। এরা ভাষাভাষীতে বাঙালি, হিন্দু মুসলিম দু'ধর্মেরই। ধর্ম, বর্ণ, ভাষার বিষয় নিয়ে কথা বলতে আমি চাচ্ছি না বরং পৃথিবীর মাটিতে মানুষ হিসেবে জন্ম গ্রহণ করে যে রাষ্ট্র পেয়েছে। সে রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিল হলে। আধুনিক যুগে সে মানুষের মূল্যায়ন কি? গৃহহারা বা গৃহহীন করা রাষ্ট্রীয় কোন কিছুতে এদের মূল্যায়ন হবে? নিশ্চয়ই হবে না। যদিও ইতিমধ্যে প্রায় শতাধিক মানুষ এই অমর্যাদাকর বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে আত্মহনন করেছে। বাকী মানুষগুলোর কি অবস্থা! একবার ভাবুন তো!
বিবিসি'র অনলাইন নিউজে আসামের এই এনআরসি বাতিলের বিষয়ে এনআরসি বাতিলকৃত কিছু মানুষের সাক্ষাৎকারে লক্ষ্য করলাম যে, এরা বলছে বাঙলা ভাষায় কথা বলার জন্য এদের নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছে। কি আশ্চর্য কথা! ভাষা তো নাগরিকত্ব বাতিলের মানদণ্ড নয়। বরং আমরা জানি যে, পৃথিবীতে প্রাচীন গ্রীসের নগর রাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আর নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় দুভাবে- জন্ম সুত্রে আর অনুমোদন সুত্রে। আবার অনুমোদন সুত্রের নাগরিকদের নাগরিক অধিকার বাতিল করলেও জন্মসুত্রের নাগরিকদের নাগরিক অধিকার বাতিল সম্ভব না। কিন্তু আসামের বাতিল কৃত নাগরিকদের সবাই জন্মসূত্রে নাগরিক আসামের নাগরিক। তবুও তাদের অধিকার বাতিল করেছে ভারতীয় সরকারব্যবস্থা। রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের সরকার নিজস্ব কৌশলে চলবে, সেটা অবশ্য ঠিক। কিন্তু রাষ্ট্রের মানুষের নাগরিক মর্যাদা বাতিল বীরোচিত কোন বিষয় নয়। কেননা মানুষের নাগরিক মর্যাদা বাতিল বীরোচিত বা ভাবগাম্ভীর্যের কোন বিষয় হতে পারে না। ভাষা, ধর্ম, বর্ণের বিদ্বেষের কারণে নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া চরম হীনতর কাজ। জন্মের মাধ্যমে পাওয়া নাগরিকত্ব আইন পাস করে বাতিল করা মানে হলো মানুষকে মর্যাদা না দেওয়া। কাজেই পৃথিবীর মাটিতে সব মানুষের বসবাস করার অধিকার রয়েছে। যে অধিকার রক্ষায় মনোযোগ দেওয়া উচিত সে রাষ্ট্রের। আর মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব স্বয়ং রাষ্ট্রের! নাহলে তুমি কিসের সভ্য রাষ্ট্র! কিসের সভ্য সরকার! কিসের আধুনিক মানুষ! কিসের সভ্য শাসক! কিসের সভ্য শাসনব্যবস্থা তোমার! আর মানুষের নাগরিক অধিকার বাতিলের মতো এমন অসভ্য কার্য যদি তুমি সম্পন্ন করো, নিশ্চিত তুমি বর্বর। তোমার শাসিত জনপদে সভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি। তোমার চন্দ্র অভিযান, মঙ্গল অভিযানে আধা বর্বরোচিত চিত্রই ফোটে উঠবে। বরং এইগুলো সভ্যতার পরিপূরক নয়, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা শাসকের সভ্য আচরণের পরিস্কার ইঙ্গিত। 
লেখক: এম আই কে রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, 
             কবি, লেখক, রাজনীতিবিদ
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop