মহানগর সময়‘সুফলের’ সফলতা নিয়ে সংশয় সংসদীয় কমিটিতে

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
বিশ্বব্যাংকের ঋণ ও সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের 'টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল)' কার্যক্রম দেখে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। একবছরের বেশি সময় চলে গেলেও ৬০০ গ্রামের মধ্যে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি গ্রাম নির্বাচিত হয়েছে।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে আয়োজিত পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সফলতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকের পর কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সুফলের’ পাঁচ বছরের এই প্রকল্পের এক বছরের বেশি সময় পার হলেও প্রকল্প এলাকা এখনো চিহ্নিত হয়নি। তবে গাড়ি কেনা, বিদেশ ভ্রমণ ও পরামর্শক নিয়োগ হয়েছে। প্রকল্পের প্রশিক্ষণ ব্যয় ১১০ কোটি টাকা হলেও এ সময়ে চূড়ান্ত হয়নি কিসের ওপর ও কাদের প্রশিক্ষণ হবে। প্রথম বছরে ৬৫ কোটি টাকা খরচের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে খরচ হয়েছে ৫৭ কোটি টাকা। ৬০০ গ্রামের ৪০ হাজার বননির্ভর পরিবারকে নিয়ে এ প্রকল্পের কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত গ্রামগুলো চিহ্নিত না হওয়া হতাশা প্রকাশ করেন সাবের হোসেন।
মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প এটি কিন্তু তাদের কোনো প্রস্তুতি নেই। মৌলিক কাজগুলোই করা হয়নি। এক বছর পরও তাদের পরিকল্পনা গোছানো নয়। পরিকল্পনার দিক থেকে কোনো ধরনের স্বস্তি খুঁজে পাননি এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাস্তবায়ন তো অনেক পরের কথা। এত বড় প্রকল্পের পরিচালককে আরও কয়েকটি প্রকল্পের দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে যোগ করেন।
একহাজার ৫০২ কোটি টাকার এ প্রকল্পের এক হাজার ৪৭০ কোটি টাকা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়া যাবে।
এত বড় প্রকল্পের জন্য একজন সার্বক্ষণিক পরিচালক নিয়োগ করতে হবে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) গঠন করা হলেও তা ভেঙে দেয়া হয়েছে। এ নিয়েও কমিটি প্রশ্ন তুলেছে। তিনি বলেন, প্রকল্পের নামটা যত ভালো, কাজ ততটা ভালোভাবে শুরু হয়নি।
জানা গেছে, সরকারি বনজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বনজ সম্পদ উজাড় রোধ ও বননির্ভর জনগোষ্ঠীর বিকল্প জীবিকা সুবিধা প্রদানসহ বেশ কিছু লক্ষ্যমাত্রা সামনে নিয়ে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্প নেয়া হয়। মেয়াদ শুরুর ছয় মাসের মাথায় গতবছর ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প আগামী ২০২৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। এটি বাস্তবায়ন করছে বন অধিদপ্তর। প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার ৩২ কোটি ৭২ লাখ টাকা অর্থায়ন করছে। বাকি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক। ১ হাজার ৫০২ কোটি টাকার ‘টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল)’ প্রকল্পটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় প্রকল্প।
জানা গেছে, দেশের আটটি বিভাগের ২৮টি জেলায় পাঁচটি বনাঞ্চলে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার কথা। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য, সহযোগিতামূলক বন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও প্রকল্প এলাকায় বননির্ভর জনগোষ্ঠীর বিকল্প আয়বর্ধক কাজের সুযোগ সৃষ্টি। এর মাধ্যমে বন ও রক্ষিত এলাকা সংলগ্ন ৬০০টি গ্রামের ৪০ হাজার বননির্ভর পরিবারের উন্নয়ন করা। এছাড়া ৫২ হাজার ৭২০ হেক্টর বৃক্ষশূন্য পাহাড়ি ও সমতল বনভূমিতে বনাচ্ছাদন, নতুন জেগে ওঠা চরে ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজন, ২০টি রক্ষিত এলাকায় দুই হাজার ৫০০ হেক্টর বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং এক হাজার ৩৩০ হেক্টর এলাকায় বন্যপ্রাণীর চলাচল পথের উন্নয়ন, ছয়টি বনে রক্ষিত বন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন, পাখি শুমারি ও রিং পরানো ও শিকারি পাখি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এই প্রকল্পের আওতায়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের জাতীয় বনাঞ্চল এক দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে।
 
 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop