মহানগর সময়পদ হারানোর আগে সময় সংবাদকে যা বললেন রাব্বানী

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
বিতর্ক ছাড়লই না ছাত্রলীগকে। অবশেষে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ হারালেন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির ক্ষুদ্ধ মন্তব্য যখন দলের ভেতরে বাইরে আলোচনার বিষয়বস্তু, তখন ফের অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৪৪৫ কোটি উন্নয়ন প্রকল্পে ৪-৬ শতাংশ চাঁদা দাবি করেছে ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতৃত্ব।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলছেন। তিনি বলেন, বরং শাখা ছাত্রলীগকে কেন চাঁদা দেয়া হলো এর জবাব চাওয়া হয়েছিলো ভিসির কাছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন শাখা ছাত্রলীগকে চাঁদা দিতে গেলেন এ ব্যাপারে জানতে চাইতে গেলেই ভিসি ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সময় সংবাদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন গোলাম রাব্বানী। তিনি মনে করেন, এই অভিযোগ উদ্দেশ্য প্রণোদিত, অতিরঞ্জিত এবং ভিন্নভাবে নেত্রীর কান ভারী করার জন্য প্ল্যান করে করা হয়েছে। জাবি ইস্যু নিয়ে ভিসির সাথে ছাত্রলীগের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে বলেও জানান তিনি। চাঁদা দাবির বির্তক ইস্যুকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।  
তিনি জানান, এতো বড় একটা সংগঠন চালাতে গিয়ে চলার পথে কিছু ক্রটি-বিচ্যুতি হতে পারে। অনেকে মনোক্ষুণ্ণ হতে পারে, অনেকের হয়তো মনমতো হয়নি কমিটি, এছাড়া অনেক কিছুই হতে পারে। কিন্তু যে অভিযোগগুলো এসেছে তা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এগুলো উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
নিচে সাক্ষাৎকারটি দর্শকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো...
সময় সংবাদ: আপনারা যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তা নিয়ে চ্যানেল আই একটা শিরোনাম করেছে ‘বাজারের গল্প’। এ বিষয়ে কি বলবেন?
গোলাম রাব্বানী: ম্যাম এটাও বলেছে, আমরা টাকা চাইনি আবার যে বিষয়টা আসছে, সেটা আমরা জানতাম না যে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে টাকা দেয়া হয়েছে। সে বিষয়টি জানতেই আমরা ম্যামের কাছে গিয়েছিলাম। কারণ জাকশু নির্বাচনকে নিয়ে এ রকম একটা প্ল্যান বা গেম হচ্ছে কিনা। তাই একদম ঘরোয়া পরিবেশে ম্যামের কাছে জানতে চাইলাম আসলের বিষয়টার সত্যতা কতটুকু? যখন আমরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করলাম তখন ম্যামও কিছুটা বিব্রত হয়েছেন। বিষয়টা মিথ্যা। পুরো বিষয়টাই আসলে ঘোলাটে। যেহেতু বিষয়টা উঠেছে সেহেতু বিষয়টার একটা সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। আদৌ কোনো দুর্নীতি হয়েছে কিনা। না হলেই তো ভালো। এটা আমাদের জন্যও যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ম্যামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 
সময় সংবাদ: জাহাঙ্গীরনগর ছাত্রলীগের ব্যাপারে কি বলবেন? তারা আপনাদের নাম উল্লেখ্য করে বিবৃতি দিলো। 
গোলাম রাব্বানী: নাম উল্লেখ করে ঠিক না, যেহেতু ওদের বাইরের একটা অংশ এসে আমাদের কাছে জানিয়েছে, তারা শুনেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে ম্যাম বা তার কনসার্ন তাদেরকে একটা অ্যামাউন্ট দিয়েছে। এ বিষয়টি কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই কমবেশি জানে। বিষয়টা মুখে মুখে এসেছে। আমরা এটা শুনেই ম্যামের কাছে গিয়েছিলাম। আসলে এটা ষড়যন্ত্রের একটা অংশ। সবকিছু মিলিয়ে একটা তদন্ত হলে ভালো হয়। এ নিয়ে গুজবের ডালপালা মেলছে যা ছাত্রলীগের জন্য বিব্রতকর। 
সময় সংবাদ: ছাত্রলীগের বিভিন্ন জেলায় এখানো কমিটি বাকি আছে, এটা নিয়ে কি চিন্তা করছেন?
গোলাম রব্বানী: আপনারা জানেন আমরা ২০২০ সালে মুজিব বর্ষ পালন করবো। এটা সারাদেশে ছাত্রলীগ ধুমধাম আকারে পালন করবে। সেখানে আমাদের নতুন মুখ জরুরি। অনেকগুলি কমিটি রয়েছে, বিগত কমিটি সম্ভাবত ৬৮টি রয়েছে। আমরা এসে ৩০টি মতো জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি করেছি। আমরা ১৫টি সম্মেলনের তারিখ দিয়েছি। এর মধ্যে দুই কমিটি অলরেডি ঘোষণা করা হয়েছে। আর চারটি সম্মেলনও হয়ে গেছে। আগস্টের কারণে কমিটি দেয়া হয়নি। আমরা আগামি তিন মাসের মধ্যে সাংগঠনিক কমিটির কার্যক্রম শুরু করবো।  
সময় সংবাদ: আপনি নিজে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতির মনে কষ্ট দিয়ে ছাত্রলীগ করতে চাই না, যদি নেত্রীর থেকে কোন সিদ্ধান্ত আসে তবে কি করবেন?
গোলাম রাব্বানী: নেত্রীর যেকোন সিদ্ধান্ত হাসি মুখে মেনে নেবো। কারণ তিনি আমাদের পরিপূর্ণ গঠনতন্ত্র। আমাদের যে সাবেক সভাপতি সোহাগ ভাই, তার বাড়ি কিন্ত মাদারীপুর, আমাদের একই আসনে বাড়ি। তো আমার নেত্রী আমাকে অনেক আস্থা রেখে দায়িত্ব দিয়েছেন। যে জায়গায় তো আমাদের কাছে এক্সপেকটেশন একটু বেশি থাকবে। আমি বলবো, সেই জায়গায় আমাদের আরো কেয়ারফুল থাকা উচিত ছিলো। তবে ভুল ক্রটি হয়তো হয়েছে, সেই জায়গা থেকে নেত্রী যে সিদ্ধান্ত নেন। আমরা হাসি মুখে মেনে নিবো। আমরা সবাই নেত্রীর মনে কষ্ট দিয়ে ছাত্রলীগ করতে চাই না।
সময় সংবাদ: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের একটি অডিও বের হয়েছে, সে বিষয়ে আপনি কি বলবেন?
গোলাম রাব্বানী: আমিও শুনেছি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের একটি অডিওতে কথা, সেখানে নাকি তিনি বলেছেন খরচ হয়েছে, তো আমার কথা হচ্ছে খরচটা কোথায় হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কমিটি করতে কোন খরচ লাগে না। আমরা আগে থেকেই বলেছি, কমিটি করতে কোন লেনদেনের বিষয় নাই। এই লেনদেনের বিষয়ে জিরো টলারেন্স। যদিও কেউ আমাদের বিষয়ে নাম ভাঙয়ে লেনদেন করে তার বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময় সংবাদ: ওই অডিওতে ৪০ লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগ আছে, এ বিষয়ে কি বলবেন?
গোলাম রাব্বানী: যদি অভিযোগ থাকে, তাহলে আপনারা তদন্ত করে বের করেন, কে দিয়েছে, কাকে দিয়েছে এটার সত্যতা বের করেন। আমার মনে হয়, যদি অভিযোগ থাকে তাহলে ক্লিয়ার করা উচিত।
সময় সংবাদ: গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের কাউন্সিল কতো বছর পরপর হয়?
গোলাম রাব্বানী: ২ বছর পরপর হয়, আমাদের সর্বশেষ কমিটি ছিল প্রায় তিন বছর। এর আগের কমিটি ছিল ৪ বছর। তার আগে কমিটি ছিল ৬ বছর। 
সময় সংবাদ: আপনি নেত্রীকে একটা খোলা চিঠি দিয়েছেন, সে ব্যপারে কিছু বলবেন কি?
গোলাম রাব্বানী: আমরা আসলে মানসিক টলমলে ছিলাম এমন কিছু নিয়ে। এমন এমন আজব অভিযোগ নিয়ে আমাদের সমালোচনা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এটা ষড়যন্ত্রের অংশ। যারা নেত্রীর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করছে, যে নেত্রী এই কমিটিকে সফলতা দিবে না। তার কিছু প্ল্যান করে ষড়যন্ত্র করছে। সে জন্য আমাদের একটু সতর্ক থাকতে হবে। তাই আমরা আমাদের জায়গা থেকে আমাদের বক্তব্য ক্লিয়ার করেছি। বঙ্গবন্ধু এটা শিখিয়ে গেছে, যে ষড়যন্ত্রের শিকার হলে অবশ্যই প্রতিবাদ করতে হবে। আমি মনে করি চুপ থাকলে হবে না।

আরও পড়ুন

ছাত্রলীগের নেতৃত্বে নাহিয়ান জয়-লেখক ভট্টাচার্যশোভন-রাব্বানীকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শোভন-রাব্বানী নিয়ে নো কমেন্টস!

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop