ভ্রমণসমুদ্রকে বশ করে গড়ে তোলা দেশ

প্রান্তী সারোয়ার

fb tw
somoy
টলমলে স্বচ্ছ পানি, নদীর নিচটা পর্যন্ত দেখা যায়। সারি সারি বোট। দুই তীরে গাছের সারিগুলো যেন কোনো শিল্পীর আঁকা ছবি। চোখ মেললেই মনে হয়, প্রকৃতি তার সৌন্দর্য্যের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে। আর যুগের পর যুগ সেই সৌন্দর্যে এতটুকু কমেনি; যেন চির যৌবনা।
কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, চোখ জুড়ানো এমন সৌন্দর্য মানুষেরই তৈরি। আর সেটা ধরে রেখেছে মানুষই। বলা হচ্ছে, ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশ নেদারল্যান্ডসের কথা।
দেশটির উপকূলীয় অধিকাংশ এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠের অনেক নিচে। চারপাশে কৃত্রিম বাঁধ তৈরি করে জায়গাগুলোকে বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে। আর যুগের পরিক্রমায় গড়ে উঠেছে বড় বড় শহর।
পরিসংখ্যান মতে, নেদারল্যান্ডসের বর্তমান ভূ-ভাগের ১৭ ভাগ হচ্ছে সমুদ্র এবং হৃদ থেকে উদ্ধারকৃত জমি। নেদারল্যান্ডসের ৬০ ভাগ জায়গা বন্যাপ্রবণ। বর্তমানে সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে নেদারল্যান্ডসের যে জায়গাগুলোতে বসতি স্থাপন করা হয়েছে বা কৃষি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে তার পুরোটাই হচ্ছে মানুষের তৈরি।
তবে পানি ব্যবস্থাপনা ডাচ জনগণের ঐতিহ্য ও রক্তে মিশে। সুদীর্ঘকাল হতে তারা শিখেছে কিভাবে বন্যাকে নিয়ন্ত্রণ করে এর সঙ্গে টিকে থাকা যায়। ডাচ সরকার ও তাদের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করে বড় বড় সব নদী এবং সাগরের জলরাশিকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে। এ জন্য পোল্ডার, ডাইক, স্লুইস গেইট এবং ছোট ছোট অসংখ্য লেক, শাখানদী, জলাধার নির্মাণ করে পানি প্রবাহকে গতিশীল ও নিয়ন্ত্রণাধীন রেখেছে। অনেক জায়গায় নদীকে ড্রেজিং করে গতিশীলতা বাড়ানো হয়েছে, আবার অনেক জায়গায় অতিরিক্ত পানির প্রবাহ যাতে বন্যার সৃষ্টি না করে সেজন্য উইন্ডমিল ও শক্তিশালী পাম্প স্থাপন এবং বিদ্যমান নদীর পাশে আরেকটি নদী খনন করে পানি সংরক্ষণ ও পানি প্রবাহের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
ইউপিডিয়া ডট কম নেদারল্যান্ড গাইডে নেদারল্যান্ডসের সৌন্দর্য্যের বর্ননা দেয়া হয়েছে এভাবে- দেশেটির যে শহর বা গ্রামে যান না কেন, সেখানে প্রবহমান নদী, শাখানদী, খাল, জলাধার, হৃদ বিদ্যমান। এগুলোর পানি এমন টলমলে, স্বচ্ছ এবং বিশুদ্ধ যে আপনার মনে হবে নেমে একটু গোসল করে নিই। প্রায় নদীতে, জলাধারে এবং হৃদে দেখতে পাবেন হাঁস, ডাহুক, পানকৌড়ি এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাস, কেউ এদের বিরক্ত করে না। মানুষ এবং পাখির এ এক অনন্য সহঅবস্থান।
শিল্পোন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও নদী, খাল বা জলাধারের দূষিত পানি মেলে না। শিল্প-কারখানা, গৃহস্থালীর তরল বর্জ্য নদী-নালা বা খালে-বিলে না ফেলে পাইপের মাধ্যমে শোধনাগারে নিয়ে যায়। পরিশোধনের পর নদী বা সাগরে দেয়া হয়। ১৯৫৩ সালে প্রলয়ংকরী বন্যার পর নেদারল্যন্ডস সরকার যে দীর্ঘমেয়াদী ডেল্টা প্ল্যান গ্রহণ করে তা দীর্ঘ ৫০ বছরে এসে একটি শক্তিশালী পানি ব্যবস্থাপনা দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যে কারণে নেদারল্যান্ডস আজ সারা বিশ্বে বন্যাপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত নয়, তারা বন্যাকে জয় করে পানির অমিত শক্তিকে অর্থনীতির উন্নয়নে, সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে কাজে লাগিয়েছে।
নদী ও সাগরকে শাসন করে পানির সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে নেদারল্যন্ডসবাসী, প্রকৃতি এবং পরিবেশকে পরিপূরক হিসাবে ধারণ করে রয়েছেন। সারাদিন বৃষ্টি হলেও সেখানে রাস্তা-ঘাটে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় না। লোকজন জনদুর্ভোগে পড়ে না। নেতৃত্বের সুচিন্তিত কর্মযজ্ঞ, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, কারিগরি দক্ষতা, বাস্তবায়ন সক্ষমতা, সর্বোপরি সততা, নিষ্ঠা, ইস্পাত কঠিন সংকল্প ও দেশপ্রেম নেদারল্যান্ডসকে আজ এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।
নেদারল্যান্ডস কথাটির আক্ষরিক অর্থ নিম্নভূমি। দেশটির নামকরণের যথার্থ কারণ যদি খুঁজতে চাই। তাহলে বলা যায় দেশটির মাত্র ৫০শতাংশ ভূখণ্ড সমুদ্রসমতলের ১ মিটারের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত। দেশটির বেশির ভাগ ভূখণ্ডই সমুদ্রসমতলের নিচে অবস্থিত, যা ভূমি পুনর্দখল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়েছে।
দেশটির বর্তমান আয়তনের প্রায় ১৭ শতাংশ সাগর ও হ্রদ থেকে পুনর্দখল করা হয়েছে, এই অঞ্চলগুলিকে স্থানীয় ওলন্দাজ ভাষায় পোল্ডার বলা হয়। নেদারল্যান্ডসের দক্ষিণ ও পূর্ব অঞ্চলগুলির বেশিরভাগই সমতল ভূমি নিয়ে গঠিত যেগুলিতে খুব স্বল্পসংখ্যক উঁচু পাহাড় পাওয়া যায়। দেশের উত্তর ও পশ্চিমভাগ নিম্নভূমি, যা মূলত রাইন, মোজ ও শেল্ডে নদী তিনটির সম্মিলিত ব-দ্বীপ। জুইডারজে-তে পোল্ডার আছে। উপকূলীয় এলাকাগুলি সম্পূর্ণ সাগরের নিচে এবং এগুলিকে চর ও কৃত্রিম সমুদ্রবাঁধের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হয়েছে।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop