পশ্চিমবঙ্গএনআরসি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে মুখোমুখি বিজেপি-তৃণমূল

সুব্রত আচার্য

fb tw
somoy
জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি ইস্যুতে তুমুল রাজনৈতিক বির্তক শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এনআরসির বিরুদ্ধে পথে নেমেছে।
অন্যদিকে, বিজেপির পাল্টা হুঙ্কার যে, বাংলাদেশ থেকে মুসলিম রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের এনে ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলেছেন মমতা। তাই এনআরসি করে তাদেরই শুধুমাত্র ঘাড় ধাক্কা দিয়ে রাজ্য থেকে বের করে দেওয়া হবে।
আসামের এনআরসি বাস্তবায়নের পরই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে এনআরসির দাবি করে আসছে বিজেপি। এর বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে তৃণমূলও।
রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এনআরসির বিরুদ্ধে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা একটি বিল পাশ করে। ওই বিলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন বিরোধী বিজেপি শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব।
বৃহস্পতিবার ( ১২ সেপ্টেম্বর) কলকাতার অদূরে সিঁথির মোড় থেকে এনআরসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরুপ এক পদযাত্রায় অংশ নেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রায় চার দশমিক পাঁচ-কিলোমিটার পথে পায়ে হেঁটে উত্তর কলকাতার শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে সংক্ষিপ্ত একটি পথসভাতেও বক্তব্য রাখেন তৃণমূল সভানেত্রী তথা রাজ্যটির প্রশাসনিক প্রধান।
মমতা ব্যানার্জি এ সময় বলেন, দেশ জুড়ে তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা সে-দিক থেকে নজর আড়াল করতেই এনআরসির কে সামনে এনে বিভাজনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে বিজেপি। এটাকে মমতা বাংলা ভাগের চক্রান্ত হিসাবেও মনে করেন।
আসামের এনআরসি থেকে ১১ লক্ষ হিন্দু নাগরিকও বাদ পড়েছেন এবার। স্বাধীনতার পরও দেশের মানুষকে কতবার নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমান করতে হবে প্রশ্ন তোলেন মমতা।
মুখ্যমন্ত্রী এসময় আরো বলেন, ক্ষমতা থাকলে এই রাজ্যে এনআরসি করতে আসুক বিজেপি। এই রাজ্য থেকে একজন মানুষকেও তাড়ানোর চেষ্টা করা হলে তার ফল ভালো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি করে দেন মমতা। মমতা বলেন, আমরা বিজেপিকে ধিক্কার জানাই।  
তৃণমূল নেত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কোনও অস্তিত্ব নেই। ওদের অবৈধ টাকা এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এই দুটো দিয়ে ওদের এখানে হাওয়া উড়ে। বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের কোনও অস্তিত্ব নেই বলেও দাবি করেন। তাই এনআরসির বিরুদ্ধ এই লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তৃণমূল সমর্থন চান।
মমতা বলেন, আমি বেঁচে থাকতে এনআরসি করতে দেবো না। আর আমি মরে গেলেও এখানে চারটা প্রজন্ম আছে। আমি সেই প্রজন্ম তৈরি করে গেছি।
ভারতীয় সময় বিকাল ৩ টা থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়। আর প্রায় এক ঘন্টা পর সেই পদযাত্রা গিয়ে শেষ হয় বিকাল ৪টায়। শ্যামবাজারে পদযাত্রা শেষেই মমতা তার সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন।
এদিন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, কলকাতা করপোরেশনের চেয়ারপার্সন  সাংষদ মালা রায়, ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধাণ পান্ডে ছাড়াও বেশ কয়েকজন শীর্ষ তৃণমূল নেতাকেও  এইদিন প্রতিবাদ মঞ্চে দেখা গিয়েছে।
ওদিকে মমতার এই প্রতিবাদের তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি এদিন সন্ধ্যায় রাজ্য বিজেপি সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, আসামের মতোই এই রাজ্যে এনআরসি হবে।
 তবে মমতা ক্ষমতা থাকতে নয়, ক্ষমতা থেকে গেলেই হবে। দিলীপ ঘোষ বলেন, মমতা ব্যানার্জি সংসদের তিন তালাক ইস্যুতেও বিরোধীতা করেছিলেন পারেন নি। আসামের এনআরসি নিয়েও বিরোধীতা করেছিলেন পারেননি। এবার পশ্চিমবঙ্গে করা হবে সেটাও তিনি করতে পারবেন না।
দিলীপ ঘোষ বলেন, আসামের এনআরসিতে প্রথবারের আবেদনকারীর মধ্যে সাড়ে চার লাখ দ্বিতীয়বার আবেদন করেননি, তারা কোথায় গেলেন ? কেন তারা আবেদন করেননি। তারা ভারতীয় নন বলেই করেননি। ঠিক এই কারণে এনআরসি করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ২ কোটি অনুপ্রবেশকারী ভারতের প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ১ কোটি বাকিরা অন্য রাজ্যে চলে গেছেন।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান থেকে হিন্দুরা আসলে ভারতের জায়গা দেওয়া হলেও মুসলিমদের তাড়ানো হবে বলে জানান ওই শীর্ষ বিজেপি নেতা। দিলীপ আরো ঘোষ বলেন, আমরা অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়াবো।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop